শিরোনাম

আন্দােলন অব্যাহত, প্রশাসন অনড়

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০১:১৬, মার্চ ১৫, ২০১৯

কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আমরণ অনশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবিটি গতকাল তোলা হ এম খোকন সিকদার দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে মোট ২৫টি পদের মধ্যে ২৩টি পদেই জয়লাভ করে সরকার সমর্থক ছাত্রলীগের প্যানেল। তবে ছাত্রলীগের ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে হারিয়ে দিয়ে ভিপি পদে নির্বাচিত হন কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। ভিপি পদে নুর জয়লাভ করলেও বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরে নতুন করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। শুধু নুর নয়, একই দাবিতে রয়েছে অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীরা। তবে বিষয়টি মানতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে- এই নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী যথাসময়েই নবনির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ শেষ করা হবে। জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনঃতফসিলের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশনের গতকাল ছিলো তৃতীয় দিনে। একই ধরনের দাবিতে রোকেয়া হলের ফটকে অনশনে বসেছেন পাঁচ শিক্ষার্থী। তারা রোকেয়া হল সংসদের পুনর্নির্বাচন চান। অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের দুটি দলই বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ডাকসু নির্বাচনের ভোট বর্জন করা প্যানেলগুলো। তবে সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সবার অক্লান্ত পরিশ্রমে যে নির্বাচন হয়েছে, তার ফলাফলকে ‘অশ্রদ্ধা দেখানোর’ এখতিয়ার তার নেই। নিয়ম মেনেই নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ কাজ শেষ করা হবে। নতুন করে ভোটের এই দাবিতে গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন শুরু করেন চার শিক্ষার্থী। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও দুজন। তাদের একজন গত বুধবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার জায়গায় আরও দুজন পরে অনশনে যোগ দেন। অনশনরত রাফিয়া তামান্না বলেন, আমাদের শরীরে যতক্ষণ শক্তি আছে ততক্ষণ অনশন চলবে। আমাদের মতো আমরা অনশন চালাব। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি। এমনকি হাসপাতালে অনিন্দ্যকে কেউ দেখতেও যায়নি বলে তিনি এ সময় দাবি করেন। অনশনরতরা হলেন- ভূতত্ত্ব বিভাগের আল মাহমুদ ত্বাহা, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শোয়েব মাহমুদ, পপুলেশন সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের মাঈন উদ্দীন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তাওহীদ তানজিম এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রাফিয়া তামান্না।
এছাড়া অনশনের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের অনিন্দ্য মণ্ডলকে গত বুধবার হাসপাতালে নেয়া হয়। তাওহীদ স্বতন্ত্র জোটের প্যানেল থেকে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক পদে এবং অনিন্দ্য, শোয়েব ও মাঈন উদ্দিন হল সংসদের বিভিন্ন পদে প্রার্থী ছিলেন। তাদের সঙ্গে গত বুধবার নতুন যোগ দেয়া দুজন হলেন ডাকসু নির্বাচনে বামজোটের আন্তর্জাতিক সম্পাদক প্রার্থী মীর আরাফাত মানব এবং সমাজসেবা সম্পাদক পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল ইসলাম। পুনর্নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পাশাপাশি ১১ মার্চের ভোটে দায়িত্বপালনকারী সবাইকে সরিয়ে দেয়ার দাবি তুলেছেন অনশনকারীরা। এদিকে রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন ও হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে পাঁচ শিক্ষার্থী গত বুধবার রাত ৯টার দিকে রোকেয়া হলের ফটকে অনশনে বসেন। এই পাঁচজন হলেন ইসলামিক স্টাডিজের রাফিয়া সুলতানা, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সায়েদা আফরিন, একই বিভাগের জয়ন্তী রেজা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রবণা শফিক দীপ্তি ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রমি খিশা। তাদের মধ্যে রাফিয়া রোকেয়া হল সংসদে ভিপি পদে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী ছিলেন। দীপ্তি স্বতন্ত্র জোট থেকে ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। ছাত্র ফেডারেশনের সায়েদা হল সংসদের এজিএস এবং প্রমি খিশা সদস্য পদে নির্বাচন করেন। ভোটের দিন রোকেয়া হলে প্রাধ্যক্ষের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে সাত প্রার্থীসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে অনশনকারীদের চার দফার মধ্যে।অনশনরত প্রমি বলেন, প্রভোস্ট, প্রক্টর বা ভিসি কেউ আমাদের সাথে দেখা করেনি, কথা বলেনি। বরং প্রক্টরিয়াল টিমের বাহিনী এসে আমাদের উঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। ছাত্রলীগের কর্মীরা বারবার এসে আমাদের এখানে মহড়া দিয়ে যায়, রাতের বেলা অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন আচরণ করছে যেন আমরা মরে গেলেও তাদের কিছু যায় আসে না। অনশনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কাল রাতে আমরা কেউ ঘুমাইনি। আমাদের হাউজ টিউটররা ছিলেন, প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা এসেছিলেন। তাদেরকে (অনশনকারী) আলোচনার জন্য আমরা ডেকেছিলাম, কিন্তু তারা আসেনি। নিজে কেন কথা বলতে যাননি - এমন প্রশ্নে অধ্যাপক জিনাত হুদা বলেন, তারা তো হলের বাইরে অবস্থান করছে। হলের ভেতরে হলে তাদের কাছে যাওয়ার কথা আসত। এরপর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর বেলা দেড়টার দিকে রোকেয়া হলের সামনে গিয়ে অনশনে থাকা ছাত্রীর দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, আমার একটি সংগঠন রয়েছে। তারা আমার সাথে দীর্ঘদিন কাজ করেছে, শ্রম দিয়েছে, সময় দিয়েছে। নির্বাচনে এত কারচুপির মধ্যেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমার পক্ষে কাজ করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি, তাদের মোটিভ কী, তারা কী চাচ্ছে সেটা বোঝার চেষ্টা করছি বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি নির্বাচিত ভিপি হিসাবে নির্বাচনে ‘অনিয়ম ও কারচুপির’ বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন। এর আগে চাকরির কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এই নেতা গতকাল দুপুরের দিকে নিজের প্যানেলের অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি রোকেয়া হলের ফটকে গিয়ে সেখানে অনশনরত পাঁচ শিক্ষার্থীর দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত