শিরোনাম

বাংলালিংক অধিগ্রহণ করছে রিলায়েন্স জিও

প্রিন্ট সংস্করণ॥অর্থনৈতিক প্রতিবেদক  |  ০৩:৩৭, এপ্রিল ০৭, ২০১৯

দেশের তৃতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর কোম্পানি বাংলালিংক বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ধারাবাহিক লোকসানের মুখে বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিয়ন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে ভারতীয় রিলায়েন্স জিও বাংলালিংক অধিগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতে রিলায়েন্স জিও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে কোম্পানিটি ইর্ষণীয় সাফল্য এনেছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তা জানান, বাংলালিংক কিনতে ভারতের রিলায়েন্স জিও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি জানান, অনেক দিন ধরেই ভারতীয় একটি কোম্পানি বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগে আসছে বলে শোনা যাচ্ছিল। এমনকি ফোরজি চালুর আগেও এমন কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। আবার ভারতীয় টেলিযোগাযোগ কোম্পানি এয়ারটেল বাংলাদেশের মার্কেটে টিকতে না পেরে রবি আজিয়াটার সঙ্গে একীভূত হয়েছে। সুতরাং টেলিযোগাযোগ খাতে কখন কি হয় তা সুনির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। এক হিসাব থেকে দেখা গেছে, বাংলালিংক মুনাফা করতে পারছে না এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। সর্বশেষ তারা ২০১৫ সালে একটি প্রান্তিকে মুনাফা করতে সক্ষম হয়েছিল। ভিয়নের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির আয় কমেছিল ৪ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। এদিকে, বিশ্বব্যাপী ইমেজ হারাচ্ছে বাংলালিংক ও এর মূল কোম্পানি ভিয়ন। ডিজিটাল রূপান্তর প্রকল্প ভুল নীতিই প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিজিটাল রূপান্তর করতে গিয়ে কোম্পানিটি বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী চাকরিচ্যুত করেছে দুই হাজার কর্মী। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ৮০০ কর্মী। নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও বছরের পর বছর বাংলালিংক লাভের মুখ দেখছে না। অন্য অপারেটরদের সঙ্গে গ্রাহক প্রতি আয়ের দৌড়েও পিছিয়ে পড়েছে বাংলালিংক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে গ্রাহকপ্রতি গ্রামীণফোনের আয় ছিল ১৬৭ টাকা। একই সময়ে গ্রাহকপ্রতি রবির আয় ১২৩ আর বাংলালিংকের আয় ছিল ১১১ টাকা। ২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) গ্রামীণফোনের গ্রাহকপ্রতি আয় ছিল ১৫৬ টাকা। ওই সময় রবির আয় কমে হয়েছে ১১৭ টাকা এবং বাংলালিংকের আয় হয়েছে ১০৯ টাকা।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত