শিরোনাম

পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য দূর করতে সময় চেয়েছে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ২০:২০, জানুয়ারি ১০, ২০১৯

পোশাক শ্রমিকদের বেতন কাঠামোর তিনটি গ্রেডে যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতে কিছুদিনের সময় চেয়েছে মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে কাজে যোগদানের জন্য কমিটির পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে। আগামী রোববার (১৩ জানুয়ারি) এ সমস্যা সমাধানে আবারও বৈঠকে বসবে এই কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন কাঠামোর গ্রেড সমন্বয় করা সংক্রান্ত কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এ সব তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষ, এফবিসিসিআই-এর সভাপতি শফিউল ইসলাম, বিজিএমইএ-এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য নিরসনে পর্যালোচনা কমিটির প্রথম বৈঠকেই মজুরি কাঠামোর মূলসমস্যা চিহিৃত করা হয়েছে। মজুরি কাঠামোর সাতটা গ্রেডের মধ্যে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে মূলত সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। মালিক-শ্রমিক ও সরকার- ক্রিপক্ষীয় বৈঠকে এ সমস্যা শনাক্ত করা হয়।

বৈঠক শেষে আফরোজা খান বলেন, ‘যেহেতু সমস্যা শনাক্ত হয়েছে সেহেতু সমস্যা সমাধান করা যাবে। আগামী রোববার (১৩ জানুয়ারি) কমিটির বৈঠক আবার বসবে। ওই বৈঠকে চিহিৃত তিনটি গ্রেডের বিষয় সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’ কমিটিকে বিষয়টি সমাধানে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের আগেই বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে। সরকার যে শ্রমিকবান্ধব তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের কারও বেতনই কমবে না।

মজুরি কাঠামোর কারণে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে তা নয়, এর পেছনে অন্য ঘটনা রয়েছে যার একটি উদাহরণ উল্লেখ করে আফরোজা খান বলেন, ‘মজুরি কাঠামোর চাইতে বেশি বেতন দেওয়া হয় এমন একটি কারখানা ভাঙচুর করা হয়েছে।’ অর্থনীতির মূলভিত্তি হচ্ছে গার্মেন্টস খাত। এ খাতকে ধ্বংস করার জন্য একটি চক্র পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। এ কারণে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধু বেতনই নয়, শ্রমিকরা যেকোনও সমস্যায় পড়লে একটি হটলাইন নম্বর চালু করবে শ্রম অধিদফতর। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা সেই নম্বরে ফোন দিয়ে শ্রমিকরা তাদের সমস্যা জানাতে পারবেন। সমস্যার যাতে তাৎক্ষণিক সমাধান হয় তার ব্যবস্থাও থাকবে। নম্বরটি শিল্প অঞ্চলে মাইকিং করে জানানো হবে।’

শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আফরোজা খান বলেন, প্লিজ সরকারের প্রতি আস্থা রাখুন। বর্তমান সরকার শ্রমিক-বান্ধব সরকার। যেসব সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে সেটি সমাধানে ন্যূনতম সময় প্রয়োজন। শ্রমিকদের কাছ থেকে সেই সময় চাচ্ছি। আমাদের কয়েকটা দিন সময় দেন। সুশৃঙ্খলাভাবে কাজে ফিরে যান। এটি নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করবেন না। সরকার খুব গভীরভাবে পর্যাবেক্ষণ করছে। একমাস সময়ের আগেই সমস্যার সমাধান করবো।

আফরোজা খান আরও জানান, অর্থনীতির মূলভিত্তি গার্মেন্টস সেক্টর। এই সেক্টরকে কোনোক্রমেই ধ্বংসের মুখে ফেলে দিতে চাই না। এটা আমাদের সম্পদ, আমাদের অর্থনীতির মূলভিত্তি। আমরা সবাই একযোগে কাজ করতে চাই। উত্তরায় গার্মেন্টস অঞ্চলে কাঠামোর চেয়ে বেশি বেতন প্রদান করা হয়েছে, সেখানে কোনো সমস্যা নেই। তারপরও সেখানে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, বেতন কাঠামোর ইস্যু ছাড়াও এই সেক্টরে অন্য কোনো উদ্দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত