শিরোনাম

তালায় অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি

প্রিন্ট সংস্করণ॥ এএইচ জুয়েল, তালা (সাতক্ষীরা)  |  ০২:৪৪, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

জেলার তালায় বাঙের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তালা হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সামনে অবস্থিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো কোনো প্রকার সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই অবাধে পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন সময় তাদের পক্ষে সদর হাসপাতাল ও ক্লিনিকে গিয়ে ভিড় জমায় রোগী টানতে। অভিযোগ রয়েছে, ডাক্তারদের সাথে রয়েছে সেন্টারগুলোর ব্যাপক সখ্যতা। ডাক্তাররাও কারণে অকারণে বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য পাঠান তাদের কাছে। সূত্র জানায়, তারা রোগী প্রতি সেন্টারগুলো থেকে নিয়মিত কমিশন পেতেই মূলত তাদের কাছে রোগী পাঠান। তবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কোনো অভিজ্ঞ ডাক্তার বা টেকনিশিয়ান না থাকায় প্রায়ই তারা ভুল রিপোর্ট দিয়ে থাকেন। অভিযোগে প্রকাশ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলতে ৯টি শর্তের অধিকাংশই তাদের নেই। শর্তগুলো হচ্ছে, সেন্টার বা প্রতিষ্ঠানের চুক্তিনামা কাগজপত্র, ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স, ইনকাম ট্যাক্স, সেনেট্যারির প্রত্যয়নপত্র, ল্যাবের জন্য অভিজ্ঞ ডাক্তার, এক জন টেকনিশিয়ান, আয়া এক জন, সুইপার এক জন ও জেলা সিভিল সার্জন থেকে অনুমতি পত্র। অভিযোগে আরো জানা যায়, তালায় এধরণের মোট ৫ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। সেগুলো হল, সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কপোতাক্ষ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, তালা ডায়াগনস্টিক ও জনসেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সরেজমিন দেখা যায়, কোনো সেন্টারেই কোনো ডাক্তার নেই। নেই কোনো অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান, নেই আয়া, সুইপার। এই অসংখ্য নেই এর ভিড়ে চলছে তালার ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো। এব্যাপারে উপজেলা সেনেট্যারি ইন্সপেক্টরের পরিদর্শন বা তদারকির কথা থাকলেও তিনি কোনো কাজই করেন না। এতে করে সেন্টারগুলো এক প্রকার অবাধে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালে আগত রোগী সাধারণ বা হাসপাতালের বাইরে ডাক্তারদের বিভিন্ন প্রাইভেট প্র্যাকটিশনারের কাছে আগত রোগীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রয়োজনের বাইরেও ডাক্তাররা অহেতুক তাদেরকে বিভিন্ন পরীক্ষার নামে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে পাঠিয়ে দেন। তবে সে রিপোর্টগুলোর অধিকাংশই কোনো কাজে না আসায় তা ভুল কিংবা সঠিক তা খতিয়ে দেখা হয়না। ইতোপূর্বে পুরুষ রোগীর ইউরিন পরীক্ষাতেও এসেছে আকাশ কুসুম রিপোর্ট। যেমন, পুরুষের রিপোর্ট হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় মহিলার আর মহিলার রিপোর্ট পুরুষের হাতে। আর বিপত্তিটা মূলত সেখানেই। ওই রিপোর্টে দেখা যায় পুরুষ ব্যক্তিকেই অন্তঃসত্ত্বা দেখানো হয়। আর এতে রীতিমত বিপাকে পড়েন উভয় রোগীই। এব্যাপারে কপোতাক্ষ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্ত্বাধিকারী মো. আব্দুস সামাদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, তারা নতুন মানুষ তাই আইন কানুন সম্পর্কে তারা অতটা জানেন না। এলাকাবাসীর প্রশ্ন যারা নিয়ম নীতির কিছুই জানেন না, তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো খুললেন কীভাবে? আর খুললেও তা এখনো টিকে আছে কী করে? সততা ডায়াগনস্টিকের মালিক শরিফুল ইসলাম জানান, তাদের অভিজ্ঞ ডাক্তার রয়েছেন তবে তাৎক্ষণিক তার নাম বলতে পারেননি। জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পলাশ শেখ জানান, তার অভিজ্ঞ ডাক্তারের নাম যিষ্ণু পদ মুখার্জী। তবে বাস্তবতা বলছে, যিষ্ণু পদ মুখার্জী সরকারি হাসপাতালের একজন অবসর প্রাপ্ত ডাক্তার। তিনি খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে তার একটি নিজস্ব ক্লিনিক পরিচালনা করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত