শিরোনাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলেই গ্যাসের নিশ্চয়তা: জ্বালানি উপদেষ্টা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক  |  ১৮:৪৯, আগস্ট ০৯, ২০১৮

বড় বড় শিল্প কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগকারিদের আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায় তাদের গ্যাসের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

জ্বালানি দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (০৯আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পেট্রো সেন্টারে জ্বালানি বিভাগ আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

তৌফিক ই ইলাহী বলেন, ‘এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি কখনো ওয়াদার বরখেলাপ করেন না। আমরা কথা দিয়েছিলাম সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবো। এ বছরের মধ্যে সারাদেশ বিদ্যুতের আওতায় আসবে।’

তিনি বলেন, আমরা যখন এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) বের হওয়ার পথে, তখন গবেষকদের বলতে শুনেছি। এলডিসি বের হলে নাকি সমস্যা হবে। আমি অবশ্য তাদের তথাকথিত গবেষক বলি। তারা সাধারণ বাঙালিদের গবেষণা করে জীবিকা চালায়। এরা চায় না সাধারণ জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন হোক।

এলডিসি বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এরপর মধ্যম ও উন্নত দেশে পরিণত হবো আমরা। তবে পশ্চিমাদের অনুকরণে হবে না। আমাদের দেশ এমন হবে, যেখানে সবাই শিক্ষা পাবে, মায়েদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

উপদেষ্টা বলেন, আমরা বিপুল জনগোষ্ঠির চাপের মধ্যে দেশের উন্নয়ন করছি। যা সারা বিশ্ববাসীর কাছে বিস্ময়কর। এখন আমাদের উচিত প্রকৌশল শিল্পের প্রতি জোর দেয়া। সরকার শিল্পকে উৎসাহিত করতে ১০০ ইপিজেড করছে। এর মধ্যে নতুন ১০টি ইপিজেড উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি শিল্প স্থাপনে বৈচিত্র্য এনে জ্বালানি সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস বাইরে আনতে পাইপ লাইন করতে জরিপ করা হচ্ছে। আর ছাতকের গ্যাস তোলার জন্য আইনি জটিলতা কাটানোর চেষ্টা করছে সরকার। একই সঙ্গে বছর শেষে এলএনজির সরবরাহে গ্যাসখাতে ভারসাম্য আসবে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, এ মাসের মধ্যে এলএনজি পাইপলাইনে আসবে। আগামী বছরে আমরা ১৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করতে পারবো।

জ্বালানি সচিব আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিম বলেন, শিল্পে জ্বালানি সরবরাহ আমাদের কাছে বেশি জরুরী। এজন্য আবাসিকের চেয়ে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। আবাসিকের সমস্যা সমাধানে এলপিজি ব্যবহার বাড়াতে হবে। এজন্য এলপিজির দাম কমানোর চিন্তা ভাবনা করছে সরকার। প্রয়োজনে বড় বড় সিলিন্ডার তৈরী করে তাতে এলপিজি সরবরাহ করা হবে। তেলের দাম সমন্বয়ে ফর্মুলা করা হবে। উদ্ভাবনী ক্ষমতা প্রয়োগ করে জ্বালানি ব্যবহারে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মোঃ ফয়েজউল্লাহ বলেন, আমরা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাগরে এবং স্থলভাগে নতুন উদ্যোমে কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য নতুন নতুন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি উৎপাদনের সঙ্গে সাশ্রয়ের প্রতি সাধারণ মানুষকে আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে।

বিপিসি চেয়ারম্যান আকরাম আল হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রতিদিন ৮ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ শেষ হলে দেশে পরিশোধন ক্ষমতা বাড়বে। এতে লোকসান কমে আসবে। এখন দেশে অপরিশোধিত ১১ লাখ ৭৪ হাজার এবং পরিশোধিত ৫৫ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন তেল আমদানি করা হচ্ছে। জ্বালানি তেল খালাস সহজ করার জন্য সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং টার্মিণাল (এসপিএম) করা হচ্ছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড, এএমএল এবং সিএফটি বিষয়ে ই-লার্নিং কোর্সের জন্য সম্প্রতি, এনরুট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ্যে সই করেন, আইপিডিসির এমডি ও সিইও মমিনুল ইসলাম এবং এনরুট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের এমডি ও সিইও আবু দাউদ খান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আইপিডিসির সিইও এন্ড সিএএমএলসিও শাহ ওয়ারেফ হোসাইন, এনরুট ইন্টারন্যাশনালের মার্কেটিং পরিচালক শওকত আলী মিয়া এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্ট জেনারেল ম্যানেজার হাবিবা ইয়াসমিন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত