শিরোনাম

ফরিদপুরে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে খুন, স্বামী আটক

ফরিদপুর প্রতিনিধি  |  ১৬:১৬, জানুয়ারি ১৯, ২০১৮

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন পশ্চিমপাড়া গ্রামে পাষন্ড স্বামী সাইফুল ইসলাম সাদ্দামের হাতে খুন হন ডুমাইন রামলাল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী মারুফা আক্তার।

বিয়ের চার মাস পর ঘাতক স্বামীর হাতে প্রাণ হারালেন মারুফা আক্তার (১৬)। বৃহস্পতিবার রাতে মারুফাকে গলাটিপে হত্যা করে পাষণ্ড স্বামী সাইফুল ইসলাম সাদ্দাম। হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়রা ঘাতক সাদ্দামকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিগত চার মাস আগে মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মৃত আহম্মদ আলী শেখের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাদ্দামের সঙ্গে বিয়ে হয় ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন গ্রামের মৃত জাফর শেখের মেয়ে মারুফা আক্তারের।

বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করতো স্বামী সাদ্দাম। বিষয়টি উভয় পরিবারই জানতো। কয়েকদিন আগে মারুফা তার বাবার বাড়িতে চলে আসে। তিনদিন আগে সাদ্দাম মারুফাদের বাড়িতে আসে।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সাদ্দাম স্ত্রী মারুফাকে গলাটিপে হত্যা করে। পরে মারুফার লাশটি গলায় ওড়না পেচিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। পাশের রুমে থাকা মারুফার মা দিপালী বেগম মেয়ের লাশ ঝুলতে দেখে চিৎকার শুরু করলে আশ পাশের লোকজন এগিয়ে আসে।

এসময় সাদ্দাম পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মারুফার লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় এবং ঘাতক সাদ্দামকে আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম মারুফাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

নিহতের মা দিপালী বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে নির্যাতন করতো সাদ্দাম। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার দুই পরিবারের সদস্যদের সাথে কথাও হয়। আমার মেয়ের উপর আর কোন নির্যাতন হবে না এ মর্মে সাদ্দাম আমাকে আশ্বস্ত করে।

লাশ উদ্ধারের পর স্থানীয় এলাকাবাসী কামরুজ্জামান, কামাল, সেলিম, শহিদুল ইসলাম, আবু বক্কর, ইব্রাহিম জানান, মারুফার মায়ের চিৎকার শুনে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এ সময় মারুফাকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় দেখতে পাই। মারুফার গলায় এবং শরীরের কয়েকটি স্থানে আঘাতের চিহৃ দেখা গেছে। সাদ্দাম পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে তাকে ধরে পুলিশে দেয়া হয়েছে।

নিহতের চাচা কামাল জানান, সাইফুল ইসলাম সাদ্দামকে প্রধান আসামী করে মধুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ খুরশিদ আলম মাসুম বলেন, আলামত দেখে মনে হয়েছে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার দাবি করি।

মধুখালী থানার পরিদর্শক মেঃ. মিজানুর রহমান বলেন, নিহতের লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রির্পোট না আসা পর্যন্ত প্রকৃত ঘটনা বলা যাচ্ছে না। ঘটনার পর স্বামী সাদ্দামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত