শিরোনাম

সোডিয়াম সালফেটের আমদানি নিষিদ্ধের দাবি

প্রিন্ট সংস্করণ॥অর্থনৈতিক প্রতিবেদক  |  ০১:২১, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

দেশীয় লবণ শিল্পকে বাঁচাতে সোডিয়াম সালফেটের আমদানি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতি। কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে সোডিয়াম সালফেটে শতভাগ আমদানি শুল্ক আরোপের দাবি তাদের। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় বাজারে ছড়িয়ে দেয়া সোডিয়াম সালফেট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়াও ঘাটতি বিবেচনায় আগের মত মিলমালিকদের মাধ্যমে সমহারে লবণ আমদানির অনুমতি দেয়ার দাবিও তাদের।গতকাল বুধবার রাজধানীর হোটেল রয়েল প্যালেসে আয়োজিত ‘ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক বিষাক্ত ‘সোডিয়াম সালফেটে বাজার সয়লাব: ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দেশীয় লবণ শিল্প’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নরুল কবির। এতে সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, সোডিয়াম সালফেটের নামে ফিনিশড লবণ আমদানি, বৈষম্যমূলক শুল্কনীতি এবং বিসিকের তথ্য বিভ্রাটের কারণে দেশীয় লবণ শিল্প ও চাষীরা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এরই মধ্যে তিন শতাধিক মিল বন্ধ হয়ে প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হওয়ার পথে। আর সোডিয়াম সালফেট খাবার লবণ হিসেবে ব্যবহার করায় পুরোজাতি মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। নরুল কবির বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হাজার হাজার টন সোডিয়াম সালফেট দেশে আনা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নরুল কবির বলেন, অসাধু চক্র কারা তা আমরা জানি না। তবে এটা বন্ধ করতেই হবে। নতুবা লবণ হিসেবে সোডিয়াম সালফেট খেলে মানুষের লিভার, ক্যান্সার ও হার্টের সমস্যা হতে পারে। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, একটি অসাধু শ্রেনী সোডিয়াম সালফেট প্যাকেটজাত করে লবণ হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা নামী দামী ব্র্যান্ডকেও বেছে নিচ্ছে। এসিআই, মোল্লা সল্ট ও কনফিডেন্সের মতো ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার কিংবা তাদের প্যাকেটের প্রায় অনুরুপ নকল প্যাকেটে সোডিয়াম সালফেট বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন জায়গায় লবণের নামে সোডিয়াম সালফেট ছড়িয়ে পড়ছে। ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলোত তা প্রকট। কারওয়ানবাজারসহ রাজধানীর সবগুলো বড় বাজার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লার কিছু কিছু দোকানে তা ছড়িয়ে গেছে। লিখিত বক্তব্যে নুরুল কবির আরও বলেন, চাহিদা বাড়লেও উৎপাদনের জমি কমায় প্রতিবছর দেশে লবণের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে, শিল্পকারখানায় লবণের চাহিদা বাড়ছে। বছরে ২০ লাখ টনের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় সাড়ে ১৪ লাখ টন। ঘাটতি থাকলেও এ বছর লবণ আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়নি। ফলে সোডিয়াম সালফেট সরাসরি প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করছে অসাধুচক্র।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত