শিরোনাম

আমদানির চালে বাজার নিয়ন্ত্রণ

১১:৩৬, জুন ১৮, ২০১৭

উৎপাদন কিছুটা কম হওয়ার সুযোগ নিয়ে সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীরা বাজারে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাজারে এখন মোটা চালের কেজি ৪৮ টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। চাল কিনতেই তাদের দিনের আয় ফুরিয়ে যাচ্ছে। চালের বাজার এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মজুদও সর্বনিম্ন। তাই চাল আমদানি করেই সরকার চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মজুদ বৃদ্ধি করতে চাইছে।

জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার সংবাদকে বলেন, হাওরে আগাম বন্যা ও ব্লাস্ট রোগের কারণে ধান উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। এটা পুষিয়ে নিতে বিদেশ থেকে সরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি করা হবে। তিনি বলেন, এবার বোরো চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ লাখ টন। কিন্তু মিলারদের সঙ্গে ২ লাখ টনের মতো চুক্তি করা গেছে। বাকি ৬ লাখ টন বিদেশ থেকে আমদানি করে ঘাটতি পূরণ করা হবে।

এদিকে সরকার ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও দুই লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল। জিটুজি পদ্ধতিতে এ চাল আনা হবে। আমদানি করা সিদ্ধ প্রতি মেট্রিক টন চালের দাম পড়বে ৪৭০ ডলার। সে হিসাবে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করতে খরচ পড়বে ১৯৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন আতপ চালের দাম পড়বে ৪৩০ ডলার। এতে খরচ হবে ৭১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। জানাগেছে, ভিয়েতনাম থেকে আরও চাল সংগ্রহ করবে সরকার। অর্থাৎ আরও দেড় লাখ টন। এছাড়া, থাইল্যান্ড ও ভারত থেকেও চাল আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ১০ লাখ টন চাল আমদানি করা হবে। তবে পরিস্থিতি বুঝে আরও চাল আমদানি করা হতে পারে। কারণ বাংলাদেশের মানুষের মূল খাদ্য ভাত, তাই চালের দাম বেশি হলে এটা নিয়ে বিরোধীপক্ষ রাজনৈতিক ফায়দা নিতে পারে। সরকার ৭ লাখ টন ধান ও ৮ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ২৬ হাজার টনের মতো সংগ্রহ হয়েছে। সরকার পক্ষ থেকে চালের কিছুটা সংকটের কথা স্বীকার করা হচ্ছে।

এদিকে চালের সংকট মোকাবিলায় ব্যবসায়ীরা বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির উপর আমাদনি শুল্ক (ট্যারিফ) তুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে সরকারের কাছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকেও ট্যারিফ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু সরকার এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং বলা হয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই ট্যারিফ আরোপ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শুল্ক হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ যোগ হয় রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি)। ফলে ব্যবসায়ীদের ২৮ শতাংশ শুল্ক গুনতে হচ্ছে। এতে দেড় বছর ধরে চাল আমদানি প্রায় বন্ধ। কারণ প্রতি কেজি চালে শুল্ক গুনতে হয় প্রায় ৯ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, অকাল বন্যায় নষ্ট হয়েছে সুনামগঞ্জ,
নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমির বোরো ধান। এতে ছয় থেকে সাত লাখ টন চাল কম উৎপাদন হবে।

তবে হাওর নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘হাওর অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মে’র মতে, হাওর এলাকায় বোরো ধানের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তাতে এবার প্রায় ১৫ লাখ টন চাল কম পাওয়া যাবে। চালের পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সমিতিগুলো বলছে, এবার বোরোতে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টন চাল উৎপাদন কম হবে। সব মিলিয়ে ঢল ও ব্লাস্ট রোগে আসলে কী পরিমাণ বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও আরতদারদের দেয়া তথ্য সঠিক ধরে নিলেও এখনই যেমন চালের সংকট সৃষ্টি হওয়ার কথা নয় তেমন দাম বৃদ্ধিরও কথা নয়। বাস্তবে ঘটছে এর উল্টো। অর্থাৎ সংকটও চলছে দামও বাড়ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত