শিরোনাম

সবজির দাম কমার সম্ভাবনা নেই

প্রিন্ট সংস্করণ॥এনায়েত উল্লাহ  |  ০১:২১, মার্চ ১৬, ২০১৯

রাজধানীর সবজি বাজারগুলোতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দাম বাড়ছে। তবে গত সপ্তাহে হঠাৎ করে সবজির দাম ব্যাপকহারে বেড়েছে। যার প্রভাব এখনো রয়েছে। সবজি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যে সব সবজির দাম বেড়েছে তা কমার সম্ভাবনা নেই। তবে কিছু সবজি নতুন বাজারে এসেছে সেগুলোর দাম কয়েকদিন পর কমবে। তবে যে সমস্ত সবজি পুরাতন সেগুলোর দাম কমার সম্ভাবনা নেই। বর্তমান বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার কাছাকাছি। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বর্তমান সময় খুব খারাপ যাচ্ছে বলে জানান তারা। গতকাল রাজধানীর কারওয়ানবাজার, যাত্রাবাড়ী, শ্যামবাজার, রামপুরা, শান্তিনগর, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবচেয়ে দামি সবজির তালিকায় রয়েছে বাজারে নতুন আসা বরবটি। গত সপ্তাহের মতো বাজার ও মানভেদে বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা কেজি দরে। এর কাছাকাছি দামের মধ্যে রয়েছে পটোল ও করলা। বাজার ও মানভেদে বিভিন্ন বাজারে পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজিতে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে করলা। সপ্তাহের ব্যবধানে এই সবজি দুটির দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়াও বরবটি, পটোল, করলার মতো স্বস্তি মিলছে না ঢেঁড়স, কচুর লতি, লাউ, ফুলকপি, শিম, ধুন্দুলের দামেও। এসব সবজির দামও রয়েছে ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে বাজার ও মানভেদে ৬০-১০০ টাকা কেজিতে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি। গত সপ্তাহের তুলনায় দুটির দাম কেজিতে কমেছে ১০ টাকা। শিমের দামে পরিবর্তন আসেনি। গত সপ্তাহের মতো ৬০-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে লাউ, ফুলকপি ও ধুন্দুলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া লাউ এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। ৩০-৪০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা পিস। ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজিতে। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে বেগুন, মুলা ও শালগম। গত সপ্তাহে ২০-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম বেড়ে ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০-৩০ টাকা। আর শালগম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজিতে। যাত্রাবাড়ী বাজারে সবজি কিনছেন বেসরকারি চাকরিজীবী ইলিয়াছ হোসাইন। কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেশি। পরিবারে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটার প্রয়োজন সেটা হচ্ছে সবজি। আর তার দাম যদি এত বেশি থাকে তাহলে আমাদের মতো ছোট চাকরিজীবীদের পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকা খুবই মুশকিল। আমরা সরকারের কাছে আশা প্রকাশ করব, যেন তারা সবাজি বাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের দিকে লক্ষ করে। তবে চড়া দামের বাজারে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, পাকা টমেটো, শশা ও গাজর। পেঁপে আগের মতোই ২০-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ও মানভেদে পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২৫-৪০ টাকা কেজি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা কেজি। আর গত সপ্তাহে ৬০-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া শসার দাম কমে ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। চড়া বাজারে দাম কমার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে দেশি পেঁয়াজ। সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা কমেছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা কেজি। তবে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ আগের মতোই ২০-২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। পেঁয়াজ ও মরিচে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ ও মাংসের দামে ক্রেতারা অসন্তুষ্ট। কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তে থাকা ব্রয়লার মুরগির দাম আপাতত স্থির হয়েছে। আগের সপ্তাহের মতো বাজার ভেদে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকা কেজি। ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে লাল লেয়ার ও পাকিস্তানি কক মুরগি। লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা কেজি। আর পাকিস্তানি কক মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০-২৮০ টাকা। গরুর মাংসের কেজি আগের মতোই ৫০০-৫২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা কেজি। এ ব্যাপারে কাপ্তানবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী সজিবের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এ সপ্তাহে মুরগির দাম বাড়েনি। আমদানি ঠিক আছে। আর আমদানি ঠিক থাকলে মুরগির দাম বাড়ে না। যখনই ব্রয়লার ফার্মগুলো মুরগ সঠিকভাবে সরবরাহ করতে না পারে, তখনই বাজারে দাম বাড়ে। মাংসের সাথে সাথে মাছের দামও রয়েছে গত সপ্তাহের মতো। বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের মতো সব থেকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে তেলাপিয়া। এই মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকা কেজি। পাঙ্গাশ মাছ বিক্রি ১৬০-১৮০ টাকা, রুই মাছ ৩৫০-৬০০ টাকা, পাবদা মাছ ৬০০-৭০০ টাকা, টেংরা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা। শিং মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৫০০-৮০০ টাকা, চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৮০০ টাকা কেজি। সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী বরকত উল্লাহ বলেন, শীতের সবজি প্রায় শেষ হয়ে গেছে। যে কারণে ফুলকপি, শিম, লাউয়ের দাম বাড়তি। আর পটোল, বরবটি, ঢেঁড়স বাজারে নতুন আসায় দাম একটু বেশি। কিছুদিন গেলে এগুলোর দাম কমে যাবে। তবে অন্যান্য সবজির দাম কমার খুব একটা সম্ভাবনা নেই। তবে সাধারণ মানুষ মনে করে সবজির দাম এরকম বাড়তি থাকলে তাদের জীবনযাত্রার মান অনেক খারাপ হয়ে যাবে। তারা মনে করেন, তাদের সমপর্যায়ে যারা চাকরি করে, তাদের অধিকাংশেরই বেতন ১৫-২০ হাজার টাকার মধ্যে। কিছু রয়েছে যারা ২০-৩০ হাজার টাকা বেতন পান। সেখান থেকে বাসা ভাড়া বাবদ প্রায় ১০ হাজার টাকা চলে যায়। এর মধ্যে বাচ্চাদের পড়ালেখাসহ সব মিলিয়ে বাকি টাকায় চলতে হয়। এর মধ্যে যদি সবজি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এত বেশি হয় তাহলে চলা খুবই মশকিল। তারা এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সাধারণ মানুষ মনে করে সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং না হওয়ার কারণে বাজারের এ অবস্থা। ব্যবসায়ীদের যখনই মন চায় তখনই তারা নিজেদের মতো করে দাম বাড়িয়ে দেয়। সরকার যদি বাজার মনিটরিং শক্ত করে তাহলে তারা সেটা পারবে না। আমরা এ দেশের নাগরিক হিসেবে আশা রাখব সরকার আমাদের দাবিগুলো সম্মানের সাথে দেখবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত