শিরোনাম
ডিএসসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র

আমরা ঠিক থাকলে মাদক থাকবে না

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:২৮, জুলাই ১৭, ২০১৮

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বিদেশে থাকায় ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বাবুলের একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমার সংবাদের প্রতিবেদক ফারুক আলম
আমরা ঠিক থাকলে এ দেশে মাদক নামের বিষফোঁড়া থাকবে না বলে মনে করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বাবুল। তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এরপর র‌্যাব-পুলিশ তৎপর হয়েছে। কিছুদিন খুবই ভালো ছিল অবস্থা। মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজেও পাওয়া যায়নি। এখন অভিযানে ভাটা পড়েছে। আবারও মাদককারবারিরা সক্রিয় হয়েছে।’ গতকাল সোমবার দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন- নগর ভবনে মেয়রের কার্যালয়ে এসব কথা বলেন ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারদলীয় এই কাউন্সিলর। মাদকের প্রাদুর্ভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই ভারপ্রাপ্ত মেয়র বলেন, ‘সত্যি কথা বললে নিজের গায়ে থুতু ফেলতে হয়। আমরা যারা নেতা ও সরকারি কর্মকর্তা আছি আমরা যদি ঠিক হই মাদক থাকবে না এ দেশে। মাদক ব্যবসায়ীদের আমরা হাতেনাতে ধরতে পারি না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বাত্মক সহযোগিতা এখানে জরুরি।’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন বিদেশ সফরে আছেন। এ কারণে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বাবুল। নতুন এই দায়িত্ব পেয়ে আবেগাপ্লুত বাবুল বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পাওয়া আমার বিরাট অর্জন। জীবনে এটি একটি স্মৃতি হয়ে থাকবে।’ ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার সাতদিনে তিনি ঢাকা দক্ষিণের বেশকিছু পরিবর্তনমূলক কাজ করেছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সোয়ারীঘাট থেকে চকবাজার মোড় পর্যন্ত রাস্তায় মেরামত। পরিচ্ছন্ন অভিযান, ড্রেনেস ব্যবস্থা পরিষ্কার, মশানিধন কার্যক্রম, হাসপাতাল পরিদর্শন, রোগীদের খোঁজ-খবর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি ফিরে আনাসহ বেশকিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বাবুল বলেন, সাতদিনে সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালনে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমরা মেয়রের রুটিন কাজ করছি। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি। মেয়র দেশে ফিরলে তার সামনে সেটি উপস্থাপন করবো। ঢাকা দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র মহোদয় (সাঈদ খোকন) উন্নয়নের বিষয়ে খবুই আন্তরিক। এরপরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বড় বড় সিদ্ধান্তগুলো নিতে দেরি হয়। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উপক্রম হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে তিনি সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব হাতে নিয়েছেন। কাজ করতে আর্থিক ফান্ডের প্রয়োজন। ডিএসসিসির এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে গত ৩ বছরে নগরের বেশ উন্নয়ন করেছেন। একটা জায়গায় তিনি এনে দাঁড় করিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটিকে। কাউন্সিলর বাবুল বলেন, নগরবাসীর সেবা বৃহৎ কাজ। ঢাকা শহরে জনসংখ্যা বেশি। সেখানে হাজারো সমস্যা রয়েছে। আমরা নিজেরা ঠিক না হওয়ায় পর্যন্ত এ সমস্যা থেকেই যাবে। মেয়র সাঈদ খোকন পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কিন্তু আমরা নিজেরা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়া সম্ভব নয়। মেয়রের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের ওয়ার্ডের কাজও সমান তালে করছেন জাহঙ্গীর আলম বাবুল। তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার পর আমার ওয়ার্ডের জনগণের সমস্যাগুলো নিয়ে রাতে কাজ করি। বাসায় বসে সার্টিফিকেটের কাজ করে দেই। ভোগান্তির কোনো সুযোগ নেই। পুরান ঢাকার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে এখনো চামড়ার গুদাম রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাবুল বলেন, চামড়া গুদামগুলো স্থানান্তর করতে আরও ৪-৫ বছর সময় লাগবে। নিজের ওয়ার্ডের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের কথা তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম বাবুল বলেন, এই ওয়ার্ডে রাস্তা উন্নয়নে তিন বছরে পৌনে ৪ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। আরও সাড়ে ৩ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ ও বশিরউদ্দিন পার্ক হচ্ছে। তিনি বলেন, ২৯ নাম্বর ওয়ার্ডের ইসলামবাগে মাওলার টেক খরমের টেক নামে একটি জায়গা ছিল সেখানে বর্জ্য ও ড্রেনেস ব্যবস্থা খারাপ ছিল। বর্তমানে সেটি গুলশানের মতো হয়েছে। রাস্তা ও স্যুয়ারেজ লাইন হয়েছে। সেখানকার বাড়ি-ঘর হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতায় চলে এসেছে। এরপরও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সেটি দূর করতে কিছু প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। এসব প্রজেক্টের কাজ শেষ হলে ৯০ ভাগ জলাবদ্ধতা দূর হবে। উল্লেখ্য, নব-নির্ধারিত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডটি আগে ৬৫ নম্বর ওয়ার্ড নামে পরিচিত ছিল। বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে লালবাগ এলাকার একাংশ নিয়ে এই ওয়ার্ডটি গঠিত। এখানে রয়েছে ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা, লালবাগ শাহী মসজিদ। এছাড়াও এই ওয়ার্ডে রয়েছে নানা সংস্কৃতির মানুষ। তার মধ্যে আদি ঢাকাইয়ারা সমাজে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে। এই ওয়ার্ডের পূর্ব দিকে রয়েছে চকবাজার, পশ্চিম দিকে শ্মশান ঘাট, উত্তর দিকে লালবাগ কেল্লা এবং দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদী। এই ওয়ার্ডের মোট আয়তন ১ বর্গ কিলোমিটার।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত