শিরোনাম

পূর্বধলায় আ.লীগ ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ২

শফিকুল আলম শাহীন, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি  |  ২৩:১০, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯

নেত্রকোনার পূর্বধলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহীপ্রার্থীর (স্বতন্ত্র) সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর দুই সমর্থক যুবলীগ নেতা প্রদীপ কুমার (৩৫) ও জুয়েল মিয়া (৩২) নামের দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

শনিবার (২৩ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পূর্বধলা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, পূর্বধলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের বিবদমান দুটি গ্রুপ রয়েছে। এর একটির নেতৃত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। অপরটি নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল (বীর প্রতিক)।

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান আহমদ হোসেনের সমর্থক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন। অবশ্য জাহিদুল ইসলাম সুজন আগে ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল গ্রুপে ছিলেন। তিনি সম্পর্কে সাংসদের ভাগ্নে হন।
বছর খানেক ধরে জাহিদুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে সাংসদের মনান্তর হওয়ায় সাংসদ সমর্থিতরা সুজনের বাস ভবনে হামলা করে। এতে তিনি আহমদের সমর্থক হন।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক ও সাংসদের সমর্থক মাসুদ আলম তালুকদার টিপু। এক সময় সাংসদের সঙ্গে তারও মনান্তর হয়েছিল। দীর্ঘ দিন তিনি ছিটকে সাংসদ থেকে দূরে থাকার পর আবারও তাদের সমম্বয় হয়। উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর সাংসদ বেলাল বিভিন্ন সভা সমাবেশে চ্যালেঞ্জ ছঁড়ে মারেন সুজনকে।

কিন্তু বিধিবাম একজন সফল উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নিজ যোগ্যতায় নৌকার মনোনয়ন পান জাহিদুল ইসলাম সুজন। এতে সাংসদ প্রকাশ্যে নৌকার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক মাসুদ আলম তালুকদার টিপুকে সমর্থন দেন। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

মাসুদ আলম টিপুর সমর্থকরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগের মনোননীত প্রার্থী জাহিদুল ইসলামের লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ আলমের কয়েকটি নির্বাচনী কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর ও ব্যনার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে ও কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের ওপর হামলা করে। এর জের ধরে শনিবার বিকেলে পূর্বধলা বাজারে টিপুর সমর্থকরা সুজনের দুই সমর্থকের ওপর হামলা করে।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ আলমের কয়েকটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর ও কর্মী-সমর্থকের ওপর হামলার ঘটনায় তার সমর্থক উপজেলা সদরের ইলাশপুর গ্রামের জুয়েল মিয়া বাদী হয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে সুজন সমর্থক উপজেলা সদরের বালিকা বিদ্যালয় রোডের শাহ মোস্তাফিজুর রহহমান রাজিবকে প্রধান আসামী করে ৪১ জনের নামসহ ও অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনকে আসামী করে একটি ও বাড়হা গ্রামের নূরুল আমিন বাদী হয়ে একই গ্রামের তোতা মন্ডলকে প্রধান আসামী করে ৩১ জনের নামে থানায় অপর একটি মামলা দায়ের করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত