শিরোনাম

বাংলাদেশের নৌপথে বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী ভারত

১৯:০৩, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭

মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের যেকোনো সহযোগিতায় ভারত সবসময় ছিলো ও থাকবে। আমরা চাই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নৌপথে বাণিজ্য আরও বাড়ুক। তারই একটি নব সূচনা হলো গতকাল শুক্রবার। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কন্টেইনার সার্ভিস আরও বাড়াবে ভারত।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অবস্থিত পানগাঁও নদীবন্দরে আন্তর্জাতিকভাবে পোস্টাল শিপিং সোনার তরী সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল বলেন, ভারত বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র। ভারতের সঙ্গে প্রথম নৌ, স্থল ও আকাশপথে চুক্তি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। পরবর্তীতে সেটা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের অগ্রগতি আজ আন্তর্জাতিকভাবে সর্বজন স্বীকৃত। এছাড়া ভারতের সঙ্গে শুধু নৌ চুক্তি নয়, বর্ডার গার্ড সীমানা চুক্তিও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আজ পানগাঁও পোর্টে কন্টেইনার সার্ভিস চালু হওয়ার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক আরও বাড়লো।


নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ভারতের কলকাতা বন্দর থেকে এই প্রথম পানগাঁও বন্দরে কন্টেইনার সার্ভিস চালু হলো। ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর পানগাঁও পোর্টটি উদ্বোধন করা হয়। এবং ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে নৌপথে কন্টেইনার পরিবহন চুক্তি হয় এবং জাহাজ চলাচল শুরু হয়।

এছাড়া নৌ-মন্ত্রণালয় নতুন করে আরও ৩৬টি জাহাজ সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে যার কাজ প্রায় শেষের দিকে। বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, বাংলাদেশে ইনল্যান্ড কন্টেইনার আন্তর্জাতিকভাবে এই প্রথম উদ্বোধন হলো। যেটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায়। কেননা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এ পোর্টটি পড়ে থাকলেও কোনো সরকার পানগাঁও পোর্টটি চালু করেননি। কেননা তারা দেশের উন্নয়ন চান না। যদি চাইতেন তাহলে আরও আগে এ পোর্টটির কাজ শেষ হতো।

এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, উদ্বোধন থেকে এখন পর্যন্ত এ পোর্টটি কম ব্যবহার হয়েছে। যেখানে প্রথম বছর মাত্র ১ শতাংশ, ২য় বছর ২ শতাংশ, ৩য় বছর ৪.২ শতাংশ ও ৪র্থ বছরে মাত্র ১০ শতাংশ এ পোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু পোর্টটির ব্যবহার বাড়ানো উচিত। কেননা চট্টগ্রাম থেকে মাল খালাস করে রাজধানীতে আনতে যে অর্থের খরচ হবে, তারচেয়ে কম খরচে এখানে পণ্য খালাস করা সম্ভব। সময়ও কম লাগবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নৌ-মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায়, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ টেক্সটাইলের সভাপতি তপন চৌধুরী, সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, ভারতের রিডার লাইন কোম্পানির ডিরেক্টর অম্লান বসু প্রমুখ।

এর আগে ঢাকা এবং দিল্লির মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ‘উল্লেখযোগ্য গতিতে’ বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছিলেন বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে গত বৃহস্পতিবার চতুর্থ ইন্দো-বাংলা বাণিজ্যমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের তিন দিনব্যাপী এ বাণিজ্য মেলায় ভারত ও বাংলাদেশের অন্তত ৬০টি কোম্পানি তাদের পণ্য প্রদর্শন করছে। ২০১০ সালে চেম্বার প্রথম এ ধরণের বাণিজ্যমেলার আয়োজন করে। এ মেলা এবং ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধিতে ‘বিশেষ ভূমিকা’ রাখছে বলে জানান শ্রিংলা।

তিনি বলেন, গত দেড় দশকে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি দশগুণ বেড়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি বেড়েছে ছয়গুণ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে ৬১৪ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নিবন্ধিত ভারতীয় বিনিয়োগের পরিমাণ এখন তিনশ কোটি ডলারেরও বেশি। ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে আরও বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

হাই কমিশনার বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো এখন একে অপরের দেশে বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ স্থাপনে ‘নতুন সম্ভাবনার’ খোঁজ করছে। মেরিকো, সিয়াট, টাটা মটরস, গোদরেজ, সান ফার্মা ও এশিয়ান পেইন্টসের মত ভারতীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিশাল অংকের বিনিয়োগ করেছে। বিদ্যুৎ, তরল গ্যাস এবং বন্দর খাতে ভারতের আরও বিনিয়োগ পাইপলাইনে আছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত