শিরোনাম

গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৮,০০০ টাকা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক  |  ১৭:৪৬, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮

গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। আগামী ডিসেম্বর থেকেই তা কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনত মজুরি হবে ৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে বেসিক ৪ হাজার ১০০ টাকা; বাড়ি ভাড়া ২ হাজার ৫০ টাকা এবং অন্যান্য ১ হাজার ৮৫০।আগামী ডিসেম্বরে প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নতুন করে নির্ধারণের জন্য একটি মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০% বৃদ্ধিতে অর্থাৎ ৬ হাজার ৩৬০ টাকা দিতে রাজি হয় মালিকপক্ষ।

সর্বশেষ মজুরি বোর্ডের তৃতীয় সভায় গত ১৬ জুলাই ২০১৮ এ প্রস্তাব করেন গার্মেন্টস মালিকদের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। এদিকে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে যখন ব্যবধান বিস্তর তখন বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার ভূঁইয়া ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ২০ টাকা করার প্রস্তাব দেন।

বর্তমানে একজন নতুন শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা। তবে শামসুন্নাহার ভূইয়ার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে থাকা শ্রমিক সংগঠনগুলো। তাদের দাবি মাসিক ন্যূনতম বেতন ১৬,০০০ টাকা। ফলে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনের পর মজুরি বোর্ড ২০১৩ সালে পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫৩০০ টাকা ঘোষণা করে যেখানে দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি ৮০০০ টাকার। সর্বশেষ ২০১৩ সালে যে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা হয়েছিল ৫৩০০ টাকা; যাতে খাদ্য ভাতা হচ্ছে ৬৫০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ১২০০ টাকা, যাতায়ত ভাড়া ২৫০ টাকা, মেডিকেল ২০০ টাকা, বেসিক ৩০০০ টাকা।

‘ট্রেডিং ইকোনমিক্স’এর ২০১৮ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মার্কিন ডলারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন দেখানো হয়েছে ৬৩.২৬ ডলার। যেখানে কানাডার ২৬১৭ ডলার, ফ্রান্সের ১৮৩০ ডলার, জার্মানির ২৫৯১ ডলার, যুক্তরাজ্যের ২৬১৯ ডলার, যুক্তরাষ্ট্রের ১৭৪০ ডলার এবং জাপানের ১৮৭০ ডলার। আইএলও ১০০ ডলারের নিচে বেতন যেই যেই দেশের তার একটি তথ্য দিয়েছে যার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর সিএনএন একটা তথ্য প্রতিবেদনে দেখিয়েছিল আমেরিকাতে তৈরি একটা ডেনিম শার্টের মজুরি পড়ে ৭.৪৭ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬০০ টাকা।

অন্যদিকে বাংলাদেশে তৈরি শার্টটির মজুরি পড়ে দশমিক ২২ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৮ টাকা। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বাংলাদেশের মজুরি কাঠামোকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে ২০০৬ সালে দেখিয়েছিলেন বাংলাদেশে উৎপাদিত একটি গার্মেন্টস পণ্য ইউরোপে বা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০০ ডলার বিক্রি হলে কারখানার মালিক পান ১৫-২০ ডলার, উৎপাদিত রাষ্ট্র ২৫-৩০ ডলার এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠান ৫০-৬০ ডলার পেয়ে থাকে। উৎপাদনকারী শ্রমিকের ভাগে পড়ে মাত্র ১ ডলার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত