শিরোনাম

বছরের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম

প্রিন্ট সংস্করণ॥অর্থনৈতিক প্রতিবেদক  |  ০৭:১৫, জুন ০৯, ২০১৯

গত বছর বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তির দিকে ছিল। চলতি বছরের শুরু থেকে এ প্রবণতা আরো জোরালো হয়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। এ ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ মে মাসে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।

এর মধ্য দিয়ে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক গত ১১ মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছে গেছে। জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশনের (এফএও) মাসভিত্তিক ফুড প্রাইস ইনডেক্সে (এফএফপিআই) এ তথ্য উঠে এসেছে। গত মে মাসে বিশ্বব্যাপী শস্য, দুগ্ধ ও আমিষপণ্যের দাম বাড়লেও ভোজ্যতেল ও চিনির দাম কমেছে। খবর এফএও।

এফএফপিআইয়ে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক ছিল ১৬৩ দশমিক ৯ পয়েন্ট। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬৬ দশমিক ৮ পয়েন্ট। মার্চে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক আরো চাঙ্গা হয়ে ১৬৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়। এপ্রিলে তা আরো বেড়ে দাঁড়ায় ১৭০ পয়েন্টে।

চাঙ্গাভাবের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ মে মাসে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৭২ দশমিক ৫ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের মধ্যে এটাই খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান।

শুধু চলতি বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে নয়, বরং গত মে মাসে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছে গেছে। তবে আগের মাসের তুলনায় বাড়লেও এ সূচক মান ২০১৮ সালের মে মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কম ছিল।

চলতি বছরের মে মাসে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। শস্যের গড় সূচক মান আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২ দশমিক ৩ পয়েন্টে। তবে আগের মাসের তুলনায় বাড়লেও ২০১৮ সালের একই সময়ের তুলনায় শস্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক ৬ শতাংশ কম ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বন্যার কারণে গম ও ভুট্টার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার জের ধরে গত মাসে কৃষিপণ্য দুটির গড় দামে চাঙ্গাভাব বজায় ছিল। তবে এ সময় চালের গড় দাম কমতির দিকে ছিল। মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় বাম্পার ফলন ও রফতানিতে মন্দাভাবের কারণে পণ্যটির দাম বাড়েনি। চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধে সয়াবিনের বাজারেও বড় ধরনের চাঙ্গাভাব দেখা যায়নি।

গত মে মাসে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ২২৬ দশমিক ১ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের শুরু থেকে দুগ্ধপণ্যের গড় মূল্যসূচকে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। গত মাসে এ সূচকে বড় ধরনের উল্লম্ফনের পেছনে পনিরের দাম বেড়ে যাওয়া প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। খরার কারণে ইউরোপে তরল দুধের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে বিশ্ববাজারে দুগ্ধপণ্যের দামে চাঙ্গাভাব বজায় রয়েছে।

এ সময় আমিষপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৭০ দশমিক ২ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ২ পয়েন্ট বেশি। চলতি বছরের শুরু থেকেই আমিষপণ্যের বাজারে ধারাবাহিক চাঙ্গাভাব বজায় রয়েছে।

তবে চলতি বছরের মে মাসে ভোজ্যতেল ও চিনির বাজারে মন্দাভাব বজায় ছিল। এ সময় ভোজ্যতেলের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১২৭ দশমিক ৪ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। মূলত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় বাড়তি উৎপাদন ও মজুদের জের ধরে পাম অয়েলের বাজার মন্দার মুখে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ভোজ্যতেলের বৈশ্বিক বাজারেও। সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের বাড়তি দামও এ মন্দাভাব ঠেকাতে পারেনি।

একই চিত্র দেখা গেছে চিনির দামেও। গত মে মাসে চিনির বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৭৬ পয়েন্টে, যা আগের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ কম। বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশ ভারতে আখের বাম্পার ফলন ও বাড়তি চিনি উৎপাদনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দরপতন ঘটেছে। একই সঙ্গে ব্রাজিলের উৎপাদন খাতের চাঙ্গাভাবও চিনির দাম কম রাখার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। আগামী দিনগুলোতেও চিনির দাম কমতির দিকে থাকতে পারে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত