শিরোনাম

ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস : থামছেই না বেপরোয়া চক্র

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০১:২৯, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯

ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্র থামছেই না। একের পর এক গ্রেপ্তার হলেও তাদের পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। এসব প্রতারকচক্র গ্রেপ্তার হয়ে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার একই কাজে নিয়োজিত হয়। এরকম একটি প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের একজনের নাম আবদুল্লাহ ফাহিম (২০)। গত ২০১৮ সালে এসএসসির ভুয়া প্রশ্নপত্রসহ র‌্যাব-৭-এর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল সে।চট্টগ্রামের চকবাজার থানায় এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সে এবার একই অভিযোগে রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। আর তার চক্রের আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো মো. শামীম আহম্মেদ (১৯), মো. নবীন আলী (২২) ও ১৭ বছরের এক কিশোর। গতকাল বুধবার গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। আর এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় একটি মামলা হয়েছে।মশিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এবারের এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী একটি চক্র বিভিন্ন জেলা থেকে এসে ঢাকায় মিলিত হবে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ফকিরাপুল জোনাকি (আবাসিক) হোটেলের সামনে থেকে ২০১৯ সালের এসএসসি প্রশ্নফাঁস চক্রের চার সদস্যকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ নেয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ ফাহিম পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষার, বিভিন্ন চাকরির, মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষার মার্কশিট ও পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তন চক্রের সঙ্গেও সে জড়িত। ওই চক্রের সঙ্গে প্রায় ৫০০ জন জড়িত। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র দেয়ার কথা বলে বা রেজাল্ট পরিবর্তনের কথা বলে ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিকাশ এজেন্ট নম্বরের মাধ্যমে হাতিয়ে নিত। গ্রেপ্তারকৃত শামীম আহম্মেদ পুলিশের কাছে জানিয়েছে, গত ২০১৮ সাল থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত সে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস করে থাকে। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভুয়া প্রশ্নপত্র দেয়ার নাম করে বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিত। তার গ্রুপের সদস্য সংখ্যা তিন শতাধিক।গ্রেপ্তারকৃত ১৭ বছরের কিশোর জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া নবীন তার চাচাতো ভাই। নবীনের সঙ্গে কাজ করত সে। গ্রুপের সদস্যদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নবীনকে সরবরাহ করার দায়িত্ব ছিল তার। নবীন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতারণা করে ভুয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে বিকাশ এজেন্ট নম্বরের মাধ্যমে ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিত। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত