শিরোনাম

যুবকদের ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়: পরিবার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি  |  ১৭:৩৩, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের দুদিন আগে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। নিহতরা হলেন-সোহাগ, শিমুল আজাদ ও নূর হোসেন বাবু। তিনজনই ব্যবসায়ী বলে নিশ্চিত করেছেন তাদের পরিবার।

শুক্রবার সকালে উপজেলার পূর্বাচল উপ-শহরের আলমপুরা এলাকার তিন নং সেক্টরের ১১নং ব্রিজের নিচ থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সোহাগ ঢাকার মহাখালীর নিকেতন বাজার এলাকার শহিবুল্লাহর ছেলে। এছাড়া শিমুল ঝিনাইদহ এলাকার আব্দুল মান্নানের এবং নূর হোসেন মুন্সিগঞ্জ জেলার টুঙ্গিবাড়ি থানার পাইকপাড়া এলাকার আ. ওহাবের ছেলে। এদের মধ্যে শিমুল ও নূর হোসেন ঝুটের ব্যবসা এবং সোহাগ ডিস ক্যাবলের ব্যবসা করতেন।

পুলিশ বলছে, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে পূর্বাচল উপ-শহরের আলমপুর এলাকার ১১ নম্বর ব্রিজ এলাকা থেকে ওই তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তদের গ্রেপ্তার বা আটকের কোনো তথ্য রূপগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে নেই।

নিহতরা হলেন- ঢাকার মহাখালী এলাকার শহীদুল্লাহর ছেলে মো. সোহাগ (৩২), মুগদা এলাকার মো. আব্দুল মান্নানের ছেলে শিমুল এবং একই এলাকার আবদুল ওয়াহাব মিয়ার ছেলে নূর হোসেন বাবু (৩০)। এর মধ্যে সোহাগ ও শিমুল পরস্পরের বন্ধু, আর শিমুল ও বাবু সম্পর্কে ভায়রা ভাই।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে পূর্বাচল উপশহরের আলমপুর এলাকার ১১ নং ব্রিজ এলাকায় সড়কের পাশে তিন যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকার লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে ওই এলাকা থেকে তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনেরা রূপগঞ্জ থানায় ছুটে আসেন। তারা স্বজনদের এসে নিহতের লাশ শনাক্ত করেন।

শিমুলের স্ত্রী আয়েশা আক্তার আন্না বলেন, ‘বুধবার বেড়াতে যাওয়ার পথে ডিবি পুলিশ পরিচয় তাদেরকে যাত্রীবাহী বাস থেকে নামিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ ছিল। তারা কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।’ নিহত তিনজনই বন্ধু ছিলেন। তারা রাজধানীতে ঝুটের (ওস্টেজ কাপড়ের টুকরার) ব্যবসা করতেন।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, নিহতদের মাথা ও শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর লাশগুলো যাওয়া হয় ওই এলাকায়। নিহত একজনের পকেট থেকে ৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের স্বজনেরা লাশ শনাক্ত করেছেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক হোসেন বলেন, “সড়কের পাশে তিন যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকার লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ লাশগুলো মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।”

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত