শিরোনাম

আত্মসমর্পণ করেও বাঁচতে পারলেন না রেহানা!

ডিডাব্লিউ  |  ২১:২৬, জুন ১৮, ২০১৮

ময়মনসিংহে গুলিতে নিহত রেহানা বেগমের লাশ পাওয়ার ১৭ ঘন্টা আগে ডিবি তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে তার পরিবার ও প্রতিবেশিরা দাবি করেছেন৷ কিন্তু ডিবি তা অস্বীকার করছে৷ পুলিশ বলছে, রেহানা ছিলেন মাদক ব্যবসায়ী৷

কিন্তু প্রশ্ন হলো, রেহানাকে কারা হত্যা করেছে? জেলা পুলিশ সুপার বলেছেন, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে কারা রেহানাকে হত্যা করেছে৷ ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার ওসিরও একই কথা৷ রেহানা গুলিতে নিহত হয়েছেন৷ তার বুকে গুলির চিহ্ন আছে৷ বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কেনো ‘মাদক ব্যবসায়ী' নারী নিহত হলেন৷

কিন্তু এই রেহানা বেগম ২০১৭ সালের জুলাই মাসে পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিলেন বলে তার প্রতিবেশী সোনিয়া বেগমের দাবি৷ তিনি জানান, রেহানা তখন একটি সেলাই মেশিন পেয়েছিলেন, তা দিয়ে কাজ করেই আয়-উপার্জন করতেন৷

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘‘২০১৭ সালে তিন দফায় মাদকব্যবসায়ীরা আত্মসমর্পণ করেছিলেন৷ প্রথম আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও উপস্থিত ছিলেন৷ আমরা আত্মসমর্পণকারী নারীদের সেলাই মেশিন এবং পুরুষদের রিকশা দেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য৷ তাদের মধ্যে নিহত রেহানা বেগমও ছিলেন৷ দুঃখজনক হলো তাদের অনকেই আসলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরেনি৷ পুরোদমে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলো৷''

রোববার (১৭ জুন) সকাল ৯টার দিকে ময়মনসিংহ সদরের গন্ধ্রপা এলাকার রাস্তার পাশের একটি খড়ের ঢিবি থেকে পুলিশ রেহানা বেগম (৪৫)-এর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে৷ রেহানা থাকতেন সানকিপাড়া বাইলেন এলাকার নিজের বাসায়৷

তার স্বামী আজিজুল হক দু'বছর আগে ক্যান্সারে মারা যান৷ রেহানা বেগম একমাত্র মেয়ে আজেদা বেগমকে নিয়ে থাকতেন৷ লাশ উদ্ধারের পর আজেদা বেগম সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেন, ‘‘সাদা পোশাকে ডিবি'র লোকজন শনিবার (১৬ জুন) ঈদের দিন বিকাল ৩টার দিকে সানকিপাড়া বাইলেন এলাকার বাসার সামনের সড়ক থেকে মা-কে তুলে নিয়ে যায়৷ এর ১৭ ঘণ্টার পর রবিবার সকাল ৯টার দিকে তার লাশ পাওয়া যায়৷ কিন্তু নিয়ে যাওয়ার পর ডিবি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেও আমরা তার খোঁজ পাইনি৷''

তবে এখন আজেদা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে৷ কথা হয় রেহানা বেগমকে নিয়ে যাওয়ার সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী সোনিয়া বেগমের সঙ্গে৷ তিনি ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন, ‘‘ডিবি' ওসি আশিকুর রহমানসহ ডিবির একটি দল রেহানা বেগমকে বাসার সামনে থেকে নিয়ে যায়৷ রেহানা বেগম বাসার সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন৷ আমরাও সেখানে ছিলাম৷

রেহানা বেগমের কাছে তার নাম জানতে চাইলে সে ডিবির সদস্যদের নিজের নাম বলে৷ আমরাও তার নাম বলি৷ তারা গাড়িতে করে আসে৷ রেহানা বেগমকে অটোতে করে নিয়ে যায়৷ দুই মিনিটের মধ্যে তাকে নিয়ে যায়৷ নিয়ে যাওয়ার সময় কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকতে বলে৷ রেহানা বেগম তখন বলে, কেন আমি মুখ ঢাকব? তখন তারা বলে, যাতে কেউ চিনতে না পারে৷''

তিনি দাবি করেন, ‘‘ডিবি'র ওসি আশিকুর রহমান পাঞ্জাবি পরা ছিলেন৷ তাকে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর আত্মীয়-স্বজন তার খোঁজে ডিবি'র সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে৷''

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে এসেও রেহানা বাঁচতে পারলো না৷ তাকে তুলে নিয়ে কোনো পক্ষের ইন্ধনে হত্যা করা হয়েছে৷ এর বিচার চাই৷''

তবে ডিবির ওসি আশিকুর রহমান বলেন, ‘‘রেহানা বেগমকে আমরা তুলে আনিনি৷ ওই দিন ছিল ঈদের দিন৷ আমাদের অনেকেই ছুটিতে ছিলেন৷ তার ব্যাপারে আমাদের কিছু জানা নেই৷ আমি অফিসেই ছিলাম৷''

ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানায় এ নিয়ে একটি হত্যা মামলা করেছে পুলিশ৷ কাউকে আসামি করা হয়নি৷ মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘রেহানা বেগমের বিরুদ্ধে আমাদের থানায় এ পর্যন্দ দু'টি মাদকের মামলা পেয়েছি৷ আরো মামলা আছে কিনা জানি না৷ তিনি গুলিতে নিহত হয়েছেন৷ কিন্তু কয়টা গুলি লেগেছে তা বলতে পারবো না৷ আমরা খবর পেয়ে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘তাকে কারা হত্যা করেছে তার তদন্ত করছি৷ তাকে যে ডিবি'র লোকজন তুলে নিয়ে গিয়েছিল এমন কোনো অভিযোগ তার পরিবার করেনি৷'' ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার দাবি করেছেন, ‘‘ডিবি যে তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল এই অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি৷''

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত