শিরোনাম

হিলি স্থলবন্দর দুই মাসের উদ্বৃত্তের বেশি ঘাটতি এক মাসেই

প্রিন্ট সংস্করণ॥হিলি প্রতিনিধি  |  ০২:৩৬, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে চলতি অর্থবছর (২০১৮-১৯) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আহরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও পরে আর সে ধারাবাহিকতা থাকেনি। প্রথমাধের্র (জুলাই-ডিসেম্বর) ছয় মাসের মধ্যে চার মাসেই বন্দরে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি ছিল নির্বাচনের মাস ডিসেম্বরে, ৩৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ২৮ কোটি ৫ লাখ টাকা ঘাটতির মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে অর্থবছরের প্রথমার্ধ। জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে হিলি স্থলবন্দর থেকে ১২২ কোটি ৮২ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৯৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ফলে রাজস্ব ঘাটতি রয়ে গেছে ২৮ কোটি ৫ লাখ টাকা। হিলি স্থল শুল্কস্টেশন সূত্র অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে কেবল দুই মাসে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। প্রথম মাস জুলাইয়ে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা। বিপরীতে আহরণ হয় ২৫ কোটি ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত থাকে ২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আসে ১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকার। উদ্বৃত্তের পরিমাণ ১০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। দুই মাসে ৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকার বেশি উদ্বৃত্ত; তার পরও প্রথমার্ধ শেষে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণে ঘাটতি থেকে গেছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ ডিসেম্বরের ৩৯ কোটি ৫১ লাখ টাকার ঘাটতি, যা উল্লিখিত দুই মাসের উদ্বৃত্তের চেয়েও বেশি। গত মাসে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বিপরীতে আহরণ হয়েছে মাত্র ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এছাড়া আগস্টে ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৫ কোটি ২১ লাখ, অক্টোবরে ১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার বিপরীতে ১০ কোটি ও নভেম্বরে ২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বিপরীতে ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকার রাজস্ব আহরণ হয়। এ তিন মাসে ঘাটতির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১ কোটি ৮৯ লাখ, ৬ কোটি ১৬ লাখ ও ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৬ হাজার টাকা। হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ জানান, বেশকিছু জটিলতার কারণে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না। বিশেষ করে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এ জটিলতা একটু বেশি। স্থানীয় কাস্টমস কর্মকর্তারা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি করতে ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করেন। কাস্টমসের দ্বিমুখী আচরণের কারণে বন্দর দিয়ে বেশকিছু পণ্যের আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে কিছু বৈষম্য রয়েছে। এগুলো দূর করা হলে আমদানি-রফতানির পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের পরিধি বাড়বে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি অনেক কমেছে। এছাড়া ভারতে ফারাক্কা ব্রিজে সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় এর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে মাসখানেক ধরে পাথর আমদানিতে ধস নেমেছে। এসব কারণে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না বলে তিনি জানান। হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, হিলি স্থলবন্দর মূলত আমদানি নির্ভর বন্দর হিসেবে পরিচিত। বন্দর দিয়ে আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমে যাওয়ায় রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত