শিরোনাম

স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্সের আবেদন শুরু

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক  |  ১১:৩৮, মার্চ ১৯, ২০১৯

পাঁচ লাখ টাকা ফি দিয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ এবং এক কোটি টাকা মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরুর শর্তে অনুমোদিত পরিবেশকের মাধ্যমে সরাসরি স্বর্ণ আমদানি ও বিক্রির জন্য স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্স বিতরণ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) থেকে আবেদনপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে।

‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮’ অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক, ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, যৌথ মালিকানায় বা লিমিটেড কোম্পানি ‘অনুমোদিত স্বর্ণ পরিবেশক’ হওয়ার আবেদন করতে পারবেন। পরিবেশক হতে আগ্রহী ব্যবসায়ীদের পাঁচ লাখ টাকা ফি জমা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

স্বর্ণ আমদানি ও ব্যবসা করার জন্য প্রত্যেক উদ্যোক্তার এক কোটি টাকা মূলধন থাকতে হবে। এই পরিমাণ অর্থ থাকলে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরেই আবেদন করা যাবে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, আমদানিকারকরা মাসের শুরুতে স্বর্ণের হিসাব মূসক কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করবেন। স্বর্ণমান যাচাইয়ের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে হলমার্ক ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং খাদের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করতে হবে।

অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের ক্ষেত্রে দিতে হবে আবেদনপত্রের সঙ্গে অনুমোদিত ডিলারের লাইসেন্সের কপি, ব্যাংক লাইসেন্সের কপি, স্বর্ণ ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণ আদেশ-১৯৮৭ আওতায় লাইসেন্সের কপি, অফিসের মালিকানা বা ভাড়ার চুক্তিনামার কপি, আবেদনকারী অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ জনবল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার সংক্রান্ত বিবরণীর উপযুক্ত প্রমাণাদি। দিতে হবে অফেরতযোগ্য ৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আবেদনের সঙ্গে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের কপি; কর শনাক্তকরণ নম্বরের (টিআইএন) সনদপত্র, মূল্য সংযোজন করের (মূসক) নিবন্ধন, ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বরের (বিআইএন) সনদপত্র, স্বর্ণ ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণ আদেশ ১৯৮৭ আওতায় লাইসেন্সের কপি, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যপদের কপি; আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের সার্টিফিকেট-আয়কর নির্ধারণী আদেশের কপি; আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছলতা সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের তফসিলভুক্ত ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সনদপত্র; আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক-অংশীদার-পরিচালকদের বিস্তারিত তথ্যসহ উপযুক্ততা ও যথার্থতা সম্পর্কে পুলিশ ছাড়পত্র, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তফশিলভুক্ত ব্যাংকের গোপন প্রতিবেদন, আয়কর পরিশোধ প্রত্যয়নপত্র এবং ঋণ প্রতিবেদন (সিআইবি রিপোর্ট); আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ছবিসহ জীবন বৃত্তান্ত; আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত লিমিটেড কোম্পানি হলে উক্ত কোম্পানির নিবন্ধন সনদ, মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন এবং আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশনের কপি; অফিস স্থানের মালিকানা দলিল বা ভাড়া করা অফিস হলে চুক্তিনামার কপি; লাইসেন্স ফি বাবদ মহাব্যবস্থাপক, বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা এর নামে ৫ লাখ টাকার (অফেরতযোগ্য) পে-অর্ডার-ব্যাংক ড্রাফট; এবং ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত বিবরণীসহ আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যোগাযোগ-তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে বিবরণী (উপযুক্ত প্রমাণাদিসহ)।

লাইসেন্সের মেয়াদকাল ইস্যুর তারিখ হতে দুই বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগে ডিলার ব্যাংককে ২ লাখ টাকা নবায়ন ফি (অফেরতযোগ্য) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের দেশে প্রচলিত আইনের আওতায় প্রযোজ্য অন্য সব ধরনের লাইসেন্স-নিবন্ধন-সনদপত্র ইত্যাদির হালনাগাদ কপি।

অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক গোল্ড ডিলার লাইসেন্স কোনো অবস্থাতেই হস্তান্তরযোগ্য করতে পারবে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে অন্যান্য বিধিবিধান পরিপালন সাপেক্ষে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান তার ব্যবসায়িক স্থান পরিবর্তন করতে পারবে; লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার আমদানি করার জন্য আবশ্যিকভাবে আমদানি নীতি আদেশ ও অন্যান্য আমদানি বিষয়ক আইন/বিধি পরিপালন করতে হবে; লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক স্বর্ণ ব্যবসার জন্য প্রস্তাবিত কার্যস্থলে অন্য কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না; লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত চাহিদার বিপরীতে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার আমদানির আগে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক প্রত্যেক চালানভিত্তিক স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কারের আমদানি চাহিদা ও পরিশোধিতব্য বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। এ বিবেচনায় অনুমোদিত গোল্ড লাইসেন্স প্রাপ্তি প্রতিক্ষেত্রে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার আমদানির অনুমতি নিশ্চিত করে না; স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রদেয় অনুমোদনপত্রে উল্লিখিত শর্তাদি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান পরিপালন করবে।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও গোল্ড ডিলার লাইসেন্স কোনো অবস্থাতেই হস্তান্তর করতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে অন্যান্য বিধিবিধান পরিপালন সাপেক্ষে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান তার ব্যবসায়িক স্থান (শুধু ইস্যু করা লাইসেন্সের ঠিকানায় উল্লিখিত সিটি কর্পোরেশন-পৌরসভার মধ্যে) পরিবর্তন করতে পারবে।

লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার আমদানি করার জন্য আবশ্যিকভাবে আমদানি নীতি আদেশ ও অন্যান্য আমদানি বিষয়ক আইনবিধি পরিপালন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কাস্টমস্ অ্যাক্ট-এর বিধান অনুসরণ করে বন্ড লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে; লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান স্বর্ণ ব্যবসার জন্য প্রস্তাবিত কার্যস্থলে অন্য কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না; চাহিদা মোতাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে; লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত চাহিদার বিপরীতে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার আমদানির আগে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রত্যেক চালানভিত্তিক স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা ও পরিশোধিতব্য বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। অলঙ্কার রফতানি স্কিমের অধীনে স্বর্ণ রফতানির লক্ষ্যে স্বর্ণবার আমদানি অলঙ্কার রফতানি স্কিমের আওতায় বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সপ্রাপ্ত রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ব্যাক টু ব্যাক ব্যবস্থায় স্বর্ণবার আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় নীতি-২০১৮ এর ৬ষ্ঠ অধ্যায়ের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদের নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক লাইসেন্স প্রদান-প্রত্যাখ্যান ও পরিদর্শনের ক্ষমতা লাইসেন্স ইস্যুর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারী ব্যাংক-প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে পরিদর্শনের এবং কোনো অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান বা প্রত্যাখানের ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংক সংরক্ষণ করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত