শিরোনাম

কারও পৌষ মাস কারও সর্বনাশ

১১:৪৬, জুন ১৮, ২০১৭

রমজানের শেষ দশক চলছে। ঈদের মাত্র ৭-৮ দিন বাকী। ঈদকে সামনে রেখে বেচাকেনা জমে ওঠার কথা থাকলেও রাজধানীর অধিকাংশ বিপণিবিতানে বেচাকেনা এখনও জমে ওঠেনি। নামিদামি শপিংমল ও শো-রুমগুলোয় ঈদের বেচাকেনার স্বরূপ দেখা গেলেও ছোট বা মাঝারি শপিংমল ও শো-রুমগুলোতে এখনও ঈদের ছোঁয়া লাগেনি। এ যেন ‘কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ’ অবস্থা। অনেকটা অলস সময় পার করছে ছোট ও মাঝারি বিপণিবিতানগুলোর বিক্রেতারা। অন্যদিকে নামিদামি শপিংমলের বিক্রেতারা দম ফালানোর সুযোগ পাচ্ছে না।

গতকাল (শনিবার) রাজধানীর বাড্ডা, বারিধারা, গুলশান, কারওয়ানবাজার, মগবাজার, মালিবাগ ও মৌচাক এলাকার বিপণিবিতান ঘুরে এমন চিত্র উঠে এসেছে। যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধারা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, গুলশানের নাভানা শপিং কমপ্লেক্স, জব্বার টাওয়ার ও আড়ং-এ ঈদের বেচাকেনায় উপচে পড়া ভিড়। বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতা উপস্থিতিতে ফুরফুরে মেজাজে বিক্রেতারা। রমজানের শুরুর দিকে বেচাকেনা না থাকার হতাশা ভুলে এখন বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করছেন তারা।

যমুনা ফিউচার পার্কের বিক্রেতা রকিব আমার সংবাদকে বলেন, রমজানের শুরুতে বেচাকেনা ছিল না। তবে এখন ঈদ কাছে আসায় বিক্রি বাড়ছে। যা বিক্রি হচ্ছে তাতেই আমরা খুশি। তিনি আরও বলেন, ঈদের বাকি ৭-৮ দিন তাই সকলেই ঈদের কেনাকাটা করছে। আশা করছি আগামী দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে। বসুন্ধারা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের বিক্রেতা জামশেদ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ! বিক্রি অনেক ভালো। শুরুতে তেমন বিক্রি না হলেও এখন অনেক ভালো বিক্রি হচ্ছে। যারা কিছুদিনের মধ্যে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাবেন তারা এখন কিনছেন। যারা ঢাকায় ঈদ করবেন তারা আরও পরে পছন্দের জিনিস কিনবেন।

এছাড়াও মগবাজার ও গুলশানের নামিদামি শপিংমলের বিক্রেতারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। মগবাজারের আড়ং শো-রুমের বিক্রেতা মাকসুদা বলেন, ১৮ রমজানের পর বিক্রি বেড়েছে। এখন তো অনেক বিক্রি হচ্ছে। শো-রুমে কাস্টমারদের ভিড়। চাঁদ রাত পর্যন্ত এমন ভিড় থাকবে বলে তিনি জানান। অন্যদিকে ছোট ও মাঝারি বিপণিবিতানগুলোর বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন। এ একই শহরে মুদ্রার উল্টা পিঠ দেখছেন তারা। শাহজাদপুরের ছোট বিপণিবিতান হাজী জমরউদ্দিন মার্কেটে গিয়ে দেখা গেল বিক্রেতারা গল্প করছে। কাস্টমার নেই, বেচাকেনা নেই, তাই নিজেদের মধ্যে গল্পের আসর বসিয়েছেন। আলমগীর নামের এক বিক্রেতা হতাশার সুরে আমার সংবাদকে বলেন, ঈদ হলো বিক্রির সেরা সময়। ঈদকে সামনে রেখে ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীরা মুনাফার স্বপ্ন দেখেন।

কিন্তু এবার ঈদে বেচাকেনা নেই। কাস্টমারশূন্য মার্কেট। বসে থাকি সারাক্ষণ বিক্রির আশায়। কার কাছে বিক্রি করবো ? কাস্টমার নেই। পাশে সুবাস্তু নজর ভ্যালি শপিং কমপ্লেক্স, কনফিডেন্স শপিং মল ও হল্যান্ড শপিং সেন্টার। সেখানে বিক্রেতাদের মুখেও একই সুর। তারাও ঈদ মার্কেটকে হতাশার হিসেবে দেখছেন। এদিকে মগবাজারের বিশাল সেন্টারে বিক্রেতা এস কে ইমামের মুখেও হতাশার সুর। তিনি বলেন, ঈদের মাত্র ৭-৮ দিন বাকি অথচ বিক্রি নেই। বিক্রি হবে এমন আশায় পুরো দিন বসে থাকি। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে না। কেন বিক্রি হচ্ছে না এমন প্রশ্নের উত্তর অজানা বলে তিনি জানান।

তবে মগবাজারের দি গ্রান্ড প্লাজা শপিং মলের বিক্রেতা শহিদুল ইসলামের মুখে ভিন্ন সুর। তিনি ওই মার্কেটের মালিক সমিতির অবহেলা ও উন্নত ডেকারেশনের অভাবকে দায়ী করে আমার সংবাদকে বলেন, এই মার্কেটের ডেকারেশনের অবস্থা একটুও ভালো না। যার কারণে ক্রেতারা কেউ আসছেন না। বর্তমান যুগে মার্কেটকে একটু জাঁকজমকপূর্ণ করতে হয়। যাতে ক্রেতারা আকৃষ্ট হয়। কিন্তু এ মার্কেট জাঁকজমকপূর্ণ নয়, তাই ক্রেতারা আসছেন না। বিক্রিও হচ্ছে না।

তিনি বলেন, মালিক সমিতি প্রতি বছর আশ্বাস দিলেও তা পূরণ করছেন না। যাতে করে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এবার ঈদে লোকসান হবার আশঙ্কা করে তিনি বলেন, ঈদে যা বিক্রির টার্গেট ছিল তা বিক্রি করা যাবে না। এবার লোকসানও হতে পারে বলে তিনি জানান। তবে মৌচাকের ফরচুর মার্কেটের অবস্থা হতাশাজনক না হলেও গতবছরের মতো বেচাকেনা নেই।

এক কাপড় বিক্রেতা জানান, বেচাকেনা বেড়েছে তবে তা গতবছরের তুলনায় অনেক কম। অন্যদিকে পছন্দের পোশাক কিনতে আসা মামুন নামের এক ক্রেতা আড়ং-এ এসেছেন। তিনি এত মার্কেট থাকতে আড়ংয়ে কিনতে এসেছেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আড়ংয়ের পোশাক খুবই উন্নত এবং ফিক্সড প্রাইজ। তাই কিনতেও ঝামেলা কম। হারলাম না জিতলাম এমন কোনো সন্দেহ থাকে না তাই আড়ংয়ে কিনতে আসা। বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে কথা হলো আরেফিন নামে আরেক ক্রেতার সাথে।

তিনি বলেন, আমি প্রতি বছর ঈদে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স থেকে পছন্দের পোশাক ক্রয় করি। এবারও আসছি। আমার পরিবারের সবাই এখান থেকেই ঈদের কেনাকাটা করেন। ঈদের জন্য এবারও পছন্দের তালিকায় পাঞ্জাবি রেখেছেন বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত