জনশক্তি রফতানিতে রেকর্ড

তবুও বাড়ছে না রেমিটেন্স

প্রিন্ট সংস্করণ॥মনজুর-এ আজিজ | ১২:০৪, জানুয়ারি ০৯, ২০১৭

গত বছর বাংলাদেশ থেকে রেকড সংখ্যক ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জনকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে পড়েছে ভাটা। ২০১৫ সালে যেখানে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৫২৭০.৯৯ মার্কিন ডলার, সেখানে ২০১৬ সালে তা নেমে আসে ১৩৬০.৭৭ মার্কিন ডলারে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিদেশে ৪৮ শতাংশ কর্মসংস্থান বাড়লেও রেমিটেন্স ২ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে। বেশি লাভের আশায় হুন্ডি ও মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কারণেই রেমিটন্স কমেছে বলে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। তবে রেমিটেন্স বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কারণ বর্তমান সরকারের গত ৮ বছরে ৩৬ লাখ ৩৭ হাজার ৮৬ জন কর্মীকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ কর্মী ৩৫ লাখ ১৩ হাজার ১২০ জন এবং মহিলা কর্মী ৪ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৮ জন রয়েছে। জনশক্তি রফতানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে থেকে বিদেশে ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গেছেন ওমান, সৌদি আরব, কাতারে। এ তিনটি দেশে যথাক্রমে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৭ জন, ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯১৩ জন ও ১ লাখ ২০ হাজার ৩৮২ জন গেছেন। এছাড়া বাহরাইনে ৭২ হাজার ১৬৭ জন, সিঙ্গাপুরে ৫৪ হাজার ৭৩০ জন, মালয়েশিয়ায় ৪০ হাজার ১২৬ জন, কুয়েতে ৩৯ হাজার ১৮৮ জন কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৮ জনই নারীকর্মী। আর ২০১৫ সালে বিদেশে গিয়েছিল ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮১ জন কর্মী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রধান শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যে তেলের দরপতনে অর্থনৈতিক মন্দা, দেশগুলোর মুদ্রার মূল্যমান কমে যাওয়া এবং প্রবাসীদের অবৈধ পথে দেশে টাকা পাঠানোর কারণে রেমিটেন্স কমছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমানে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ লিবিয়ায় কর্মী প্রেরণ বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া সেখানে অবস্থানকারী প্রবাসীরাও ঠিকমতো টাকা না পাঠানোর কারণেও রেমিটেন্স কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া মালয়েশিয়ায় এ মাসেই বড়পরিসরে কর্মী পাঠানোর যে কথা রয়েছে এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে বৃদ্ধির হার ৩৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। তাছাড়া নতুন বাজার হিসেবে ইতোমধ্যে রাশিয়া, অষ্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা গেছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম উইংয়ের কূটনৈতিক তৎপরতায় বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ করা হয়েছে।

ভিসা বাণিজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যসত্বভোগী এবং মন্ত্রণালয়কেন্দ্র্রিক একটি চক্র জাড়িত রয়েছে এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, এমন কোনো চক্রের কথা আমার জানা নেই। কারো কাছ থেকে এ বিষেয়ে লিখিত অভিযোগও আমরা পাইনি। অভিবাসন খরচ না কমার কারণ সাংবাদিকরা জানতে চাইলে প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই উঠে চলে যান নুরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামছুন নাহারও প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য সরকার এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগছে?।

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কী করছে? এর উত্তরে বরাবরের মত মন্ত্রী বলেন, আমরা এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় কোন রিক্রুটিং এজেন্সি বিদেশে কর্মী পাঠাচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী আর কোনো উত্তর না দিয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকেই বের হয়ে যান। এ সময় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামছুন নাহার, অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সেলিম রেজা, ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাসসহ অন্যরা নিশ্চুপ ছিলেন। পরে প্রবাসী কল্যাণ সচিবের কাছেও একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা তো বলবো সবাই এই টাকায় পাঠাচ্ছে। তবে এটা ঠিক যে, দুই প্রান্তেই মধ্যসত্বভোগী আছে। তাদের কারণেই খরচ বাড়ছে। আমরা তাদের তালিকা করছি।

 

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon