শিরোনাম

আরও ১০ হাজার কোটি টাকা বাড়লো খেলাপি ঋণ

প্রিন্ট সংস্করণ॥অর্থনৈতিক প্রতিবেদক  |  ০০:৫৯, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

ব্যাংকিং খাতের একটি বিষফোড়ার নাম খেলাপি ঋণ। বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও কমানো যাচ্ছে না খেলাপি ঋণের প্রবণতা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ হিসাব অনুযায়ী গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাগজে-কলমেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৯৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পূর্বের প্রান্তিকের তুলনায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ। মূল হিসাব থেকে আলাদা করা (অবলোপন) ঋণ, বিশেষ বিবেচনায় নিয়মিত করা ঋণসহ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দুই থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকা হবে। এভাবে খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকলে ব্যাংকিং খাত ভেঙে পড়বে। এরই মধ্যে খেলাপির কারণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বিদেশেও ব্যাংকিং খাত প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৯ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। একে খুবই উদ্বেগজনক বলেছেন অর্থনীতিবিদরা। তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ১ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৮ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে, মোট ঋণের প্রায় ২৩ শতাংশ। একই সময়ে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৬ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৩ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে, যা মোট ঋণের ৬ দশমিক ৫৮ ভাগ। বিদেশি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে, যা বিতরণ করা ঋণের ৭ ভাগ। বিশেষায়িত দুই ব্যাংক ২৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। তার ৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে, যা বিতরণকৃত ঋণের ২১ ভাগ। সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বাড়ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে। ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বছরের শুরুর দিক থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকে। ডিসেম্বরে এসে এর পরিমাণ কমে যায়। তখন ব্যাংকগুলো নিজ নিজ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য খেলাপি ঋণ আদায় বা নবায়ন করে এর পরিমাণ কমাতে থাকে। এবার নির্বাচনের কারণে ব্যবসাবাণিজ্যে এক ধরনের স্থবিরতা চলছে। এ কারণে ঋণ আদায় হয়েছে খুবই কম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত