শিরোনাম

বেড়েছে মাছ মাংসের দাম পেঁয়াজের ঝাঁজ কমেছে

প্রিন্ট সংস্করণ॥আহমেদ ফেরদাউস খান  |  ০০:৫৯, মে ২৬, ২০১৮

রমজানে পেঁয়াজ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েই চলছে। কয়েকটি পণ্যের দাম কমলেও তা নি¤œ আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। যথাযথ বাজার মনিটরিং না থাকায় বেপরোয়া ব্যবসায়িরা। দুই সিটি কর্পোরেশনের দেয়া মূল্য তালিকা, তালিকাতেই আটকে আছে। ব্যবসায়িরা তাদের ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি করছে সকল পণ্য। তবে সকল পণ্যে আরো দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ক্রেতাদের। এদিকে আমদানি বেশি হওয়ায় রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে কমেছে পেঁয়াজের দাম। বেড়েছে মাছ মাংসের দাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী, রামপুরা ও কারওয়ান বাজারের আশপাশের এলাকা ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। পেঁয়াজের পাশাপাশি রোজার প্রথম সপ্তাহে দাম কমেছে শশা, গাজর, বেগুনসহ অধিকাংশ সবজির। তবে বয়লার মুরগির দাম কিছুটা চড়া। পেঁয়াজের দাম কমার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে দেশি এবং আমদানি করা উভয় পেঁয়াজের সরবরাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। পাশাপাশি ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খরচ কমেছে। ফলে দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমেছে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ বাজার ও মান ভেদে ৩৫-৪৫ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা (ভারতীয়) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে রাজধানীর বাজারগুলোতে দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিলো ৫০-৫৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিলো ৩৫-৩৮ টাকা কেজি। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া বলেন, বাজারে এখন পেঁয়াজের দাম অনেক কম। রোজার আগে যে পেঁয়াজের পাল্লা (৫ কেজি) ২০০ টাকা বিক্রি করেছি, এখন তা বিক্রি করছি ১৫০ টাকায়। এদিকে পেঁয়াজের পাশাপাশি রাজধানীর বাজারগুলোতে কমেছে সবজির দামও। রোজার শুরুতে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া শশা ও গাজর এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। দাম কমার তালিকায় রয়েছে বেগুন, চিচিংগা, করলা, পটল, ঢেঁড়স, বরবটিসহ অধিকাংশ সবজি।অন্যদিকে সবজির দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে শাকের দাম। লাল শাক, সবুজ ডাটা শাক, পাট শাক, কলমি শাক আগের সপ্তাহের মতো ১০-১৫ টাকা আটি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পুঁই শাক ও লাউ শাক বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা আটি। রোজার প্রথম দিকে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা বাড়লেও তা কমে এসেছে। গত সপ্তাহে ১৫-২০ টাকা পোয়ায় (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম এখন ১০-১৫ টাকা। তবে রমজানে অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়েছে ব্রয়লার, দেশি ও কক জাতের মুরগির। বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও। ছোট আকারের এক হালি কক মুরগি রমজানের আগে ৬০০ টাকার মধ্যে মিললেও এখন দাম অন্তত ৭৫০-৮০০ টাকা। দেশি জাতের একটি মুরগি রমজানের আগে ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন পড়ছে ২৪০-২৮০ টাকা। রমজানের আগে থেকেই ১৫-২০ টাকা বেশি দামে ১৫৫-১৬০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। গত সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি সকালবেলা ১৫৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। পরে সিটি করপোরেশনের বাজার অভিযানের পর প্রতিটি মুরগির দোকানে এই দাম লিখা হয় ১৪৫ টাকা করে। মহাখালী কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা আনিস মিয়া বলেন, মুরগির খাবারের দাম বাড়তি। এই কারণে প্রায় দেড় মাস ধরেই মুরগির দাম বেড়েছে। আর কমেনি। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, রমজানে দেশি গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪৫০, ভারতীয় গরুর মাংস ৪২০, মহিষের মাংস ৪২০, ভেড়ার মাংস ৬০০ এবং খাসির মাংস ৭২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গতকাল রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪৮০-৫০০, খাসির মাংস ৮০০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি বেশি দামে পশু কেনায় দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি রুই মাছ আগে কেজিপ্রতি ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি করলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৫০ টাকায়। বড় রুই আগে ২৮০-৩০০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হলেও এখন দাম ৩২০-৩৪০ টাকা। পাবদা ৩০০-৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে কেজি ৪০০-৪৫০, টেংরা ৩০০-৪০০ থেকে বেড়ে ৪৫০-৫০০, মলা ২৫০-৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি দেশি শিং ও মাগুর মাছ ৬০০-৬৫০ টাকা এবং চাষের মাছগুলো ৪০০-৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। যেসব সরপুঁটি মাছ ১৩০-১৫০ টাকা কেজি দরে আগে বিক্রি হয়েছে সেগুলো এখন ১৮০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১০০-১১০ টাকার তেলাপিয়া এখন কেজি ১২০-১৩০ এবং কই ১৮০-২২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত