শিরোনাম

এনএফসি লেনদেন চালুর অনুমতি দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রিন্ট সংস্করণ॥অর্থনৈতিক প্রতিবেদক  |  ০০:৫৬, জুলাই ১৪, ২০১৮

তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দেশে ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সেবার ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে; জনপ্রিয় হচ্ছে কার্ডভিত্তিক লেনদেন। তবে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ধারায় বর্তমান সময়ে গ্রাহকরা আর প্রথাগত ক্রেডিট কার্ডও পকেটে রাখতে চাইছেন না। এজন্য বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হচ্ছে নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তির ক্রেডিট কার্ড। কোনো বস্তুগত কার্ড ব্যবহার না করে শুধু মোবাইল বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে এনএফসি প্রযুক্তির ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে উন্নত বিশ্বে এ ধরনের ক্রেডিট কার্ড ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও বাংলাদেশে ধারণাটি এখনো সম্পূর্ণ নতুন। তবে কয়েকটি ব্যাংক এনএফসি প্রযুক্তির ক্রেডিট কার্ড বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ অবস্থায় এনএফসি প্রযুক্তিতে কন্টাক্টলেস পেমেন্ট সার্ভিসের মাধ্যমে কার্ডভিত্তিক লেনদেনের অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক লীলা রশিদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে এনএফসি কার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ঝুঁকি হ্রাস ও গ্রাহকসচেতনতা বাড়াতে বেশকিছু নির্দেশনাও সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কেবল ইএমভিকো মানদ-ে উত্তীর্ণ ক্রেডিট কার্ডে এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করা যাবে। এনএফসি প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত ক্রেডিট কার্ডভিত্তিক লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সীমার মধ্যে শুধু এনএফসি প্রযুক্তির কার্ডভিত্তিক লেনদেনের জন্য পারসোনাল আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (পিন) বা টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (টুএফএ) ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। তবে এসএমএস অ্যালার্ট সার্ভিসের মাধ্যমে এ ধরনের প্রতিটি লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহককে জানাতে হবে। প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে সব ধরনের মার্চেন্ট অবস্থানে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকার সীমা প্রযোজ্য হবে। সীমার বাইরে এ ধরনের কার্ডের মাধ্যমে সংঘঠিত সব লেনদেন কন্টাক্ট ও পিন বা টুএফএর ভিত্তিতে হবে। গ্রাহকের পূর্বানুমতি ছাড়া এনএফসি প্রযুক্তিনির্ভর কার্ডে লেনদেন কার্যকর হবে না উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গ্রাহক তার পছন্দ অনুযায়ী এনএফসির সীমার নিচের লেনদেনও কন্টাক্ট ও পিন বা টুএফএর মাধ্যমে করতে পারবেন। এ ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে ইস্যুয়িং ও অ্যাকোয়ারিংÑ উভয় ব্যাংকই গ্রাহককে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। অর্থাৎ গ্রাহককে কোনোভাবে এনএফসি প্রযুক্তিতে লেনদেনে বাধ্য করা যাবে না। এনএফসি প্রযুক্তিসংবলিত কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক প্রয়োজনে লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা ৩ হাজার টাকার নিচেও নির্ধারণ করতে পারবে। গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইস্যুকারী ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকসচেতনতার লক্ষ্যে এনএফসি প্রযুক্তির সব কার্ড, মার্চেন্ট পয়েন্ট ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনে দৃশ্যমান ‘কন্টাক্টলেস লোগো’ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবে, যেন সহজেই এনএফসি প্রযুক্তিযুক্ত কার্ড অন্য কার্ড পৃথক করা সম্ভব হয় এবং এ ধরনের কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন গ্রহণকারী মার্চেন্টকে সহজেই চিহ্নিত করা যায়। এনএফসি প্রযুক্তিযুক্ত কার্ডের বৈশিষ্ট্য, নিরাপদ ব্যবহার বিধি, লেনদেনের সীমা ও ঝুঁকি সম্পর্কে গ্রাহককে স্পষ্টভাবে অবহিত করতে হবে। হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া এনএফসি প্রযুক্তিযুক্ত কার্ড সম্পর্কে গ্রাহকের কাছ একাধিক উপায়ে (ওয়েবসাইট, ই-মেইল, এসএমএস, কলসেন্টার) তথ্য বা অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা রাখতে হবে ব্যাংকগুলোকে। গ্রাহকের কাছ যেকোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এটিএম ও কার্ড নট প্রেজেন্ট ট্রানজেকশন্সের (সিএনপি) যেকোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে উল্লিখিত শিথিলতা প্রযোজ্য হবে না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত