শিরোনাম

শিগগিরই বোমারু মিজানকে ফিরিয়ে আনা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৮:১৮, আগস্ট ১০, ২০১৮

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের আটক অপরাধীদের একে অপরের বিনিময় হয়ে থাকে। তিনি বলেন, সেই চুক্তির আওতায় শিগগিরই ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের সন্ত্রাসী বোমারু মিজানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

শুক্রবার (১০আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান খাঁন আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের এক্সট্রাডিশন প্যাক্ট (প্রত্যর্পণ চুক্তি) রয়েছে। আমরা যাকে চাচ্ছি কিংবা তারা যাকে চাচ্ছে, তার কিন্তু আদান-প্রদান হচ্ছে। আমরা সময়মতো তাকেও নিয়ে আসব।’

গত ৬ আগস্ট জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমন ওরফে বোমারু মিজান ওরফে মুন্না ওরফে কাওসারকে গ্রেপ্তার করে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তিনি বাংলাদেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ নেতা।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনআইএ জানিয়েছে, বেঙ্গালুরুর রামনগর এলাকা থেকে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তার বাড়ি তল্লাশি করে বিস্ফোরকসহ বেশ কিছু ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। সে ভারতে লুকিয়ে থাকা জেএমবির শীর্ষ নেতা, যাকে বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর দায়ে খোঁজা হচ্ছিল এবং বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

এনআইএ বলছে, মিজান বুদ্ধগয়ার বিস্ফোরণের মুল পরিকল্পনাকারী। এই বিস্ফোরণ ঘটানোর কাজে বিস্ফোরক দ্রব্য ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করে তাকে সহায়তা করেছে শাহিন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার (০৩ আগস্ট) কেরালার মালাপুরাম জেলার কোট্টাক্কাল এলাকা থেকে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা আব্দুল করিম ও বীরভূমের বাসিন্দা শাহিনকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মিজানের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়। গত শনিবার (৪ আগস্ট) গ্রেফতারকৃত এই তিন জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড দিয়েছে কোচির এনআইএ বিশেষ আদালত।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১৫ মে রাজধানীর কাফরুলের তালতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে বোমারু মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মিজানসহ দুই জঙ্গি নেতাকে নিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশালে পৌঁছালে প্রিজন ভ্যানে হামলা করে জঙ্গিরা। এর মধ্যে পালিয়ে যান মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই তিন জঙ্গি। পরবর্তীতে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) জানায়, মিজান পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান নিয়ে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পরে খাগড়াগড় মামলার আসামি হিসেবে বোমারু মিজানকে ধরতে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ভারত সরকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত