শিরোনাম

রাজধানীতে ইতালীয় নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৯:৩৮, মে ২৫, ২০১৮

রাজধানীর গুলশানের ডিপ্লোমেটিক এলাকায় এক ইতালীয় নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ২০ বছর বয়সী এক যুবককেও গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানার পুলিশ। পুলিশ বলছে, আটক যুবককে ইতালীয় ওই নারীই শনাক্ত করেছেন।

তার নাম মাসুম ওরফে আবদুল গাফফার ওরফে মাসুদ। তিনি বর্তমানে কারাগারেই রয়েছেন। গত ৬ মে দিবাগত রাতে গুলশান এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটলেও ঘটনাটি জানা গেছে বৃহস্পতিবার। ভুক্তভোগী ওই নারী উত্তরার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।

এ ঘটনায় পুলিশ বলছে, ঘটনার দিন মাসুম ওই ফ্ল্যাটের চতুর্থ তলার গ্রিল কেটে ঘরে ঢোকেন। পরে ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকেরা জড়ো হলে মাসুম গ্রিল কাটা জানালা দিয়ে বেরিয়ে যান। যাওয়ার সময় ওই ইতালীয় নারীর ঘর থেকে নেওয়া ব্যাগ ফেলে যান। তবে একটি সানগ্লাস ও ইয়ারফোন নিয়ে যান। পুলিশের দাবি মাসুম একজন পেশাদার চোর।

ইতালীয় নারী তার মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ৬ মে অফিস থেকে গুলশানের বাসায় ফেরেন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে। রাত ৯টার দিকে রাতের খাবার খাওয়ার পর নিজের শয়নকক্ষে যান রাত ১০টায়। এরপর বাসার ভেতর থেকে অস্পষ্ট আওয়াজ শুনতে পান তিনি। কিন্তু বুঝতে পারছিলেন না কোথা থেকে এই শব্দ আসছে? তা জানতে তিনি রান্নাঘরসহ ফ্ল্যাটের অন্য কক্ষেও যান। কিন্তু কাউকে তখন দেখতে পাননি। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।

ইতালীয় ওই নারী বলছেন, রাত একটার দিকে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। তখন শয়নকক্ষে অজ্ঞাত এক পুরুষকে দেখতে পান। ওই পুরুষই তখন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। যুবকটি দেখতে কেমন ছিলেন, সেই বর্ণনাও দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। তার ভাষ্য, ওই যুবকের মুখ ক্লিন শেভড। চুলের রং কালো। পরনে ছিল শার্ট আর প্যান্ট।

এজাহোরে উল্লেখ করা হয়, সেদিন যুবককে শয়নকক্ষে দেখার পর তিনি চিৎকার দেন। কিন্তু তিনি যাতে চিৎকার করতে না পারেন, সে জন্য যুবক তার মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেছিলেন। এরপর যুবকের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে ওই নারীর হাত রক্তাক্ত হয়। এসময় যুবকটি তাকে হত্যারও হুমকি দেন। একপর্যায়ে যুবককে ধাক্কা দিলে দরজা খুলে তিনি শয়নকক্ষ থেকে বের হতে সক্ষম হন। বাসা থেকে ওই নারীর একটি ব্যাগ নিলেও যুবকটি তা গ্রিলের কাছে ফেলে রেখে যান। তবে ওই নারীর সানগ্লাস ও ইয়াফোন নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনার পর ৭ মে ওই নারী বাদী হয়ে গুলশান থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

ইতালীয় ওই নারীকে ধর্ষণচেষ্টার এই মামলায় ১১ মে গ্রেপ্তার করা হয় মাসুম ওরফে আবদুল গাফফারকে। পরদিন ১২ মে আসামিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে (সিএমএম) হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থলে আশপাশের বিভিন্ন বাসার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় (সিসি ক্যামেরা) ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সেখান থেকে সন্দেহভাজন আসামির ছবি পর্যালোচনা করা হয়। এর ভিত্তিতে আসামি মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি একজন পেশাদার গ্রিল কাটা চোর। তার বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। গুলশানের ডিপ্লোমেটিক এলাকায় ঢুকে একজন বিদেশি নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে বিরুপ প্রভাব ফেলেছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য আদালত আসামি মাসুমকে দুই দিন পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সালাহউদ্দিন মিয়া জানান, খবর পেয়ে সেখানে যাওয়ার পর তারা দেখেন ওই যুবক বাসার গ্রিল কেটে জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেছিলেন। ঘটনার পরপরই তিনি ওই জানালা দিয়ে বেরিয়ে যান। আসামি মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয় বাড্ডা এলাকা থেকে। তার বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। আসামি পেশাদার গ্রিল কাটা চোর।

ইতালীয় ওই নারীর মামলার তদন্ত শেষে শিগগিরই আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন মিয়া। আদালতে পুলিশ একটি প্রতিবেদন দিয়ে বলছে, আসামি মাসুম জানিয়েছিল, তার বাড়ি বাগেরহাটে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তার বাড়ি পিরোজপুরে। আসামি একজন ভবঘুরে। একজন পেশাদার অপরাধী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত