শিরোনাম

ভিকারুননিসার আন্দোলন স্থগিত, পরীক্ষা দেবে শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৮:৪৮, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় ছাত্রী ও অভিভাবকদের আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার (০৭ডিসেম্বর) থেকে পরীক্ষা দেবে শিক্ষার্থীরা এবং ক্লাসে ফিরে যাবে তারা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার (০৬ডিসেম্বর) তিনটা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শিক্ষক এবং গভর্নিং বডির সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘আমাদের দাবি প্রায় সবগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের ছয় দফার মধ্যে ১ ও ৫ দফা তদন্তের বিষয় স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। এগুলো মন্ত্রণালয় ও সরকারের ব্যাপার, তদন্তের ব্যাপার। তবে ২, ৩, ৪ ও ৬ দফা স্কুল কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে। এজন্য সময় দিতে হবে। ‘আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি। কাল থেকে আমরা পরীক্ষায় অংশ নেবো।’

এর আগে প্রায় দুই ঘণ্টা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকেরা আলোচনা করেন। তবে দীর্ঘক্ষণ স্কুলের ভেতর থেকে বের না হওয়ায় বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকেরা ক্ষেপে যান। অভিভাবকেরা জোর করে গেটের ভেতরে ঢুকে যান। পরে শিক্ষার্থীরা বের হওয়া শুরু করে। তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী জানায়, ভেতর থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে। তারা জানায়, তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষের আয়ত্তের মধ্যে যেগুলো তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিক্ষকেরা। আর অন্যান্য দাবি যেগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় চলছে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বলার কিছু নেই। দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কারণেই শিক্ষার্থীরা শুক্রবার থেকে পরীক্ষা দেবে।

এর আগে দুপুরের দিকে গণমাধ্যমের কাছে অরিত্রির মা-বাবার কাছে পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘আমরা মর্মাহত। আমরা এ ঘটনায় জন্য অরিত্রির বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চাই।’ অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো বেশ কিছু ছাত্রী বেইলি রোডে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মূল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। ছাত্রীরা জানায়, তারা যে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে, তার মধ্যে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। এতে তারা সন্তুষ্ট। বাকি দাবিগুলোরও বাস্তবায়ন চায় তারা।

এর আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রিন্সিপাল (ভারপ্রাপ্ত) নাজনীন ফেরদাউসসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্দেশে বরখাস্ত করা হয় প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদাউস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার এবং শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনাকে। তারা তিনজনই সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি।

শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবিগুলো হচ্ছে-
*অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং ৩০৫ ও ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধে তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। *প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে তাদের নিজস্ব আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্টের ওপর ভিত্তি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আলাদা যত্ন নিশ্চিত করতে হবে। * কোনোভাবেই কোনও শিক্ষক, শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ এবং অত্যাচার প্রয়োগ করতে পারবে না। *কথায়-কথায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি বন্ধ করতে হবে।* বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মরত সকলের মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মানসিক পরামর্শদাতা থাকতে হবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরামর্শদাতার প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে। *গভর্নিং বডির সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে এবং অরিত্রীর মা-বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য অধ্যক্ষ ও বিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশ্যে ক্ষমতা চাইতে হবে।

প্রসঙ্গত, ০৩ ডিসেম্বর দুপুরে শান্তি নগরের নিজ বাসা থেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, অরিত্রীর বিরুদ্ধে ফাইনাল পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ তুলে তার বাবাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ।

পরে অরিত্রির বাবাকে জানানো হয় তার মেয়েকে টিসি দেওয়া হবে। এসময় প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল ও ভাইস-প্রিন্সিপাল এই কিশোরীর সামনে তার বাবাকে অপমান করেন। টিসি দেওয়ার হুমকি ও বাবাকে অপমান সইতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে।

এদিকে অরিত্রিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার বাবা দিলীপ অধিকারীর মামলার পর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে পল্টন থানায় করা ওই মামলায় হাসনা হেনার সঙ্গে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আখতারও আসামি।

দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারায় করা এই মামলায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। এ ধারায় সর্বনিম্ন শাস্তি দশ বছর কারাদণ্ড, সেই সঙ্গে অর্থদণ্ড। তাছাড়া আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে যাবজ্জীবন করাদণ্ডও দেওয়া যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত