কমেছে রেমিটেন্স, ব্যাংকিং খাতে বড় চ্যালেঞ্জ : সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮:৩৩, জানুয়ারি ০৭, ২০১৭

 বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়লেও সে অনুপাতে বাড়েনি রেমিটেন্স। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অপব্যবহারের কারণে হুন্ডি ব্যবসা বেড়ে যাওয়ায় রেমিটেন্স কমেছে। তাছাড়া গত অর্থবছরে ব্যাংকিং খাতে বিপুল পরিমাণ অলস তারল্য জমা থাকার পাশাপাশি কু-ঋণ, বড় বড় অর্থ কেলেংকারি এবং রিজার্ভ চুরির ঘটনার কারণে আগামী দিন ব্যাংকিং খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত অর্থবছরের ৬ মাসের পর্যালোচনা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বাজেটে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাস্তব সম্মত নয়। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছরও ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো ঘাটতি থাকবে। এসব সমস্যার সমাধানে চারটি সুপারিশের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ব্যাংকিং খাত সংস্কারে কমিশন গঠন, সরকারি বিনিয়োগের গুণগত মান বাড়ানো, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সংস্কার এবং আগের বছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাকে মানদ ধরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় পরিবর্তন আনা। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অপব্যবহারের মাধ্যমে মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর থেকে হুন্ডির মাধ্যমে অধিক অর্থ দেশে আসছে যা বন্ধ করা জরুরি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ছে, কিন্তু কমছে রেমিটেন্স। এর প্রধান কারণ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে না এসে হুন্ডির মাধ্যমে আসছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে ৫০ শতাংশ টাকা দেশে আসছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে হুন্ডির মাধ্যমে। সিঙ্গাপুরেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেড়েছে হুন্ডির প্রচলন। তাছাড়া বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমেছে। এতে রেমিটেন্সে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিপিডি’র সিনিয়র গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন ও গবেষণা পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্টেট অব দ্যা বাংলাদেশ ইকোনোমিক ইন ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডি’র অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

 

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon