শিরোনাম

আগস্ট মাসে রপ্তানি কমেছে ১২ শতাংশ

প্রিন্ট সংস্করণ॥অর্থনৈতিক প্রতিবেদক  |  ০০:৫৩, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

নতুন অর্থ বছরের প্রথম মাসে রপ্তানি আয় বাড়লেও দ্বিতীয় মাসেই উল্টো চিত্র। এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে ১২ শতাংশ। গতকাল মঙ্গলবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
তথ্য মতে, আগের বছরের ধীর প্রবৃদ্ধির কারণে এ বছর রক্ষণশীল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৩৬৬৬ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য। আর চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৯০০ কোটি ডলার। ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই মাসের (জুলাই-আগস্ট) মাসে রপ্তানি আয়ের টার্গেট ছিল ৬৫৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। আয় হয়েছে ৬৭৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা থেকে আয় বেশি হয়েছে ৩.২৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৬৬২ কোটি ডলার। অর্থাৎ এ দুই মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৫১ শতাংশ। অথচ এ বছর শুধু জুলাই মাসে প্রবৃদ্ধি হয় ১৯.৮৮ শতাংশ। এর কারণ, আগস্টে রপ্তানি থেকে আয় হয় ৩২১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৭৪ শতাংশ কম। আগের বছর আগস্ট মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৩৬৪ কোটি ডলারের পণ্য। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক থেকে। গত দুই মাসে পোশাকখাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৭৩ কোটি ৫১ লাখ ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৮২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৯১ কোটি ২৮ লাখ ডলারের। যা আগের বছরের তুলনায় ১.৫৩ শতাংশ বেশি। আর ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৮২ কোটি ২২ লাখ মার্কিন ডলারের। যা আগের বছরের তুলনায় ৬.২৮ শতাংশ বেশি। এছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি কমেই চলেছে। গত দুই মাসে এ পণ্য বিক্রি করে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। যা আগের বছরের চেয়ে ২৬.২৬ শতাংশ কম। আর শুধু চামড়া রপ্তানির অবস্থা আরও করুণ। গত দুই মাসে আয় হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ ডলার। অথচ গত বছর এই সময়ে আয় হয়েছিল ৩ কোটি ৩২ লাখ ডলার। অর্থাৎ এ পণ্য থেকে আয় কমেছে ৩২.৪২ শতাংশ। এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, জুলাইয়ে অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি হওয়ার কারণ হলো- তার আগের মাসে ঈদের ছুটি থাকায় রপ্তানি কম হয়েছিল, যা জুলাইয়ের নিয়মিত রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে প্রায় ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। ঠিক একই কারণে আগস্টে রপ্তানি কমে গেছে। কারণ এ মাসের শেষ ১০-১২ দিন কারখানাগুলো বন্ধ ছিল কোরবানির ঈদের কারণে। চলতি মাস সেপ্টেম্বরের শুরুতেও কয়েকদিন কারখানা বন্ধ ছিল। অর্থাৎ অক্টোবরের রপ্তানি আয় দেখেই আসলে বোঝা যাবে কোন দিকে যাচ্ছি আমরা।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত