শিরোনাম

চীনা ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে দুশ্চিন্তায় শেয়ারহোল্ডাররা

প্রিন্ট সংস্করণ॥অর্থনৈতিক প্রতিবেদক  |  ০২:১২, মার্চ ২৩, ২০১৯

বহুল কাক্সিক্ষত চীনা তহবিলের অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডাররা। এরই মধ্যে সেই অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছেন তারা। কিন্তু অর্থ বিনিয়োগ করে তারা হোঁচট খেয়েছেন, কারণ এর অর্থ বাজারে এনে এরই মধ্যে লোকসানে পড়েছে সিংহভাগ ব্রোকারেজ হাউজ। ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করেও প্রতিদিনই লোকসানের হিসাব কষতে হচ্ছে তাদের। ইতোমধ্যে অনেকেরই বিনিয়োগ করা অর্থের ৩০ শতাংশ পুঁজি উধাও হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে। হাউজ-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যায়, বিনিয়োগযোগ্য ও ভালো মানের শেয়ারে বিনিয়োগ করেও সুফল পাচ্ছেন না তারা। লাভের বদলে প্রতিদিনই হচ্ছে লোকসান। কেউ কেউ এই অর্থে কর সুবিধা নেওয়াকে ভুল বলে আখ্যায়িত করছেন। তাদের অভিমত, ১০ শতাংশ কর ছাড়ের চেয়ে এখনও আমাদের লোকসান বেশি হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্রোকারেজ হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, চীনা তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করে এরই মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় আমাদের লোকসানের মাত্রা আরও বেশি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এখন মনে হচ্ছে, ১৫ শতাংশ কর দিয়ে এই অর্থ অন্য খাতে বিনিয়োগ করা ভালো ছিল। তিনি বলেন, আমি যে শেয়ারগুলোয় বিনিয়োগ করেছি, সবই মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি। এখানে রয়েছে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার। কিন্তু এর পরও লোকসান রোধ করতে পারিনি।
একই ধরনের তথ্য মিলেছে আরও কয়েকটি হাউজ থেকে। অনেকেই এরই মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা লোকসানে পড়েছেন। তারা বলেন, বাজারে এখনও ছোট ছোট কোম্পানির শেয়ার নিয়ে খেলা হচ্ছে। এই তালিকায় রয়েছে আরও কিছু দুর্বল ও ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানি। এসব কোম্পানির দৌরাত্ম্য থাকায় ভালো শেয়ারগুলোর দর বাড়ছে না। ফলে পুঁজিবাজারও তার স্বরূপে ফিরতে পারছে না। এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি নিতেই হবে। আর সব সময় ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে পুঁজি নিরাপদ হবে, এমন কোনো কথা নেই। কারোরই এটা ভাবা উচিত নয়। তবে সময়ের ব্যবধানে ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে লোকসান উতরে যাওয়া যায়। এর আগে গত বছর কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে পাওনা অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্তে ১০ শতাংশ করছাড়ের প্রজ্ঞাপন জারির পর ডিএসই এ অর্থ বিতরণ শুরু করে। চীনের কনসোর্টিয়াম জোটটিকে ডিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে ২০১৮ সালের ৩ মে অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসি’র অনুমোদনের পর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে ১৪ মে চীনা জোটের সঙ্গে চুক্তি হয়। এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, বর্তমানে বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো নয়, সে কারণে প্রায় সবাই লোকাসানে রয়েছেন। এখানে ছোট-বড় বিনিয়োগকারী বলে কিছু নেই। হাউজ মালিকেরা যদি ভালো মানের শেয়ারে বিনিয়োগ করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে তাদের চিন্তা করার কিছু নেই। কারণ ধৈর্য ধারণ করলে ভালো শেয়ার থেকে রিটার্ন আসবেই। কিছু শর্ত সাপেক্ষে চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো, যাবতীয় কার্যক্রম সিকিউরিটিজ আইন ও দেশের প্রযোজ্য অন্যান্য আইনসহ ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন ২০১৩ এবং ডিএসইর ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম অনুযায়ী পরিপালন করতে হবে। এ চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করে কমিশনকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া কমিশনের পূর্ব-অনুমোদন ছাড়া শর্তাবলির আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয় পরিবর্তন করা যাবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত