শিরোনাম

বরবটি ও করলার দাম বেড়েছে

প্রিন্ট সংস্করণ॥এনায়েত উল্লাহ  |  ০১:২৫, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্র দ্রব্যের অন্যতম হচ্ছে সবজি। শীত এলেই বাজারে দেখা মেলে বাহারি রকমের সবজি। দামও থাকে ক্রেতাদের আয়ত্তে। বর্তমানে কয়েকটি সবজির দাম কম থাকলেও পছন্দের কয়েকটির দাম আকাশছোঁয়া। গত সপ্তাহে যে বরবটি বিক্রি হয়েছে ৩০-৩৫ টাকায়, এ সপ্তাহে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে। পাইকারি বাজারেও ৩২০-৩৫০ টাকা পাল্লা (৫ কেজি)। এর সাথে তালমিলিয়ে দাম বেড়েছে করলার। বাজার ও মানভেদে করলার দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি দরের করলা এ সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি। পাইকারি বাজারেও বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা পাল্লা (৫ কেজি)। এছাড়াও চড়া দামের তালিকায় রয়েছে পছন্দের সবজি লাউ। প্রতিটি লাউ খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা করে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর যাত্রবাড়ী, শ্যামবাজার, শান্তিনগর, মালিবাগসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা যায়, কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজির দাম অপরিবর্তিত। নতুন সবজিতে বাজার ভরপুর থাকলেও অস্বস্তি প্রকাশ করেন সাধারণ ক্রেতারা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের তুলনায় ৫ টাকা কমে ২৫ টাকা কেজিতে। তবে ৫ কেজির বেশি কিনলে কেজিতে মিলছে আরও ২ টাকা ছাড়। মিষ্টি কুমড়া কেজি ৩০ টাকা, ছোট পিস ৪৫-৬০ টাকায়। কল্যাণপুর নতুন বাজারে আম্বিয়া নামের নারী ক্রেতা বলেন, বাজারে কিছু নতুন সবজি এসেছে অনেকদিন হয়েছে। তবে দাম এখনো কমছে না। এর মধ্যে আবার কিছু সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। দাম যদি বেশি থাকে তাহলে কীভাবে খাব? আলু, চিচিঙ্গা, ধুন্দলের দাম বেশি। তাই কম কম করে কিনতে হচ্ছে। হাসনাবাদের বিল্লাল মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে করলা ও বরবটির দাম অনেক বেশি। দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে এ ব্যবসায়ী জানান, বাজারে সবজি কম এসেছে তাই দাম একটু বেশি। তবে এটা স্থায়ী না। সবজির আমদানি বেশি হলে তা কমে আসবে। অন্য সবজির দাম কম রয়েছে বলেও তিনি জানান। বাজারে এসেছে হরেক রকম শিম। তবে সিলেট থেকে নিয়ে আসা বড় আকারের শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে। অন্য শিম ২০-৬০ টাকা। এর মধ্যে বিচিসহ শিম ৪০-৬০ টাকা আর বিচি ছাড়াটা ২০-৩০ টাকা কেজিতে। গত সপ্তাহের ন্যায় মানভেদে বেগুনের কেজি ৩০-৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০-৪০ টাকা। কাঁচা টমেটোর কমলেও পাকা টমেটোর দামে বেশি, ৩০ টাকার নিচে মিলছে না। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৫ টাকা কমেছে পাকা টমেটোতে।সবজি বিক্রেতা ইলিয়াস আহমেদ বলেন, আমরা বেশি দামে কিনেছি তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে দাম কিছুটা কমতে পারে। বাজারে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা পিস, বাধাকপি ১০-২৫ টাকা, কাঁচা কলার হালি ২৫-৩০ টাকা। এর বাইরে কাঁচাপেপে ২০, গাজর ১০টাকা কমে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খিরা ২৫ টাকা কেজিতে। শ্যামবাজারে লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৪০-৬০ টাকায়। মুলা ১৫-২০ টাকা কেজিতে। পালংশাক বিক্রি হচ্ছে ৫-১৫ টাকা আঁটি। লাল ও সবুজশাক বিক্রি হচ্ছে ৫-১০ টাকা আঁটি। লাউশাক পাওয়া যাচ্ছে ১৫-২০ টাকায়। এছাড়া পেঁয়াজসহ বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আগের সপ্তাহের মতো পুরান দেশি পেঁয়াজের কেজি ২৫ টাকা এবং নতুন দেশি পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শফিক মিয়া বলেন, বাজারে এখন পেঁয়াজ পর্যাপ্ত। পুরো মৌসুমে ৪০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এখন ক্রেতাদের নাগালের ভিতরেই রয়েছে পেঁয়াজের দাম। বিক্রিও হচ্ছে বেশি। এছাড়া ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা কেজি। এছাড়াও ২ কেজি ওজনের বড় রুই মাছ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ১৯০-২২০ টাকা কেজি। পাইকারি বাজারে মাঝারি রুই বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা কেজিতে। পুঁটি মাছ বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজিতে। পাইকারি বাজারে ইন্ডিয়ান বোয়াল মাছ বিক্রি হয়েছে ৩৫০ টাকা কেজিতে। গলদা চিংড়ি বিক্রি হয়েছে ৫২০ টাকা কেজিতে। বাজারে কিছু সবজির দাম রয়েছে এখনো আকাশছোঁয়া। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায় সাধারণ মানুষ। নিম্ন আয়ের মানুষরা বলেন, আমরা ঢাকা শহরে চাকরি করে যা আয় করি তার অধিকাংশই চলে যায় থাকা খাওয়ায়। যখন জিনিরপত্রে দাম বাড়ে তখন আমাদের চলতে হয় দেনা করে। সুতরাং তারা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির ব্যপারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যদিকে গত সপ্তাহে দাম বেড়ে ছিল চালের। সে দামও খুব দ্রুত কমবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান। নতুন সরকার বাজারের উপর মনিটরিং বাড়িয়ে সবকিছু সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ভিতরে নিয়ে আসবে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত