শিরোনাম

অরিত্রির মৃত্যু : ক্ষমা চাইল পরিচালনা কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৫:৫৬, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন স্কুলের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার। তিনি বলেন, ‘আমাদের একজন শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে আমরা সহমর্মিতা প্রকাশ করছি, ক্ষমা চাচ্ছি।’ এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে স্কুলের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তিনি এ ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মর্মাহত। আমরা এ ঘটনায় জন্য অরিত্রীর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চাই।’

অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার (০৬ডিসেম্বর) তৃতীয় দিনের মতো বেশ কিছু ছাত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মূল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে। ছাত্রীরা জানায়, তারা যে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে, তার মধ্যে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। এতে তারা সন্তুষ্ট। বাকি দাবিগুলোরও বাস্তবায়ন চায় তারা। এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের পদত্যাগ এবং অরিত্রির বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য তাঁদের কাছে কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে গোলাম আশরাফ তালুকদার ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি জানান।

পরিচালনা কমিটির সদস্যদের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের বৃহৎ স্বার্থে পদত্যাগ করতে হলে আমি পদত্যাগ করব। পুরো পরিচালনা কমিটির পদত্যাগের বিষয়টি বোর্ডের মিটিংয়ে উত্থাপন করা হবে। তারপর যে সিদ্ধান্ত হয়।’

গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, ‘শিক্ষকদের গ্রেপ্তার বা অন্যান্য বিষয় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলছে। আমিও চাই, এটি আইনগত প্রক্রিয়ায় চলুক। এই ধরনের ঘটনা আইনের প্রক্রিয়ায় আনা উচিত, যেন ভবিষ্যতে কোনো বাবা–মায়ের বুক খালি না হয়।’

কাল ও পরশু পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা ফিরে আসুক। তবে কাউকে জোর করা যাবে না। তারা নিজের ইচ্ছায় পরীক্ষা দিক।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ৬টি দাবির মধ্যে অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়েছে। আমাদের গভর্নিং বডির সদস্যসচিব স্কুলের অধ্যক্ষ মামলার আসামি থাকায় আমরা তাকে পাচ্ছি না। তার এই পদে অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়ে কমিটির মিটিং আহ্বান করবো। সেখানে বাকি সিদ্ধান্ত হবে।’

এর আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রিন্সিপাল (ভারপ্রাপ্ত) নাজনীন ফেরদাউসসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্দেশে বরখাস্ত করা হয় প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদাউস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার এবং শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনাকে। তারা তিনজনই সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি।

শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবিগুলো হচ্ছে-
*অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং ৩০৫ ও ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধে তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। *প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে তাদের নিজস্ব আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্টের ওপর ভিত্তি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আলাদা যত্ন নিশ্চিত করতে হবে। * কোনোভাবেই কোনও শিক্ষক, শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ এবং অত্যাচার প্রয়োগ করতে পারবে না। *কথায়-কথায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি বন্ধ করতে হবে।* বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মরত সকলের মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মানসিক পরামর্শদাতা থাকতে হবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরামর্শদাতার প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে। *গভর্নিং বডির সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে এবং অরিত্রীর মা-বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য অধ্যক্ষ ও বিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশ্যে ক্ষমতা চাইতে হবে।

প্রসঙ্গত, ০৩ ডিসেম্বর দুপুরে শান্তি নগরের নিজ বাসা থেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, অরিত্রীর বিরুদ্ধে ফাইনাল পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ তুলে তার বাবাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ।

পরে অরিত্রির বাবাকে জানানো হয় তার মেয়েকে টিসি দেওয়া হবে। এসময় প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল ও ভাইস-প্রিন্সিপাল এই কিশোরীর সামনে তার বাবাকে অপমান করেন। টিসি দেওয়ার হুমকি ও বাবাকে অপমান সইতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে।

এদিকে অরিত্রিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার বাবা দিলীপ অধিকারীর মামলার পর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে পল্টন থানায় করা ওই মামলায় হাসনা হেনার সঙ্গে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আখতারও আসামি।

দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারায় করা এই মামলায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। এ ধারায় সর্বনিম্ন শাস্তি দশ বছর কারাদণ্ড, সেই সঙ্গে অর্থদণ্ড। তাছাড়া আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে যাবজ্জীবন করাদণ্ডও দেওয়া যাবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত