শিরোনাম

ফোর-জি তরঙ্গে সরকারের আয় চার হাজার কোটি টাকা

জোনায়েদ মানসুর  |  ১৯:১২, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

দেশে চতুর্থ প্রজন্মের (ফোর-জি) তরঙ্গ নিলাম করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। নিলামে দুই মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক তিন হাজার ৮৪৩ কোটি টাকার তরঙ্গ কিনেছে। ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করসহ (মূসক) এ তরঙ্গের দাম ৪ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে ফোর-জি চালুর জন্য তরঙ্গ নিলাম শুরু করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। টেলিযোগাযোগ সেবায় ফোর-জি চালুতে পাঁচটি মোবাইল ফোন অপারেটর আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এ নিলাম চালু হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে ফোর-জি নেটওয়ার্ক চালু হবে।

এ নিলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এতে বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, বিটিআরসি সচিব সরওয়ার আলম এবং গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিলামে উপস্থিত ছিলেন। নিলামে বিটিআরসি সচিব সরওয়ার আলম বলেন, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই ফোর-জি সেবা পাবেন গ্রাহকরা। মোবাইল ইন্টারনেটে দ্রুতগতির সেবায় ফোর-জি সর্বশেষ প্রযুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত থ্রি-জির এটি পরের ধাপ। বর্তমানে বাংলাদেশে যেকোনো শ্রেণির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের নূন্যতম গতি ৫ এমবিপিএস। দেশে থ্রি-জি প্রযুক্তির গড় গতি কত, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বিটিআরসির কাছে নেই। তবে ফোর-জি সেবার নূন্যতম গতি ২০ এমবিপিএস নির্ধারণ করেছে বিটিআরসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরেমশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর আমার সংবাদকে বলেন, সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে আগামী তিন বছরের মধ্যে আইটি খাতে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় করতে বেশি ইন্টারনেটের গতির প্রয়োজন। আমরা অপেক্ষায় ছিলাম কবে ফোর-জি চালু হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে চালু হবে জেনে আমরা (বেসিস) খুশি। তবে ফোর-জির নামে কোয়ালিটির কম্প্রোমাইজ না হয়, সেদিকে বিটিআরসিকে নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশে ২৬ লাখ শিক্ষিত বেকার রয়েছে। এর একটা বড় অংশ ফ্রিল্যান্সিং করে। অনলাইনে আয় করতে আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি বিকাশে ফোর-জি গতির ইন্টারনেট দরকার।

এদিকে গতকাল নিলামে জানা গেছে, গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক দুই ব্যান্ড থেকে ১৫ দশমিক ৬ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম কিনেছে। আর ৯০০ ব্যান্ডে কোনো ক্রেতাই ছিল না। দুই ঘণ্টার কম সময়ের নিলামে গ্রামীণফোন ১ হাজার ৮০০ ব্যান্ড থেকে ৫ মেগাহার্ডজ এবং বাংলালিংক এ ব্যান্ড থেকে ৫ দশমিক ৬ মেগাহার্ডজ ও ২ হাজার ১০০ ব্যান্ড থেকে ৫ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম কিনেছে। ২ হাজার ১০০ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের ভিত্তি মূল্য ধরা হয় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর ১ হাজার ৮০০ ব্যান্ডের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৩ কোটি ডলার করে।

এর ওপরের দরেই স্পেকট্রাম কিনে অপারেটর দুইটি। এর আগে, গত রোববার নিলামের মহড়ায় বাংলালিংক ২ হাজার ১০০ ব্যান্ড থেকে ১০ মেগাহার্ডজ এবং ১ হাজার ৮০০ ব্যান্ড থেকে দুই ভাগে আরও নয় মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম নিয়েছে। অন্যদিকে গ্রামীণফোন শুধু ১ হাজার ৮০০ ব্যান্ডে ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম কেনার মহড়া দিয়েছে। রবি ও টেলিটক বাড়তি কোনো স্পেকট্রাম কিনবে না বলে আগেই বিটিআরসিকে জানিয়েছিল। মোবাইল ফোন অপারেটরদের ১ হাজার ৮০০ ও ২ হাজার ১০০ ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দ দিতে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি এ নিলামের আয়োজন করেছে। কমিশন মূলত তিনটি ব্যান্ডের স্পেকট্রামের জন্য নিলাম আহবান করলেও ৯০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রামের কোনো আগ্রহী ক্রেতা পাওয়া যায়নি।

ফলে ওই ব্যান্ডের জন্যে কোনো নিলাম হচ্ছে না। এই স্পেকট্রামের নিলাম হওয়ার পর অপারেটররা তাদের হাতে থাকা বিদ্যমান স্পেকট্রামের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা নিয়ে তবেই ফোর-জি সেবা চালু করবে। সেটি হতে এই মাসের শেষ পর্যন্ত লেগে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর ২০ ফেব্রুয়ারি অপারেটরগুলোকে লাইসেন্স দেবে কমিশন। দেশে ফোর-জি সেবা চালু করবে গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক ও সরকারের মালিকানাধীন টেলিটক। সবাই এ নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে। মঙ্গলবারের নিলামে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক অংশ নিলেও রবি ও টেলিটকের কাছে যথেষ্ট তরঙ্গ থাকায় তারা অংশ নেয়নি। নিলামের পর ফোর-জি চালুর জন্য সময় রয়েছে এক সপ্তাহ। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে- সব কাজ সেরে গ্রাহকপর্যায়ে ঢাকাসহ দেশের বড় বিভাগীয় শহরে সেবাটি সময়মতো চালু করা যাবে। বিটিআরসির ফোর-জি নীতিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার দেড় বছরের মধ্যে দেশের সব জেলা শহরে সেবাটি চালু করতে হবে; তিন বছরের মধ্যে সব উপজেলায়।

এর আগে টু-জি ও থ্রি-জি সেবার জন্য বরাদ্দ করা তরঙ্গে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা দিয়ে (যাতে ওই তরঙ্গ যে কোনো প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা যায়) গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক ও রবির কাছ থেকে সরকার পেয়েছে ১ হাজার ৪৪৫ দশমিক ০৮ কোটি টাকা। গত বছর জানুয়ারিতে ফোর-জি টেলিযোগাযোগ সেবা চালুর লাইসেন্স নিতে পাঁচটি মোবাইল ফোন অপারেটর আবেদন করেছে। এরা হলো গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, টেলিটক ও সিটিসেল। এর মধ্যে সিটিসেলের কার্যক্রম এখন বন্ধ আছে। প্রসঙ্গত, ফোর-জি হল ফোর্থ জেনারেশন বা চতুর্থ প্রজন্ম শব্দটির সংক্ষিপ্ত রূপ। সর্বপ্রথম বাণিজ্যিকভাবে এ সেবা চালু হয় ২০০৯ সালে; নরওয়ে ও সুইডেনে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ প্রায় সব উন্নয়নশীল দেশেই ফোর-জি সেবা চালু আছে। বাংলাদেশে সে হিসাবে এটি বেশ পরেই এলো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত