শিরোনাম

স্বস্তি ফিরেছে কাঁচাবাজারে চাহিদা বেড়েছে মাংসের

প্রিন্ট সংস্করণ॥সঞ্জয় অধিকারী  |  ০৩:৪১, মে ২৫, ২০১৯

রোজার শেষদিকে এসে সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। রমজান মাসে সালাদজাতীয় সবজির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু এখন সেগুলোরও দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ডিমের দামও গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনপ্রতি ৫-৮ টাকা কমে গেছে। ফলে কাঁচাবাজার ভোক্তাদের জন্য বর্তমানে স্বস্তি বয়ে এনেছে। তবে কিছুটা বেড়ে গেছে মুরগির দাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বেশকটি বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট, হাতিরপুল ও কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে প্রতিকেজি পটল ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০, বরবটি ৪৫-৫০, কচুর লতি ৪৫-৫০, করলা ৪০-৬০, ঢেঁড়স ৩০-৪০, কাকরোল ৪০-৫০, ঝিঙ্গা ৪০-৫০, কাঁচা পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেশকিছুটা কমে গেছে সালাদজাতীয় সবজির দামও। বিভিন্ন বাজারে শসা ২৫-৪০, গাঁজর ৩০-৪০, পাকা টমেটো ২৫-৩০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়।

তবে একই মানের সবজি কারওয়ানবাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, সেটাই রাজধানীর অন্যান্য বাজারে গেলে কেজিপ্রতি ৫-১৫ টাকা বেড়ে যায়। এ বিষয়ে কারওয়ানবাজারের সবজি বিক্রেতা নুরে আলম বলেন, তাদের পরিবহন খরচ না হওয়ায় অন্যদের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি করতে পারেন।

একই কথা বলেন, মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচা বাজারের বিক্রেতা মাহতাব উদ্দিন। তবে এর সাথে তিনি আরও একটি বিষয় যোগ করেন। তিনি জানান, কারওয়ানবাজার থেকে সবজি কিনে বের হওয়ার সময় কয়েক জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। ফলে তাদের গড় খরচ অনেক বেড়ে যায়। সেজন্য কিছুটা বেশি দামে তাদের বিক্রি করতে হয়।

হাতিরপুল বাজারে কথা হয় সেখানে বাজার করতে আসা ইব্রাহিম রেজোয়ানের সঙ্গে। তিনি বলেন, সবজির দাম এখন কিছুটা কমেছে। তবে এখন গ্রীষ্মকালীন সবজির ভরা মৌসুম। সেই হিসেবে আরও কম হওয়ার কথা। সেটা হচ্ছে না। আর সিটি কর্পোরেশন থেকে একটি মূল্যতালিকা টাঙিয়ে দেয়া আছে। কিন্তু সেটাও আড়াল করে রেখেছে বিক্রেতারা। অনেকেই সেটা মানছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহের তুলনায় মাংসের চাহিদা হঠাৎ করেই বেশ বেড়ে গেছে। তবে আগে থেকেই নির্ধারণ করে দেয়ায় গরু ও খাসির মাংস মোটামুটি নির্ধারিত দামের কাছাকাছিই বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৫২৫-৫৫০ টাকা কেজি আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি।

তবে এ সপ্তাহে মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকার মতো বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫-১৬০ টাকা কেজি দরে। আর লাল লেয়ার মুরগির দাম উঠে গেছে ২০০ টাকার ওপরে। পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২৬০ টাকা কেজি।

তবে ডিমের দাম আরও একটু কমেছে। প্রতি ডজন ডিমে ৫-৮ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়। বাজারে পেঁয়াজ ও চিনির দামও স্থিতিশীল রয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা দরে। আর চিনির দামও কেজিপ্রতি ৫০-৫৫ টাকা চলছে।

এদিকে, মাছের বাজারে কোনো সুখবর নেই। সব ধরনের মাছের দামই এখনো আগের মতোই চড়া। গত কয়েক মাস ধরেই মাছের দাম বাড়তি রয়েছে। গতকাল দেখা গেছে, প্রতি কেজি তেলাপিয়া মাছ ১৬০-১৮০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৫০-১৮০, রুই ৩০০-৬০০, পাবদা ৬০০-৭০০, টেংরা ৬০০-৮০০, শিং ৫০০-৬০০, বোয়াল ৫০০-৮০০, চিংড়ি ৬০০-৮০০ এবং চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৮০০ টাকায়।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত