শিরোনাম

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: কে ঠেকাবে টাকা চুরি

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:৪৫, আগস্ট ২১, ২০১৮

দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। নানা রোগ-ব্যাধি নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিনই অসংখ্য রোগী ভর্তি হচ্ছেন এই হাসপাতালে। সরকারি এ হাসপাতালের একশ্রেণির চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দালালদের দুর্নীতি, জালিয়াতি ও হয়রানিতে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। গতকাল সোমবার ঢামেকের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে ভয়ানক এক জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের টাকা হরিলুট করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢামেকে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসাধীন মুক্তি নামের এক রোগীর জন্য ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে ২০ আগস্ট সকালে লাইনে দাঁড়িয়ে ৪৯৮৪৯৯ নম্বরের রশিদের টাকা জমা দেওয়া হয়। তার রশিদের অংশে ৭৫০ টাকা লেখা হয়েছে। আর হাসপাতালের রক্ষিত রশিদে লেখা হয়েছে ১০০ টাকা। আমার ওই পরীক্ষার জন্য যে এন্টি খানায় নাম ঠিকানা উঠানো হয়ে থাকে। সেখানেও কোনো প্রমাণ রাখা বা নাম ঠিকানা তোলা হয়নি। মুক্তিকে গত রোববার পাবনা থেকে ঢাকায় এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্লাড ব্যাংকে পরীক্ষার জন্য লাইন ধরে ব্লাড দিতে হয়। সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা শৃঙ্খলার জন্য দায়িত্ব পালন করেন। তারাও বেশি টাকার বিনিময়ে রশিদ কেটে দিচ্ছিন প্রতিনিয়ত। এভাবে ঢামেকের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে দুর্নীতি-অনিয়ম চলছেই। ভুক্তভোগীরা জানান, এখানে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য, রোগী ভাগিয়ে কমিশনের বিনিময়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া, ওয়ার্ড থেকে শিশু চুরির মতো ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। হাসপাতালের প্রবেশ মুখে লেখা রয়েছে ‘দালাল হতে সাবধান।’ কিন্তু এখানে দালাল ছাড়া কোনো কাজই করা যায় না। সরকারি হাসপাতাল হলেও পদে পদে টাকার খেলা। এখানে কোনো কাজই টাকা ছাড়া হয় না। রাজধানীর এ হাসপাতালের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতির কোনোই পরিবর্তন হচ্ছে না এটাই উদ্বেগের। সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীদের নিদারুণ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানানো হয়েছে, রোগী ভর্তি থেকে শুরু করে তাদের স্ট্রেচারে করে নির্দিষ্ট বিভাগে নিয়ে যাওয়া এবং রোগীদের বেড ও জরুরি ওষুধ পাইয়ে দেয়ায় চলছে টাকার খেলা। জীবন রক্ষাকারী রক্ত পেতে হলেও দালাল ছাড়া কোনো মতেই সম্ভব নয়। এজন্যও গুনতে হয় বাড়তি টাকা। এছাড়া আঘাতপ্রাপ্ত (ইঞ্জুরির) সার্টিফিকেট নিতে হলে লাগামহীন ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয় রোগীদের। টাকা ছাড়া কোনো সার্টিফিকেট দেয়া হয় না। তবে এ ক্ষেত্রে টাকার কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক নেই। আর এই সুযোগে দালাল ও ভুয়া চিকিৎসকদের সিন্ডিকেট জাল সার্টিফিকেটের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। আবার হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে টিকিট কাটতে লাগে ১০ টাকা আর রোগী ভর্তি করতে লাগে ১৫ টাকা। কিন্তু কারো কাছ থেকে টিকিটে নেয়া হচ্ছে ১৫ টাকা। আর ভর্তির জন্য নেয়া হচ্ছে ২০ টাকা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গুরুতর রোগী এলে তার চিকিৎসা শুরু করার আগে বাধ্যতামূলক টিকিট কাটতে হয়। তা না হলে কোনো ডাক্তার সেই রোগীর চিকিৎসা শুরু করেন না। আবার রোগী ভর্তি করতে তাকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওয়ার্ড বয়দের টাকা দিতে হয়। হাসপাতালের স্পর্শকাতর সব বিভাগ ও ইউনিট দাবড়ে বেড়াচ্ছে তারা, যারা হাসপাতালের কর্মচারী পর্যন্ত নয়। সুইপার, বয়, আয়ারা চিকিৎসক হয়ে ভুল চিকিৎসা দিয়েছে এমন ঘটনা খুঁজতে খুব বেশি পেছনে যেতে হবে না। অধিকাংশ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী কোনো কাজ করেন না। তারা বহিরাগতদের কাজ করার সুযোগ করে দেন। রোগীরা বাধ্য হয়েই এসব বহিরাগতদের কাছ থেকে সেবা নেন। রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থই বহিরাগতদের আয়ের উৎস। এসব ব্যাপারে অভিযোগ নেয়ার মতো যেন কেউ নেই।ঢামেকের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের ডা. মাজহারুল হক তপনের সেল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তার সেলফোনটি রিসিভ করেননি। এরপর হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার সঙ্গেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলামের সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাসপাতালের পরিচালক স্যার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা হাসপাতালের দুর্নীতির তথ্য খুঁজছি। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত