শিরোনাম

এক পুলিশ কনস্টেবলের ৩ বার জন্ম!

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া  |  ১৬:৩৮, এপ্রিল ০৪, ২০১৮

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পাহাড়পুর কমলাপুর এলাকায় মোছাম্মদ আসমা খাতুন তার জন্ম নিবন্ধনে তারিখ এক আর ন্যাশনাল আইডি কার্ডের জন্ম তারিখ আর এক রয়েছে। শুধু তাই নয় তার বিয়ের কাবিননামায় জন্ম তারিখ ভিন্ন। আসমা খাতুন তার জন্ম নিবন্ধনে জন্ম তারিখ উল্লেখ করেছেন ৩০শে জুন ১৯৯১ইং। ন্যাশনাল আইডি কার্ডে তার জন্ম তারিখ রয়েছে ১৫ অক্টোবর ১৯৯৪ইং। এমনকি তার বিয়ের কাবিননামায় জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৩ই মার্চ ১৯৯৪ইং।

জন্ম নিবন্ধন সূত্রে জানা যায়, আসমা খাতুন পিতা ইসরাইল হোসেন, গ্রাম পাহাড়পুর, পোস্ট কমলাপুর, থানা কুমারখালী, জেলা কুষ্টিয়া। জন্ম নিবন্ধন নং ১৯৯১৫০১৭১২৫০৫৮১৩২। ইস্যু তারিখ ২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০১৬ইং। জাতীয় পরিচয় পত্রে নাম মোছাম্মদ আসমা খাতুন, স্বামী মোঃ জাহিদ হোসেন, জন্মতারিখ ১৫ অক্টোবর ১৯৯৪ইং। জাতীয় পরিচয় পত্র নং ১৯৯৪৫০১৭১২৫০০০২৪৬।

সর্বশেষ তার বিবাহ কাবিননামা জন্ম তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৩ই মার্চ ১৯৯৪ইং। বিবাহ রেজিস্ট্রি তারিখ ৩০শে মে ২০১৩ইং। মোছাম্মদ আসমা খাতুন কুমারখালী উপজেলার চাপড়া গ্রামের শাহ আলম বিশ্বাসের ছেলে সিরাজুল ইসলামকে বিবাহ করে। এইসব তথ্য গোপন রেখে আসমা খাতুন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর কনস্টেবল পদে আবেদন করেন ২০১৪ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর। নিয়োগের তারিখ ১৮ই অক্টোবর ২০১৪ইং।

একটি সূত্র জানায়, পুলিশ কনস্টেবলের অবিবাহিত মেয়েরা আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু আসমা খাতুন বিবাহিত হয়েও কিভাবে এই চাকরি পেল এই প্রশ্ন রয়েই গেল ? এই বিষয়ে নিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন চাকরির বয়স যদি ২০ বছর হয় তবুও চাকরিতে যোগদানের আগে বিবাহ করেছে এমন প্রমাণ হলে সে চাকরি হারাবে।

এ বিষয় নিয়ে আসমা খাতুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আপনি এ বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন করলে আমার বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। আমার স্বামী আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যান।

আসমা খাতুন আরও জানান, আমার একটি ৬ মাসের বাচ্চা রয়েছে। আমি চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনে এখন কর্মরত রয়েছি। আমার বাবা একজন দরিদ্র কৃষক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত