শিরোনাম

স্বাস্থ্য খাতে কমেছে বাজেট বরাদ্দ

১১:১১, জুন ১৯, ২০১৭

স্বাস্থ্য খাতে বাজেট প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। যা বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ পূর্বের তুলনায় বরাদ্দ কমেছে দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বছরে বাজেট দেয়া হয়েছে ১৬ হাজার ২০৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। যার বেশিরভাগই বরাদ্দই অবকাঠামোগত উন্নয়নে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে ছিল ১৪ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। তবে স্বাস্থ্য খাতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৪ দশমিক ৩ শতাংশ আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সার্বিক উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলিয়ে এ খাতের জন্য ১১ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল যা মোট বাজেটের ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ ছিল। প্রতি অর্থবছরে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয় তার বেশিরভাগই কেনাকাটা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হয়। এসব ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহভাগই হয় লুটপাত।

এবং এদিকে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল রোববার প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত ও ভোক্তা অধিকার’ শীর্ষক সেমিনারে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। এতে মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন ক্যাবের সহ-সভপতি এস.এম. নাজের হোসেন। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য মতে, কোনো দেশে কোনো নাগরিকের স্বাস্থ্য ব্যয় তার সামগ্রিক ব্যয়ের ৩০ শতাংশের বেশি হলে সেই দেশে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল বলে বিবেচিত হয়। অথচ বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তিগত ব্যয় ৬৩ শতাংশ। নাজের হোসেন বলেন, বৃদ্ধ ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারিত করার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও পাইলটিং বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণকে স্বাস্থ্য সচেতন করতে হবে। একইসঙ্গে জাঙ্কফুড ও তামাকজাত পণ্যের মতো অস্বাস্থ্যকর খাদ্য পণ্যে আসক্তি কমাতে সেগুলোর ওপর কর বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.এ.কে. আজাদ চৌধুরী বলেন, আমাদের স্ব স্ব দায়িত্ব মানা উচিৎ। তা না হলে দেশের কোনো খাতে উন্নয়ন হবে না। আর স্বাস্থ্যসেবায় উন্নতি করতে হলে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার নিয়ম মানা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন সাধনের জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে। কার্ডিয়াক সার্জারিতে আমরা এখন অনেক উন্নয়ন করেছি। সারা দেশে মডেল ফার্মাসি করার উদ্যোগ নিয়েছি।

ইতোমধ্যে ১৭ জেলায় মডেল ফার্মাসি স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ফার্মাসি দোকানগুলোকে লাইসেন্সের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। আমাদের সমস্যা আছে; ভোক্তাপর্যায়েও সমস্যা আছে। এ সমস্যা দূরীকরণে ভোক্তাকে অধিকার সম্পর্কে জানাতে হবে। একইসঙ্গে সচেতন করতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. প্রাণ গোপাল বলেন, শিক্ষা আর চিকিৎসা যখন বাণিজ্য ক্ষেত্রে পরিণত হয়- তখন দেশের উন্নতিও নষ্ট হয়। ফলে উন্নতি সাধনের জন্য এই খাতে বিশেষ নজর বাড়াতে হবে। প্রবীণদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের মূল্য কমানো এবং তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত