শিরোনাম

আবগারি শুল্ক নাম পরিবর্তন করা হবে : অর্থমন্ত্রী

১৫:৩৮, জুন ১৮, ২০১৭

 অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আবগারি শুল্কের’ নাম পরিবর্তন করা হবে। এই নামটা শুনতে ভালো শোনায় না। তাই আমি চিন্তা করছি এই নামটা পরিবর্তন করে নতুন নাম দেব। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভালো মনে করে আবগারি শুল্কের হার বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু এটা নিয়ে ব্যাপক হৈচৈ, চিৎকার ও কথা হচ্ছে।’ “আবগারি শুল্ক, এই নামটা শুনতেও ভালো শোনায় না। এ কারণে আমরা চিন্তা করেছি ‘আবগারি শুল্কের’ নাম পরিবর্তন করার।” তবে নতুন নাম ঠিক করা হয়নি বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটে সমালোচনার জন্য যখন বেশি কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন তো কিছু বের করতে হয়। এবার সবচেয়ে বেশি সমালোচনা এসেছে আবগারি শুল্ক নিয়ে। আমি তো আগেই বলেছি, বাজেট তো হলো প্রস্তাব। যখন এটা পাস হয়, তখন অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়। এই বিষয়ে চিৎকার যা আছে, তা পরিবর্তন হবে। বাজেট তো পাস হবে ঈদের পরে, তাই এখনই বলে দিচ্ছি যাতে সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারেন।’

টাকা পাচার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পাচার তো হয় কালোটাকা আছে বলে। কালোটাকার সুযোগ যাতে বন্ধ হয়, সে জন্য আমরা অভিযান শুরু করব।’

জমি নিবন্ধন কালোটাকা উৎপাদনের একটি বড় উৎস—এমন মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যে দামে জমি বিক্রি হয় প্রকৃত মূল্যের সঙ্গে তার দশ গুন পার্থক্য। সুতরাং নয় গুণ কালোটাকা হয়ে যায়।’ এই ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগে ২০ হাজার টাকা আমানতের ওপর ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক হিসেবে কেটে নেওয়া হতো। আমি এই সীমাটা এক লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছি এবং আবগারি শুল্কের হারও বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি।’ ‘আমি তো এটা শুধু প্রস্তাব করেছি। এটা তো পাস হয়ে যায়নি। কিন্তু এটা নিয়ে সমালোচনা ও চিৎকার-চেঁচামেচি হচ্ছে’, যোগ করেন মুহিত।

নাম পরিবর্তন হলেই কি সমালোচনা, চিৎকার-চেঁচামেচি বন্ধ হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি শুল্ক কমানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

গত ১ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এবারের বাজেটের আকার চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার। এবারের রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ আসবে মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) থেকে। যদিও এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ব্যবসায়ীদের। এ বাজেটে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভ্যাট আইন। বহুল আলোচিত এই আইনে ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ নির্ধারিত হবে। বাজেটে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে ৮৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৫ হাজার ১২৩ কোটি টাকা বেশি।

আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার চলতি বাজেটের চেয়ে প্রায় ২৬ ভাগ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেট তিন লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেট তিন লাখ ১৭ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ৪৬তম এই বাজেট পাস হবে আগামী ২৯ জুন।

এর আগে অর্থমন্ত্রী অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ১৭টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সম্পন্ন করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত