শিরোনাম

ছুটির দিনে জমজমাট বাণিজ্য মেলা

আহমেদ ফেরদাউস খান  |  ২০:৩২, জানুয়ারি ১৯, ২০১৮

শৈত্যপ্রবাহের পর হঠাৎ উষ্ণতায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে জমজমাট পণ্যের বৃহত্তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। উষ্ণতার পাশাপশি শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় মেলায় ভিড় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। সূর্যের আলোয় ব্যবসার আলো দেখছেন মেলায় অংশ নেয়া ব্যবসায়ীরাও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুরু থেকেই ভালো যাচ্ছে না এবারের মেলা। শৈত্যপ্রবাহ এর মূল কারণ। সেটি কেটে যাওয়ায় বাণিজ্য মেলায় ছন্দ এসেছে। প্রচুর ক্রেতা ভিড়ছে।

মেঘহীন আকাশে কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া মিলে যে ঘোর আঁধার নেমেছিল গেল দুই সপ্তাহে গতকাল তা কেটে গিয়ে মাঘের মিষ্টি রোদের উত্তাপ ছড়িয়েছে। হেসে ওঠে বাণিজ্য মেলাও। গত কদিন মেলার রঙিন আলোও ফ্যাকাশে হয়ে আসছিল টানা শৈত্যপ্রবাহে। অতিঠাণ্ডায় প্রাণের উচ্ছ্বাসে ঘাটতি ছিল মেলার শুরু থেকে। রোদের পরশে প্রকৃতি অসহনীয় ঠাণ্ডার খোলস বদলের সুযোগ পেয়ে এদিন মেলার প্রধান ফটক খোলার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণের প্রাণ মেলে ধরে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। পাল্টে যায় মেলার চিত্র। জমে ওঠে মধ্য সময়ের বাণিজ্য মেলা।

সারমিন আক্তার বলেন, দুই সপ্তাহ তো ঘর থেকে বের হতেই পারিনি। ইচ্ছা ছিলো কিন্তু আসতে পারিনি। এখন তাপমাত্রা বেড়েছে, যে কারণে মেলায় আসার সিদ্ধান্ত নেই। দিনভর কেনাকাটা করবো। মেলার শেষের দিনগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় হবে। তাই ছুটির দিনেই চলে আসা।

কিষোয়ানের মার্কেটিং অফিসার আব্দুল জব্বার বলেন, ছুটির দিন ও রোদ থাকায় আজ ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি ভালো। আজ বিক্রিও অনেক বেশি। আজকের দিনের জন্যই আমরা অপেক্ষা করে থাকি। আমাদের প্যাভিলিয়নটা একটু ভেতরে, তারপরও যা বিক্রি হচ্ছে তা অন্য যেকোনো দিন থেকে ভালো। তিনি আরো বলেন, এখন থেকে শেষ পর্যন্ত বিক্রি ভালো হবে। প্রতিবছরই শেষ সময়ে বিক্রি বেশি হয়। তবে প্রথম দিকের বেচাকেনা কম হওয়ায় আমরা শঙ্কায় ছিলাম। আজকের দর্শনার্থীর উপস্থিতি আমাদের শঙ্কা দূর করেছে বলে তিনি জানান।

মেলার সমন্বয়ক মোর্শেদ জামান বলেন, বাণিজ্য মেলা সাধারণত মধ্য সময়ের পর থেকে জমে ওঠে। এবার শুরুর দিন থেকে শৈত্যপ্রবাহ চলছিল। সারাদেশ থেকে মানুষ পণ্য কিনতে আসে এ মেলায়। শীতের প্রভাবে খানিকটা ভাটা পড়েছিল, তা অস্বীকার করা যাবে না। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিত্র পাল্টে গেছে। ক্রেতা আর বিক্রেতা মিলে উষ্ণতা ছড়িয়েছে মেলায়। আশা করছি, এবারের মেলা শেষ পর্যন্ত সফল হবে।

এছাড়া মাসের তৃতীয় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-বিক্রেতা, ইজারাদার ও আয়োজকদের প্রত্যাশা পূরণের দিন। আগের সব মেলায় তৃতীয় সপ্তাহেই রেকর্ড পরিমাণ বিক্রির নজির রয়েছে। কারণ এ সপ্তাহে সর্বোচ্চ ছাড় থাকে মেলায়। ক্রেতারাও এ সময়ের অপেক্ষায় থাকেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আজ ক্রেতা-বিক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা পূরণের দিন। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানো এবং পণ্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়তে এ মেলার আয়োজন করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। চলতি সপ্তাহে তাদেরও প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মনে করেন মেলা কর্তৃপক্ষ।

একই আশা ব্যক্ত করেন মেলার মাঠ ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মীর ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মীর শহিদুল আলম। তিনি বলেন, মেলা এখন শেষের দিকে বলা যায়। এখন যদি দর্শনার্থী না আসে তাহলে কবে আসবে? অতীত ইতিহাস বলে, মেলার তৃতীয় শুক্রবার ব্যাপক লোকসমাগম হয়। এবারো হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত