শিরোনাম

শীতেও সবজির দাম চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৯:৫২, জানুয়ারি ১৯, ২০১৮

প্রতি বছরই শীতে সবজির দাম কম থাকে। কিন্তু এ বছর হাটছে উল্টো পথে। নানা অজুহাতে পুরো বছরই সবজির দাম ছিলো চড়া। ঘন কুয়াশায় ফসলের ক্ষতি ও পণ্য সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে শীতেও দাম বেশ চড়া।

সবজি ছাড়াও সকল পণ্যের দাম চড়া হওয়ায় ক্রেতাদের নাভিশ্বাস। আগ থেকেই চাল ও পেঁয়াজের দামে পিষ্ট ক্রেতারা বেশ ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, শীতের সময়েও সবজির এতো দাম অগ্রহণযোগ্য। ব্যবসায়ীরা মিথ্যা অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছেন বলে মনে করেন তারা।

ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের এ অভিযোগ মানতে নারাজ। তারা বলছেন, ঘন কুয়াশায় সবজি পচে যাচ্ছে। যে হারে সবজির ট্রাক আসতো সংকটের কারণে তা অর্ধেকের বেশিতে নেমেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ যেসব অঞ্চলে সবজি উৎপাদিত হয় কুয়াশায় সেখানকার সবজির গাছ মারা যাচ্ছে। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন প্রান্তিক পর্যায়ের চাষিরা। এ কারণেই দাম একটু বেশি।

রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী ও কারওয়ানবাজারের আশপাশ এলাকার সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায় বেশিরভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। গত সপ্তাহের সাথে এই সপ্তাহের সবজির দামে ব্যাপক পার্থক্য। পুরান আলু বাজারে না থাকলেও নতুন আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। টমেটো ৫০, ফুলকপি ৪০, চিচিঙ্গা ৮০, বেগুন ৮০, ঢেঁড়শ ১০০, ঝিঙ্গা ৮০, শসা ৫০ ও সিম ৬০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। শীতের সবজির বাজারে নতুন হওয়াতে মটরশুটি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দরে।

মসলার বাজার ঘুরে গত সপ্তাহের সঙ্গে খুব বেশি পার্থক্য পাওয়া যায়নি। দেশি ছোটো পেঁয়াজ ৭৫ এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেজি। এছাড়া ছোটো রসুন ৮০ ও বড় রসুন ৯০, বড় আদা ১০০ ও ছোটো আদা ৯০ টাকা। মরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য চালের দামটাও রয়েছে আগের মতোই। সর্বশেষ খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, কেজি প্রতি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮-৭০, মিনিকেট ৬০-৬২, বিআর-আটাশ ৫২, পারিজা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকায়।

মাছ, মাংস ও ডিমের বাজার গত সপ্তাহের মতই। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস ৪৮০ এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা কেজি। ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কক মুরগি প্রতি পিস সাইজ অনুযায়ী ১৫০-২২০ টাকা দরে পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামটাও গত সপ্তাহের সঙ্গে মিল রেখে বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকা হালিতে। মাছের বাজারে একটি ছোট ইলিশ কিনলে গুণতে হবে ৫০০ এবং বড় ইলিশ কিনলে গুনতে হবে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। প্রতি কেজি রুই ২৫০, পাঙ্গাস ১০০, কার্প ১৪০, কাতল ২৫০, তেলাপিয়া ১৪০ ও চিংড়িমাছ ৪৫০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা সবজি বিক্রেতা সোহাগ বলেন, ঠাণ্ডার কারণে সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম বেশি চলছে। তবে ঠা-া কিছুটা কমে যাওয়ায় সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে। ট্রাকে ট্রাকে সবজি রাজধানীতে প্রবেশ করছে। আশা করা যায় আগামী সপ্তাহে সবজির বাজার স্থিতিশীল হয়ে যাবে। বিক্রেতাদের এমন আশ্বাসে ভরসা রাখছেন না ক্রেতারা।

মহাখালী বাজারের ক্রেতা মো. শফিক বলেন, শীতে সবজির দাম কম থাকে। কিন্তু পুরো বছরের মতো শীতেও দাম নাগালের বাইরে। এতো দামে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের কিনে খাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া দাম কমার কোনো সম্ভাবনাও দেখছেন না তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত