সিন্ডিকেটের কবলে সবজি বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮:৫২, জানুয়ারি ০৬, ২০১৭

রাজধানীর কাঁচা পণ্যের পাইকারি বাজারগুলোর মধ্যে কারওয়ান বাজার অন্যতম। নগরবাসীর বিপুল পরিমাণ সবজির চাহিদার মেটাতে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে প্রতিনিয়ত এ কাচাঁবাজারে আসছে শীতের সবজি। একইসঙ্গে নিজ উদ্যোগে অনেক স্বপ্নে নিয়ে লাভের আশায় রাজধানীতে সবজি নিয়ে আসে গ্রামীণ কৃষকরা।

তবে বাজার সিন্ডিকেটের করণে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামীণ কৃষকরা। সরকারের পক্ষ থেকে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কৃষণদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তেমন কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।

ফলে অসাধু ও অসৎ ব্যবসায়িদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটের কাছে জিন্মি হচ্ছে গ্রামীণ কৃষকরা। শুক্রবার কারওয়ান বাজারে সবজি নিয়ে আসা কয়েকজন কৃষক জানান, অনেক কষ্ট করে একটু লাভের আশায় ঢাকাতে সবজি নিয়ে আসেন। কিন্তু তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা কম থাকায় অনেকটা কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে লোকসান নিয়ে ফিরতে হচ্ছে ঘরে।

শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ সবজির পসরা সাজিয়ে বসে আছেন কৃষকরা। তবে সে পরিমাণ ক্রেতা পাচ্ছেন না তারা। কথা হয় নরসিংদী থেকে ঢাকায় আসা কৃষক আরিফের সাথে। তিনি জানান, অনেক কষ্ট করে সবজি উৎপাদন করি। আর একটু লাভের আশায় সেটা নিয়ে ঢাকাতে আসি। কিন্তু বাজারে যে পরিমান সবজির চাহিদা সেই সেই পরিমান ক্রেতা নেই।

কিন্তু ব্যবসায়ি ঐক্যবন্ধ হয়ে সবজির দাম কম দেখিয়ে সবজির ক্রয় করে। যে কারণে আমরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এবার পণ্য বহন খরচ আর যাতায়াত ভাড়া তুলতে পারব কি না সন্দেহে আছি। তিনি বলেন, ভোরে ক্রেতার পরিমাণ ভালোই ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের মান খারাপ হতে থাকে। আর কমতে থাকে চাহিদা।

ফলে দ্রুত বিক্রির জন্য লাভের আশা ছেড়ে দিয়েছি। লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেই সবজি বিক্রি করছি। মানিকগঞ্জ থেকে সবজি নিয়ে এসেছেন আলিম মিয়া। তিনি বলেন, রাজধানীতে রাত ১২টার মধ্যে পৌঁছুতে না পারলে ভালো দামে সবজি বিক্রি করা যায় না।

কিন্তু দক্ষিণ অঞ্চল থেকে এখানে আসতেই রাত ৩টা পার হয়ে যায়। আবার দৌলদিয়া ফেরি ঘাটে চাঁদা/ঘুষ না দেওয়া পর্যন্ত ট্রাক আটকে রাখে পুলিশ। তিনি বলেন, ভালো দামের আশায় আমরা কয়েকজন কৃষক একসঙ্গে বেগুন, পেঁয়াজের কলি ও শালগম নিয়ে ঢাকায় এসেছি। কিন্তু ভালো দাম না পাওয়ায় সস্তায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজার পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, প্রতি কেজি মূলা পাইকারিতে ৪ টাকা, বেগুন ১২-১৪ টাকা, টমেটো ২৪ টাকা, গাজর ১৪ টাকা, শশা ১৮ টাকা; ঝিঙ্গা ৪২ টাকা, করলা ২২ টাকা, শালগম ৮ টাকা এবং শিম ১৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি বাঁধাকপি ৮ টাকা, ফুলকপি ৮-১০ টাকা আর কাঁচকলা হালি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া প্রতি কেজি কুমড়া ২৫ টাকা, লাউ ৩৫ টাকা, চাল কুমড়া ৮ টাকা, পেঁপে ১০ টাকা, পেঁয়াজের কলি ১০ টাকা, আলু ১৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২২ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২০ টাকা, দেশি রসুন ১৬০ টাকা এবং চীনা রসুন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি আদা ৪২ টাকা, চীনের আদা ৮৫ টাকা এবং থাইল্যান্ডের আদা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে এ দামে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে প্রায় সব সবজির দাম পাইকারি বাজারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।

অর্থাৎ কৃষকরা ক্ষতি নিয়ে ফিরলেও পাইকার এবং খুচরা বিক্রেতারা কয়েকগুণ বেশি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এদিকে চালের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বস্তা (৫০ কেজি) প্রতি বিআর আটাশ ১৯৫০ টাকা, মিনিকেট ২৩০০ টাকা, গুটি স্বর্ণা ১৭০০ টাকা, নাজিরশাইল ২২৫০ টাকা; বাসমতি ২৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নতুন পোলাও চালের বস্তা ৪০০০ টাকা, পুরাতন পোলাও চালের বস্তা ৪৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 



 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon