শিরোনাম

পাইকারিতে দাম কমলেও খুচরায় প্রভাব নেই

আহমেদ ফেরদাউস খান  |  ১৯:২৯, নভেম্বর ১৭, ২০১৭

গত কয়েক মাস ধরে সবজি বাজারে অস্থিরতার কারণে নাভিশ্বাস উঠেছিল রাজধানীবাসীর। সেসময় কেজি প্রতি ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি বিক্রি হয়নি। তবে শুক্রবার শীত মৌসুমের শুরুতে সবজির দাম কিছুটা কমলেও তা পাইকারি বাজারে। খুচরা বাজারে শীতের সবজিতে এখনও তেমন একটা প্রভাব পড়েনি। রাজধানীর সর্ববৃহৎ কাঁচাবাজার কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতিটি সবজিতেই কেজি প্রতি ৫-১০ টাকা দাম কমেছে। তবে আশপাশের খুচরা বাজারগুলোতে এখনও আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে সকল পণ্য। শুক্রবার রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী, কারওয়ানবাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

কারওয়ানবাজারে কাঁচা মরিচের মানভেদে প্রতি কেজি ৯০-১০০, প্রতি কেজি বেগুন (সাদা) ৪০, সিম ৪০, শসা ৪০, ফুলকপি (মাঝারি) প্রতি পিস ২০, বাঁধাকপি (মাঝারি) প্রতি পিস ৩০, লাউ প্রতি পিস ৩০-৪০, গাজর প্রতি কেজি ৪৫-৫০, আলু ২০, করলা ৫০, বরবটি ৫০, ঢেঁড়স ৪০, ঝিঙা ৪০, পটল ৪০, টমেটো ১০০, পুঁইশাক প্রতি আটি ২০, লালশাক ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। দাম কমার বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলেন, প্রায় ৯০ ভাগ সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। এর আগে বৃষ্টিতে সবজি নষ্ট হওয়ার কারণে দাম বেশি ছিল, কিন্তু এখন আবার নতুন সবজি আসতে শুরু করেছে। যেমন আগে বৃষ্টিতে বেগুনগাছ সব নষ্ট হয়েছিল, এখন আবার সেসব গাছে ডাল বের হয়ে বেগুন ধরেছে। এখন দাম কমতে থাকবে।

মাংসের বাজারে দেখা গেছে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩০, সোনালি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির ক্ষেত্রে দেখা গেছে দামের তারতম্য। কোনো কোনো দোকানে দেখা গেছে মুরগি পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে আবার কোথাও কেজি হিসেবে। দেখা গেছে ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের প্রতি পিস মুরগি ১৬০-১৮০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৪০ টাকা দরে। আবার কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা দরে। এদিকে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৫০০ ও খাসির মাংস ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

গত প্রায় দুমাস ধরে দেশি ও আমদানি পেঁয়াজ ‘স্মরণকালের’ সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়েছে। চলতি মাসে ভারতীয় পেঁয়াজও দেশের বাজারে এসেছে। আগের মাসের তুলনায় এ মাসে পেঁয়াজ আমদানিও স্বাভাবিক হয়েছে। তারপরও পেঁয়াজের ঝাঁজ কমার লক্ষণ নেই। বিক্রেতাদের বক্তব্য, যে পর্যন্ত দেশি পেঁয়াজের নতুন ফলন বাজারে না আসছে, সে পর্যন্ত দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। চলতি মাসের শেষদিকে কিংবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাজারে দেশি নতুন পেঁয়াজ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারে এর প্রভাব পড়লে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে। তবে তখন পেঁয়াজের আমদানি স্বাভাবিক না থাকলে দাম না কমে উল্টো বেড়ে যেতে পারে। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা, আর খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা। অন্যদিকে আমদানিনির্ভর পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা ও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়।

কারওয়ানবাজারে পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতা মো. শহীদ বলেন, আমদানি পেঁয়াজের চাহিদা অনুযায়ী যোগান হচ্ছে না। কিন্তু বাজারে ভারতীয় নতুন পেঁয়াজ চলে এসেছে। তারপরও দাম কমছে না। কারণ আমদানি পেঁয়াজ দেশি বাজারের চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই দেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে এলেই দাম কমবে। গত সপ্তাহে আদার দাম কিছুটা বাড়লেও আগের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে অধিকাংশ মুদিপণ্যের দাম। শুক্রবারের বাজারে কেজিপ্রতি চীনা আদা ১৪০ টাকা এবং কেরালা আদা ১৫০, ছোলা ৯০, দেশি মুগডাল ১৩০, ভারতীয় মুগডাল ১২০, মাষকলাই ১৩৫, দেশি মসুর ডাল ১২৫, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। মসলার মধ্যে কেজিপ্রতি দারুচিনি ৩৬০, জিরা ৪৫০, শুকনা মরিচ ২০০, লবঙ্গ ১৫০০, এলাচ ১৬০০ এবং হলুদ ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কেজিপ্রতি দেশি রসুন ১১০, ভারতীয় রসুন ৯০, আলু কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০-২২ টাকায়।

ভোজ্য তেল আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০, প্রতিলিটার বোতল ১০৭-১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে কমেনি চালের দামও। মোটা স্বর্ণা প্রতিকেজি ৪৫, পারিজা ৪৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট (ভালো মানের) ৫৮-৬০, মিনিকেট (সাধারণ) ৫৬-৫৮, আমদানি করা ভারতীয় বিআর-আটাশ ৪৮, দেশি বিআর-আটাশ ৫২, নাজিরশাইল (ভালো মানের) ৭০, নাজিরশাইল (নরমাল) ৬৫, পাইজাম চাল ৪৮, বাসমতি ৫৩ এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতিকেজি রুই ২৫০-৩৫০, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০, কাতলা ৩৫০-৪০০, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০, সিলভার কার্প ২০০-২৫০, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০, পাঙ্গাস ১২০-২০০, টেংরা ৬০০, মাগুর ৬০০-৮০০, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ মাঝারি আকারের প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা দরে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত