শিরোনাম

ডেপুটেশনে চলছে আইডিআরএ ৮ বছরেও হয়নি নিজস্ব জনবল

প্রিন্ট সংস্করণ॥ গিয়াস উদ্দিন  |  ০০:৪২, মে ২৪, ২০১৮

প্রতিষ্ঠার ৮ বছরেও জনবল কাঠামো চূড়ান্ত করতে পারেনি বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। পুরনো কাঠামো আর জনবল সংকট নিয়ে কোনোরকমে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। জনবল ঘাটতির কারণে বিমাশিল্পে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও এ শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠন করা সংস্থাটি লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না। বিমা কোম্পানিগুলোকে একটি কাঠামোয় আনতে অর্থমন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও উপ-সচিব পদের ৮ কর্মকর্তাকে দিয়ে কাজ চালাচ্ছে সংস্থাটি। সূত্র অনুযায়ী, বিমাশিল্পের শৃঙ্খলা ফেরানো ও বিদ্যমান আইনকে যুগোপযোগী করতে ২০১০ সালের মার্চ মাসে নতুন বিমা আইন প্রণয়ন করা হয়। এর আলোকে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে গঠিত হয় বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। শুরু থেকেই সংস্থাটি তীব্র জনবল সংকটে পড়ে। ওই সময়ে স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে নিতে বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফায় কিছু অফিসার, জুনিয়র অফিসার এবং এমএলএসএস অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের চাকরি স্থায়ী হওয়া নিয়ে বিরাজমান জটিলতায় গত কয়েক বছরে অধিকাংশ অফিসার ও জুনিয়র অফিসার ইডরা ছেড়ে চলে যায়। বর্তমানে তারা বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থমন্ত্রণালয় এবং আইন পেশায় কাজ করছেন। এই সমস্যার সামাল দিতে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে ডেপুটেশনে কিছু কর্মকর্তা নিয়ে কাজ চালাচ্ছে সংস্থাটি।অন্যদিকে যারা প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকে কাজ করছেন, স্থায়ী না হওয়ায় দিন দিন হতাশা বাড়ছে তাদের। কী হবে তাদের আগামী দিনের কর্মজীবন। বিষয়টির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান চান তারা। নিরাপত্তা চান আগামী দিনের চাকরির। এদিকে চেয়ারম্যান ও সদস্য ছাড়া বর্তমানে সংস্থাটিতে ৪৪ জন কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীসহ প্রায় ৬৮ জনের জনবল রয়েছে। এর মধ্যে ৮ জন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা সরকারের ৫ জন যুগ্ম সচিব ও ৩ জন উপ-সচিব যথাক্রমে সংস্থাটিতে নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালক পদে কাজ করছেন। এই জনবল সরকারি দুটি কোম্পানি বাদে বেসরকারি ৭৬টি কোম্পানি উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে। এতে করে বিমা কোম্পানিগুলোকে যেভাবে তদারকি করার কথা ছিলো, তার ধারে কাছেও যেতে পারছে না ইডরা। এদিকে ২০১৫ সালের ২ এপ্রিল সংস্থাটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছিলেন, দেশের বিমা খাত দুর্নীতি ও ফাঁকিবাজিতে খুব দক্ষ। তবে আইডিআরএ এ দক্ষতা পরিবর্তন করতে ভূমিকা রাখবে। জনবলের কিছুটা সমস্যা রয়েছে। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে। এখন আমাদের দুটি কাজ করা জরুরি। একটি হচ্ছে দক্ষ জনবল সৃষ্টি করা। আর অন্যটি হলো ইন্স্যুরেন্স অ্যাকাডেমিকে শক্তিশালী করা। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অর্থমন্ত্রণালয়ের বিমা বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মানিক চন্দ্র দে আমার সংবাদকে বলেন, ইডরার জনবল নিয়ে একটি কাঠামো পাস করা আছে। বিষয়গুলো নিয়ে ইডরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ইডরার পক্ষ থেকে আরেকটি প্রস্তাব দেওয়ার কথা। প্রস্তাব পাওয়ার মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী আমার সংবাদকে বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবগুলো পাঠানো হবে। আমরা চাই যে জনবল অনুমোদন করে, সেখানে যাতে বর্তমানে যারা আছে তাদের নেওয়ার পর অন্যদের নেওয়া হয়। কারণ হলো তারা সংস্থাটির শুরু থেকেই কাজ করে আসছে। কাজের অনেক বিষয়ে তারা পরিপক্ক হয়েছে। ফলে তাদের নিলে ইডরার কাজের জন্য ভালো হবে।সূত্র মতে, জনবল সংকট দূর করতে ১৯৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা করে এর সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) চূড়ান্ত করে ২০১১ সালে মন্ত্রণালয়ে পাঠায় ইডরা। পরবর্তী সময়ে অর্থমন্ত্রণালয় তা যাচাই-বাছাই করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। ওই বছরের ২৬ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৯৪ জন লোকবলসংবলিত অর্গানোগ্রাম অনুমোদন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এরপর অর্থমন্ত্রণালয় তা চূড়ান্ত করতে ইডরায় পাঠায়। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে না জানিয়েই তৎকালীন চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ অর্থমন্ত্রণালয়ে আবারো চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে তিনি ১৭৯ জনের কথা জানান। ফলে আটকে যায় জনবল কাঠামোর অনুমোদন। ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি এম শেফাক আহমেদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফজলুল করিম জনবল কাঠামো চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেন। সেই আলোকে ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি ইস্যু করেন। ওই বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ইডরার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বৈঠকের পর ২০১৫ সালের মার্চ মাসে কিছু কমিয়ে ১৫৫ জনের অনুমোদন দেয় অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। সর্বশেষ সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, ১৭টি পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ১৫৫ জনের অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির পদে রয়েছেন অফিস সহকারী পদে ২০ জন, ইলেক্ট্রিশিয়ান পদে একজন এবং ক্লিনার অথবা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদে ২ জন। এই তিন পদের ২৩ জন নিয়োগ পাবেন আউট সোর্সিং নীতিমালা অনুযায়ী। অন্য ১৪টি পদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ইডরার নিজস্ব জনবল হিসেবে নিয়োগ পাবেন এবং সরকারি চাকরির নীতিমালা অনুযায়ী যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে নির্বাহী পরিচালক ৪ জন, পরিচালক ৭ জন, অতিরিক্ত পরিচালক ১০ জন, উপ-পরিচালক ১০ জন, সহকারী পরিচালক ২০ জন, প্রোগ্রামার একজন, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব পদে একজন করে নিয়োগ পাবেন। এছাড়া কর্মকর্তা পদে ৩০ জন, প্রোগ্রাম অপারেটর ৫ জন, কম্পিউটার অপারেটর ১০ জন, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সহকারী ৫ জন, ডাটা এন্ট্রি অথবা কন্ট্রোল অপারেটর ২০ জন এবং ড্রাইভার পদে ১০ জন নিয়োগ পাবেন। বিষয়টি অফিসিয়ালভাবে অর্থমন্ত্রণালয় ইডরাকে জানিয়েছিলো। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফের ১৯৫ জন চেয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করে সংস্থাটির তৎকালীন চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ। ফলে আটকে যায় সংস্থাটির জনবল কাঠামো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত