শিরোনাম

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে খরচ বাড়ছে ১১১ কোটি টাকা

প্রিন্ট সংস্করণ॥অর্থনৈতিক প্রতিবেদক  |  ০২:১৩, মার্চ ২৩, ২০১৯

তিন বছরের মাথায় আমদানি রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিচালন মাশুল বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ডিপোর মালিকেরা বলছেন, ১ এপ্রিল থেকে এই বর্ধিত মাশুল কার্যকর করা হবে। বাড়তি মাশুল কার্যকর হলে তাতে আমদানি রপ্তানিতে বছরে খরচ বাড়বে ১১১ কোটি টাকার বেশি। তবে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি হওয়া সব কনটেইনার পণ্যে এই মাশুল কার্যকর হবে না। বন্দরের পরিবর্তে যেসব আমদানি রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনারের পরিচালন কাজ ডিপোতে করা হয়, সেগুলোতে এই বর্ধিত মাশুল কার্যকর হবে। বর্তমানে রপ্তানি পণ্যের ৯০ শতাংশ ডিপোর মাধ্যমে কনটেইনারে বোঝাই হয়। আর ৩৭ ধরনের আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে নামানোর পর ডিপোতে নিয়ে খালাস করতে হয়। এর পরিমাণ মোট আমদানির ২১ শতাংশ। অর্থাৎ রপ্তানিতে ৯০ শতাংশ এবং আমদানিতে ২১ শতাংশ পণ্যে ১ এপ্রিল থেকে বর্ধিত মাশুল দিতে হবে। ডিপো ব্যবহারকারীরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পালাক্রমে গ্রাহকদের কাছে একই ধরনের চিঠি দিয়ে মাশুল বাড়ানোর কথা জানিয়েছে চট্টগ্রামের ১৯টি কনটেইনার ডিপো। আমদানি রপ্তানি ও খালি কনটেইনারের পরিচালনকাজের জন্য ২১ ধরনের মাশুল আদায় করে ডিপোগুলো। এর মধ্যে আগামী ১ এপ্রিল থেকে ১২ ধরনের মাশুল বাড়ানোর কথা বলেছে ডিপোগুলো। তাতে আমদানি রপ্তানিতে গড়ে ব্যয় বাড়বে ২১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এর আগে ২০১৬ সালের মার্চে ১৩ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল বাড়ানো হয়েছিল। প্রতিবার ভাড়া বাড়ানোর সময় ‘বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন’ (বিকডা) থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এবার সমিতি থেকে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রতিটি কনটেইনার ডিপো আলাদাভাবে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা জানিয়ে চিঠি দিয়েছে গ্রাহকদের। তবে ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো বা আইসিডি নীতিমালা অনুযায়ী, সেবার মাশুল বাড়াতে হলে কমিটির মাধ্যমে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হয়। নীতিমালার বাইরে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বিকডার সভাপতি নুরুল কাইয়ূম খান বলেন, ২০১৬ সালের শুরুর দিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সব পক্ষের উপস্থিতিতে সর্বশেষ ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। তখন ৪০ শতাংশের পরিবর্তে ১৩ থেকে ২৫ শতাংশ ভাড়া কার্যকর করা হয়েছিল। সে সময়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ছয় মাস পর বাকি বাড়তি ভাড়া কার্যকর হবে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ ভাড়া না বাড়ানোর কারণে তিন বছর পর ডিপো মালিকেরা ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। শ্রমিকের মজুরিসহ পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডিপোর মালিকেরা এখন পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন।কনটেইনার ডিপোর ব্যবহারকারী হিসেবে রয়েছে চারটি পক্ষ। আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, বিদেশি ক্রেতা এবং কনটেইনার মালিকপক্ষ। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, মাশুল বাড়াতে হলে নিয়ম অনুসরণ করে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই বাড়াতে হবে। তা না হলে এই খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। বিজিএমইএর বন্দর ও জাহাজীকরণবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রতিটি ডিপো যেভাবে গ্রাহকদের চিঠি দিয়ে মাশুল বাড়ানোর কথা বলেছে, তাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। ডিপোর সংগঠন বিকডা যদি নিয়মের বাইরে গিয়ে সদস্যদের দিয়ে এভাবে মাশুল বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, তাহলে সংগঠনটি অকার্যকর হয়ে গেল। রপ্তানি পণ্য বিদেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম বলেন, এই বাড়তি ভাড়া কার্যকর হলে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, বিদেশি ক্রেতা, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বাড়বে।রপ্তানিতে ছয় ধরনের মাশুল বাড়ানো হয়েছে। গত বছরের কনটেইনার পরিবহনের হিসাব অনুযায়ী, ছয় খাতে মোট মাশুল বাড়বে ৭৫ কোটি টাকা। এই টাকা গুনতে হবে দেশীয় রপ্তানিকারক, বিদেশি ক্রেতা এবং বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য পরিবহনের প্রতিনিধি হিসেবে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানকে। আবার ৩৭ ধরনের আমদানি পণ্য ডিপো থেকে খালাসে বাড়তি ব্যয় হবে ২৫ কোটি টাকা। গত বছর বন্দর থেকে ২ লাখ ৯২ হাজার কনটেইনার (প্রতিটি ২০ ফুট লম্বা ধরে) চট্টগ্রামের ১৮টি ডিপোতে নিয়ে খালাস করা হয়। কনটেইনারের আকারভেদে মাশুল বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা। এতে বছরে বাড়বে অন্তত ২৫ কোটি টাকা। এই টাকা দেশীয় আমদানিকারকেরা পরিশোধ করবেন। এ ছাড়া খালি কনটেইনারেও বাড়তি টাকা পরিশোধ করতে হবে। খালি কনটেইনার ওঠানো নামানো ও সংরক্ষণ খাতে বছরে বাড়তি ব্যয় হবে ১১ কোটি টাকা। এই টাকা দিতে হবে কনটেইনারের মালিকপক্ষ বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে। বছরে খরচ বাড়বে ১১১ কোটি টাকা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত