শিরোনাম

তথ্য যাচাই না করে ফেসবুকে আপলোড-শেয়ার নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৫:৩৬, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, তথ্য যাচাই না করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড বা শেয়ার করা যাবে না। গুজব যেই ছড়াক, আমরা তাদের চিহ্নিত করেছি এবং করছি। যারা এই কাজগুলো করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (০৬ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ‘মিথ্যে রুখে সত্য জান’ শীর্ষক গুজব বিরোধী তথ্যচিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গুজব বা মিথ্যা তথ্য একটি দিয়াশলাইয়ের মতো। দিয়াশলাই কাঠি যেমন মুহূর্তেই জ্বলে উঠে ও বিশাল অগ্নিকাণ্ড ছড়াতে পারে, তেমনি কোনও গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘কিছু দিন আগে ছোট ছোট স্কুলের ছেলেমেয়েরা রাস্তায় নেমে এসেছিল। যদিও তারা একটা সঠিক কারণেই রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু সেটাকে গুজব রটিয়ে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা আমরা দেখেছি।’ ‘যারাই গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছে ও চেষ্টা করছে তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’

গুজবের খারাপ দিকের কথা বলতে গিয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, রামুর কথা আমরা ভুলিনি। আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসির নগরের কথাও ভুলিনি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আন্দোলনের সময় গুজব রটিয়ে কত দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, সেটিও দেখেছি।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের সবাই এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। এর সুফলের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে কুফল বা অপব্যবহারও করা হচ্ছে। অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে যোগাযোগ ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন ফলে বিশ্বে অভূতপূর্ব তথ্য বিপ্লব সাধিত হয়েছে। এটি যেমন সমাজে তথ্যের গতিশীলতা তরান্বিত করেছে তেমনি মিথ্যা তথ্য স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি জলদস্যু, বনদস্যু, জঙ্গি নির্মূলে র‌্যাবের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। র‌্যাব জনগণের একটা আস্থা অর্জন করেছে। গুজব প্রতিরোধেও র‌্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছি।’

অশিক্ষিতরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে : আইজিপি
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, অশিক্ষিতরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। কক্সবাজারের রামুর ঘটনা টেনে তিনি বলেন, রামুতে শুধু গুজবের কারণে আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়েও গুজবে সামাজিক মাধ্যম ভরে গিয়েছিল।সচেষ্ট না হলে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করে দিতে পারে।’

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে : বেনজীর আহমেদ

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, আগামী নির্বাচনকে বিশৃঙ্খল করার জন্য, বানচাল করার জন্য, এক শ্রেণির মানুষ উঠে পড়ে লেগেছে। ক্রমাগত মিথ্যা গুজব প্রচার করার মাধ্যমে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

বেনজীর আহমেদ বলেন, গত দশ বছরে আমাদের দেশে ইন্টারনেট বিপ্লব ঘটে গেছে। প্রায় ৭ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এক শ্রেণির বিকারগ্রস্ত, অসুস্থ, মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত, হতাশ একটা গ্রুপ গত ৩-৪ মাসে ইন্টারনেটে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে এবং রাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা, তাই প্রচার করে যাচ্ছে। ডিজিটাল বিপ্লবের আড়ালে তারা এই সুযোগ নিয়েছে। গুজব ছড়ানোর জন্য এ পর্যন্ত ১৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। যাঁরা গুজব ছড়াচ্ছেন, তাঁওকে দের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। ডিজিটাল মিডিয়াকে ইতিবাচক ভাবে কাজে লাগাব।

ছুরির দুই ধরনের কাজের উদাহরণ দিয়ে বেনজীর বলেন, একই ছুরি চিকিৎসকের কাছে গেলে জীবন রক্ষাকারী আবার ডাকাতের কাছে গেলে জীবন নাশকারী। তিনি বলেন, জঙ্গি ও মাদকের বিরুদ্ধে আমরা ভিডিও চিত্র তৈরি করেছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় গুজব বিরোধী তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো এক ধরনের ফৌজদারি অপরাধ। তথ্যপ্রযুক্তি আইন অনুযায়ী গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাদের শক্ত হাতে দমন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত