সরকারের বড় প্রকল্পে আসতে চায় ইসলামী ব‌্যাংক

অনলাইন ডেস্ক | ২৩:১৯, জানুয়ারি ০৮, ২০১৭

ইসলামী ব‌্যাংকের চেয়ারম‌্যানের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দিন অফিস করার পর সরকারের বড় বড় প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহের কথা বলেছেন আরাস্তু খান।

পরিবর্তনের ধারায় ‘হিন্দু-মুসলমান সকলের অংশগ্রহণে’ এ ব্যাংকের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

রোববার ঢাকার দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংকের সম্পদের পরিমাণ অনেক। এই ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারের বড় বড় প্রকল্পে অর্থায়ন হবে। কারণ সরকার কখনও ঋণ খেলাপী হয় না। তাই মুনাফা কম হলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এসব প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে।”

সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এই বিনিয়োগ করার আগ্রহের কথা তুলে ধরেন কমার্স ব্যাংকের এই সাবেক চেয়ারম্যান, যিনি এক সময় ছিলেন সরকারের সচিব।

দেশের বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব‌্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১ হাজার ৬১০ কোটি টাকা; আর বাজার মূলধন চার হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে ব্যাংকটির নিট মুনাফা ছিল ৩১৫ কোটি।

মালিকানা, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় কয়েক ধাপে পরিবর্তন আনার মধ‌্যে গত বৃহস্পতিবার ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ২৪০তম সভায় শীর্ষ পদেও বড় পরিবর্তন আনা হয়।

চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসেন আরাস্তু খানকে। আর ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের পদ পান আরেক সাবেক সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।
জামায়াতঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ইবনে সিনা ট্রাস্টের প্রতিনিধি হিসেবে এতদিন ইসলামী ব‌্যাংকের এ দুটি পদে ছিলেন মুস্তাফা আনোয়ার। তিনি পরিচালক পদও ছেড়ে দিয়েছেন।

এমডি মোহাম্মদ আবদুল মান্নান স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার পর ডিএমডি মাহবুবুল আলমকে নতুন ভারপ্রাপ্ত এমডি করা হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আজিজুল হকের জায়গায় অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজকে দায়িত্ব দিয়েছে ব‌্যাংক পর্ষদ। ভাইস চেয়ারম‌্যানের অন‌্য পদে ইউসুফ আবদুল্লাহ আল-রাজিই আছেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এসে নতুন চেয়ারম‌্যান বলেন, “পরিবর্তন দেশে হয়, সমাজে হয়। তেমনিভাবে ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টেও পরিবর্তন হয়েছে। তবে এটি শরিয়া সম্মতভাবে চলবে। এর আইনকানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।”

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এর আগে জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংকের বিদেশি অংশীদারদের আগ্রহেই এর নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে।

চেয়ারম‌্যান ও এমডি বদল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ব‌্যাংকের কাজে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

ব‌্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসায় ব্যাংকের কর্মীদের মধ্যে ‘চাকরি হারানোর ভয় কাজ করছে’ মন্তব‌্য করে আরাস্তু খান বলেন, “নতুন ম্যানেজমেন্ট কাউকে ছাঁটাই করবে না। যারা আছে সবাই থাকবে। কেউ অন্য কিছু করলে তাদেরই ছাঁটাই করা হবে।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীর বেশ কয়েকজন নেতার সংশ্লিষ্টতা থাকায় ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবির আন্দোলনকারীরা। জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগ ওঠায় এ ব‌্যাংকে পর্যবেক্ষকও নিয়োগ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব‌্যাংক।

ব‌্যবসার দিক দিয়ে দেশের ‘এক নম্বরে’ থাকা এই ব‌্যাংকের লাভের টাকা কোথায় যায়- তা নিয়ে আগে প্রশ্ন থাকার কথা স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেছেন, জেদ্দায় ইসলামী উন্নয়ন ব‌্যাংকের প্রেসিডেন্ট প্রায় দুই বছর আগে বিষয়টি তার নজরে এনেছিলেন।

এ বিষয়ে আরাস্তু খান বলেন, “আগে ব্যাংকের সিএসআরের অর্থ ব্যয়ে কিছু অনিয়ম হতে পারে। এখন থেকে যথাযথভাবে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।”

এ ব্যাংকে নারীদের অংশগ্রহণ কম মন্তব‌্য করে তিনি বলেন, নারীদের পদোন্নতিসহ আরও নতুন নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

ব্যাংকের নতুন ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আহসানুল আলম পরভেজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আগের বোর্ডের বিষয়ে মানুষ তীর্যক কথা বলত। তাই বোর্ডে পরিবর্তন করা হয়েছে।”



 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon