শিরোনাম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে নেই ছাত্র সংসদ

প্রিন্ট সংস্করণ॥শেকৃবি প্রতিনিধি  |  ১১:৩৮, মার্চ ১৫, ২০১৯

সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। ২০০১ সালে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইন্সটিটিউট শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদ বিধান যোগ করা হয়নি। ছাত্র সংসদ না থাকলেও প্রতি বছর এ খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এদিকে ছাত্র সংসদ না থাকায় ছাত্র নেতৃত্ব তৈরি ও গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আগে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইন্সটিটিউটর অধীন ১৯৯৯-২০০০ মেয়াদে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০০ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেও বাংলাদেশ কৃষি ইন্সটিটিউটকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। পরবর্তীতে দীর্ঘ ১৮ বছরে কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ছাত্র সংসদ না থাকলেও প্রতি বছর এ খাত বাবদ ফি দিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘সেন্ট্রাল ছাত্র ইউনিয়ন’ বাবদ প্রতি সেমিস্টারে ১০০ টাকা হারে বছরে ২০০ টাকা দিয়ে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮ সালের ডায়েরির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫৭০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। সে অনুযায়ী এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় আদায় করেছে ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এ হিসাবে ১৮ বছরে ফি জমা পড়েছে এক কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম-বেশি হওয়ায় এ টাকার পরিমাণ ১ কোটির কম হবে না বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা। ছাত্র ইউনিয়ন বাবদ জমাকৃত টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. মো. আনোয়ারুল হক বেগ বলেন, ছাত্র ইউনিয়নের কর্মকাণ্ড বন্ধ নাই, সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয় করে থাকে। বছরব্যাপী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন সংগঠন, খেলাধুলাসহ ছাত্র সংশ্লিষ্ট কাজে ছাত্র ইউনিয়নের টাকা ব্যয় করা হয়ে থাকে। টাকাটা যা ওঠে তার থেকে বেশি টাকা ছাত্রদের জন্য খরচ করা হয়। শেকৃবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. শফিকুর রহমান নোবেল বলেন, ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম। তবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন যাতে লোক দেখানো নির্বাচন না হয়। বর্তমানে আমাদের ক্যাম্পাসে বিচরণ করতে দেওয়া হয় না। তাই সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করতে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।শেকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ জরুরি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদ নেই, এজন্য আইন পাস করাতে হবে। আমরা অনতিবিলম্বে ছাত্র সংসদ চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইন্সটিটিউট (বিএআই) যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় তখন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ বন্ধ ছিল। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিকে কোন গঠনতন্ত্র তৈরি করা হয়নি। এখন ছাত্র সংসদের আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। আমাদের ক্যাম্পাসেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে। ইতোমধ্যে আমি রেজিস্ট্রারকে বলেছি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠনতন্ত্র সংগ্রহ করার জন্য। গঠনতন্ত্র গঠন করার পর সিন্ডিকেটে পাস করাতে হবে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত