শিরোনাম
হজ ফ্লাইট বাতিল

চল্লিশ কোটি টাকা আয়ের সুযোগ হারিয়েছে বিমান

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৭:০০, আগস্ট ০৯, ২০১৭

পর্যাপ্তসংখ্যক হজযাত্রী না পাওয়ায় বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের এ পর্যন্ত মোট ১৯টি হজ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে প্রায় ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সুযোগ হারিয়েছে। আজ বুধবার হজযাত্রী পরিবহনের ১৭তম দিন। আজকে পর্যন্ত ৫৪ শতাংশ পরিবহন করার কথা ছিল। কিন্তু হয়েছে ৩৮ শতাংশ।

বুধবার (০৯ আগস্ট) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এএম মোসাদ্দিক আহমেদ।

হজ ফ্লাইটে আর্থিক ক্ষতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হজ ফ্লাইটের শুরুতেই আমরা লাভ-লোকসানের হিসাব করি না। হজ অপারেশনের শেষে হিসাব করা হয়। তবে এ পর্যন্ত যেসব ফ্লাইট বাতিল হয়েছে তাতে ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সুযোগ ছিল। আমরা সাধারণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নই, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। সমস্যা উত্তরণে সব কিছু করবো।' বাতিল হওয়া ১৯টি ফ্লাইটে ৯ হাজার ৮৮৭ হজযাত্রী সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল।

অন্যদেশেও হজ ফ্লাইট নিয়ে এমন পরিস্থিতি হয় কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্যদেশে এমন হয় না। কারণ অন্যান্য দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বেশির ভাগ মানুষ হজে যান। আর আমাদের দেশে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বেশি মানুষ হজে যান।’

হজ ফ্লাইট বাতিল প্রসঙ্গে এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, ‘যাত্রী না পাওয়ায় আজকের (বুধবার) দু’টিসহ মোট ১৯টি হজ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আরও ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা আছে। বিমানের নির্ধারিত হজ ফ্লাইট রয়েছে ১৮১টি। এখনও বিমান ৫৪টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এসব ফ্লাইটে ২৪ হাজার ১১৫ জন যাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। বাতিল হওয়া ফ্লাইটে আরও ৯ হাজার ৮৮৭ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল।’

নতুন হজ ফ্লাইট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করি। তাদের কিছু নিয়ম কানুন আমাদের মানতে হয়। আমরা গত ১৪ মার্চে হজ ফ্লাইটের স্লটের জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের ২৪ থেকে ২৬ আগস্টের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। এরমধ্যে কোনও স্লট ব্যবহার করতে না পারলে তারা খারাপভাবে দেখে। আমরা বাতিল হওয়া ফ্লাইটের জন্য নতুন করে ১৪টি স্লটের অনুমতি পেয়েছি। তবে সেগুলার জন্যও দিক নির্দেশনা আছে। এসব মেনে আমরা হয়তো শেষ পর্যন্ত ৭টি স্লট ব্যবহার করতে পারবো। একটি উড়োজাহাজ সৌদি আরবে গিয়ে ফিরে এসে পুনরায় যেতে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগে।আমাদের উড়োজাহাজের লিমিটেশন আছে।’

হজ এজন্সিগুলোকে টিকিট বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে- এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাস দুয়েক আগে আমরা হজ পলিসি ঠিক করেছি। সেগুলো সব এজন্সিকে জানানো হয়েছে। আমাদের কাছে ১১৫টি এজেন্সি টিকিটের জন্য আবেদন করেছে। এছাড়া, এখনও আমরা প্রতিদিন ফ্লাইটের তথ্য এজেন্সিগুলোকে জানাচ্ছি।’

এ পরিস্থিতির জন্য কে দায়ী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দায়ভার আমাদের না। তবে কার সেটিও আমি বলতে পারছি না। সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত সমস্যার জন্য এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাড়ি ভাড়া নিয়ে কোনও সমন্বয় নেই। আমি সবাইকে আতঙ্কিত করছি না। বাস্তবতার ব্যাখা করছি। কতগুলো এজেন্সি কতগুলো সিট বুকিং দিয়েছে, আমারা সে তথ্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে দিয়েছি। আমরা সবার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখছি।’ ‘শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে হজ ফ্লাইট চালু রাখাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। পরিস্থিতি বেশ কঠিন, তবে এখনও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত