শিরোনাম

হঠাৎ সবজিতে অস্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ২০:২৩, জানুয়ারি ১২, ২০১৮

বেশ কিছুদিন স্বস্তির সবজি হঠাৎ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও রাজধানীর বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। সেইসঙ্গে চাল ও পেঁয়াজের চড়া দাম অব্যাহত।

শুক্রবার বাড্ডা, মহাখালী ও কারওয়ানবাজারের আশপাশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, টঙ্গিতে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমার প্রভাবে সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। বাজারে কোনো সবজির কমতি নেই। টমেটো, শিম, লাউ, কাঁচাপাকা মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি (শালগম), পেঁয়াজের কলি, বেগুন, মুলা, লালশাক, পালংশাক, লাউশাক সবকিছুই বাজারে ভরপুর।

শীতের অন্যতম প্রধান সবজি ফুলকপি বেশ কিছুদিন ধরেই প্রতি পিস ২০-৩০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছিল। সেই ফুলকপির দাম বেড়ে হয়েছে ৩৫-৪০ টাকা। ২০-২৫ টাকা দামে বিক্রি হওয়া বাঁধাকপির দাম বেড়ে হয়েছে ৩০-৩৫ টাকা। ৩০-৩৫ টাকা দামে বিক্রি হওয়া শিমের দাম বেড়ে হয়েছে ৪০-৫০ টাকা। বিচিসহ শিমের দাম বেড়ে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে শালগম, মুলা, টমেটো, বেগুনও। ১৫-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শালগমের দাম বেড়ে হয়েছে ২০-২৫ টাকা। বেগুনের দাম এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০-৫৫ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০-৩০ টাকা কেজি।

১৫ টাকা কেজি মুলার দাম বেড়ে হয়েছে ২০-২৫ টাকা। ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া টমেটোর দাম বেড়ে হয়েছে ৫০-৬০ টাকা। ঠাণ্ডা তরকারি হিসেবে পরিচিত লাউ’র দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৪০-৪৫ টাকা পিস বিক্রি হওয়া লাউ’র দাম বেড়ে হয়েছে ৬০-৬৫ টাকা।

সবজির এমন দামে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি বিরাজ করছে। বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা মো. মিরাজ বলেন, এখন শীতের সবজির ভরা মৌসুম। সেই হিসাবে সব সবজিরই দাম কমার কথা। কিন্তু বাজারে এসে দেখি সবকিছুর দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

সবজির দাম বাড়ার বিষয়ে মহাখালী বাজারের ব্যবসায়ী মো. মাহফুজ বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ সবজির দাম কমই ছিলো। টঙ্গিতে বিশ্ব ইজতেমার কারণে এখন কিছুটা দাম বেড়েছে। ইজতেমা শেষ হয়ে গেলেই দাম আবার কম যাবে। তবে এখন বাজারে কোনো সবজির অভাব নেই। আড়তে গেলেই পছন্দমত সবজি পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দাম একটু বাড়তি। তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে পেঁয়াজের আকাশচুম্বী দামে কিছুটা ছেদ পড়লেও এখনো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহের মতোই প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে। নতুন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে। আর পুরাতন দেশি পেঁয়াজের দাম ১২০-১৩০ টাকা কেজি।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. রুবেল মিয়া বলেন, বাজারে পুরাতন পেঁয়াজের সরবরাহ কম আছে। তাই দাম কিছুটা বাড়তি। তবে নতুন ও আমদানি করা পেঁয়াজের অভাব নেই। যে কারণে পেঁয়াজের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছিল তা কিছুটা কমেছে। অবশ্য এক মাসের বেশি সময় ধরেই পেঁয়াজের দাম একই রয়েছে। আমরা ধারণা করেছিলাম পেঁয়াজের দাম আরও কমবে।

চালের বাজারের অস্থিরতা এখনও বিরাজমান। চালের সর্বশেষ খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, কেজিপ্রতি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮-৭০ টাকা, মিনিকেট ৬০-৬২ টাকা, বিআর-আটাশ ৫২ টাকা, পারিজা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকায়।

অন্যদিকে সর্বশেষ খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, দেশি রসুন ৮০ টাকা, আমদানি রসুন ৮৫ টাকা, চিনি ৫৫-৬০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১০০-১২০ টাকা, আমদানি করা মসুর ডাল ৬০ টাকা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ ও মাংসের দাম। মাছের সর্বশেষ খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি কাতল মাছ ২২০ টাকা, পাঙ্গাশ মাছ ১২০ টাকা, রুই মাছ ২৩০-২৮০ টাকা, সিলভারকার্প ১৩০, তেলাপিয়া ১৩০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ টাকা ও চিংড়ি ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪০০-৪৫০ টাকা, খাসির মাংস ৭০০-৭৫০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কক মুরগি প্রতি পিস সাইজ অনুযায়ী ১৫০-২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত