শিরোনাম

নওগাঁর চালের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা

এম আর রকি, নওগাঁ  |  ১৯:০৪, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

মৌসুমের শুরুতে সাড়ে ৫শ থেকে ৬শ টাকা মণ দরে ধান কিনে নওগাঁর ব্যবসায়ীরা। বেশির ভাগ কৃষক যখন তাদের গোলার ধান বিক্রি শেষ করেছে সে সময় হটাৎ চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে নওগাঁর ব্যবসায়ীরা। ধারদেনা করে অক্লান্ত পরিশ্রমের সুফল বরাবরাই ব্যবসায়ীদের পকেটে যাচ্ছে অভিযোগ কৃষকদের। গত এক সপ্তাহে নওগাঁর চালের আড়ৎগুলোতে প্রকার ভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা চালের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। ধানের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে চালের দাম বাড়ানোকে ব্যবসায়ীদের কারসাজি মনে করছে বিশিষ্টজনরা।

আর জেলা প্রশাসন বলছে চালের দাম বাড়ানো যৌক্তিক আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে নওগাঁর হাটগুলোতে ব্যবসায়ীরা ধান কিনেছে সাড়ে ৫শ থেকে ৬শ টাকা মণ দরে। সরকারের শহজ শর্তে বিপুল পরিমাণ ঋণের টাকায় শত শত মণ ধান কিনে গুদামজাত করে এখানকার ব্যবসায়ীরা। কৃষক ধার দেনার মাধ্যমে কঠোর পরিশ্রম করে উৎপাদিত ধান হাটে নিয়ে নায্য দাম না পাওয়ায় আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলাতে কপালের ভাঁজ বড় হয়ে উঠে।

তার ওপর আবার হটাৎ চালের দাম বৃদ্ধির এমন খবর এসব কৃষককে আরো বেশি চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। নওগাঁর আড়ৎগুলোতে গত এক সপ্তাহে মণ প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা চালের দাম বাড়িয়েছে মিলাররা। কৃষকের অভিযোগ তাদর গোলা থেকে ৮০ ভাগ ধান ব্যবসায়ীরা স্বল্প মূল্যে কিনে এখন ইচ্ছামতো বাড়িয়েছে চালের দাম। এতে ব্যবসায়ীর পকেট ভারী হলেও কৃষকের অবস্থা দিনে দিনে আরো নাজুক হয়ে পড়ছে। কৃষকরা বলেন আমরা লাভ পাইনা। ধারদেনা করে ফসল ফলানোর পর হাটে নিয়ে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এখন সে ধান মিলাররা বেশি দামে বিক্রি করছে। আমাদের কাছে আর ধান নাই।

সরকারের নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ছোট-বড় ১ হাজার চাতাল ও রাইস মিলে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার কারবার করে ব্যবসায়ীরা। মৌসুম এলে এসব ব্যবসায়ীরা এক জোট হয়ে কৃষককে ঠকিয়ে নিজেদের মুনাফার পাহাড় গড়ে তোলা মূল কাজ বলে দাবি বিশিষ্টজনদের।

অ্যাডভোকেট মহসীন আলী, সভাপতি বাংলাদেশ কৃষক সমিতি নওগাঁ শাখা তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের টাকা নিয়ে ধান কিনে সময়মতো চালের মজুদ গড়ে তোলে ইচ্ছামতো দাম বাড়ায়। তারা ঋণের টাকায় নিজেদের ফুলে ফেপে তোলে আর কৃষক বঞ্চিত হয়। বিষয়টি সরকারের নজরদারির করা দরকার। নওগাঁর আড়ৎগুলোতে মোটা চালের দাম আনুপাতিক হারে বাড়লেও চিকন চালের দাম বেড়েছে মণ প্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা।

দাম বৃদ্ধিও কারণ কে খুচরো ব্যবসায়ীরা আড়তদার দুষছেন। মধ্যবাজার খুচরা চাল ব্যবসায়ী সুমিতি সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার জানায় চালের দাম বৃদ্ধি হয়েছে কেজি প্রতি দু-তিন টাকা। বড় আড়ৎগুলো আমাদের বলছে ধানের দাম বেশি তাই চালের দাম কিছুটা বেড়েছে এমন অজুহাত ব্যবহার করছে তারা। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে গত আমন মৌমুমে ২ লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমি থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন ধান থেকে সাড়ে ৭ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত